somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কথোপকথন-১ (দ্বৈত আবৃত্তির জন্য)

১৯ শে অক্টোবর, ২০১৬ সকাল ১১:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছেলেঃ
বড় বিস্ময় লাগছে! বড় বিস্ময়!
সৃষ্টির এ এক অপূর্ব লীলা!
এই যে তুমি আমার পাশে –হাসছো,
কাঁকনে রিণি রিণি ঝংকার তুলছো,
গুণগুণ করে গানের কলি ফুটিয়ে চলেছো-
আমার পৃথিবী মূহুর্তে রঙ্গিন হয়ে উঠছে।

তোমার ছোঁয়ায় জীবন ফিরে পায়
মুমুর্ষ পৃথিবীর ক্লান্তিকর মূহুর্তগুলো,
আর আমি- ফিরে পাই হারানো সুর ও ছন্দ,
হাজার বছর বেঁচে থাকবার উদ্দীপনা।
আসলে মেয়েরা খুব ভালো।

মেয়েঃ
ভালো না ছাঁই। অন্যকে বড় করে দেখবার
সহজাত প্রবণতা তোমার। আর তাতেই
আমাকে এমন বড় করে দেখছো। আর সুর?
আমার বীণার তারে তোমার করস্পর্শ ছাড়া
সুর ওঠে কই? সে সুরের শ্রষ্টা তুমি নিজেই।

আসলে তোমার কাছে এলেই-
আমি খুজেঁ পাই জীবনের অর্থ। স্পন্দনহীন এই আমি
হয়ে উঠি সুর ও ছন্দের আঁকর।
ছেলেরা যে এত বিশাল- তোমার কাছে আসবার আগে
আমি কখনো এমন করে বুঝিনি।

ছেলেঃ
এই যে বাগানে ফুল দেখছো- নানান রঙের
ওই যে আকাশের ঐ কোনটা রঙিন হয়ে উঠেছে
ঐ যে প্রজাপতিটা-
ফুরফুরে হাওয়ায় মেলে দিয়েছে রঙিন পাখা
লাল টকটকে ফুল ফুটেছে শিমুল ডালে।
চারিদিকে এত রঙের ছড়াছড়ি। এর উৎস কোথায় জানো?
তোমার হৃদয় ছূঁয়ে
নিজেকে অমন করে রাঙিয়ে নিয়েছে ওরা সবাই।

মেয়েঃ
ওই যে আকাশ দেখছো- পরম নির্ভরতায়
নিবিড় করে ঘিরে রেখেছে বসুন্ধরাকে।
অনাবিল হাসি ছড়িয়ে দেয় চাঁদ-
আকাশের বুকে।
পাতাগুলো কী নিবিড় সবুজ! ঠাঁই দিয়েছে ফুলগুলোকে।

ওরা এমন নিবিড় মমতায়
বুকে ঠাঁই দিতে পারে। কেমন করে জানো?
তোমার খোলা হৃদয় ওরা সবাই দেখতে পায়;
তাই তো নকল করে ঠিক তোমারই মতো।

ছেলেঃ
চাঁদকে বুকে ঠাঁই দিয়ে আকাশ ধন্য হয়।
মূলতঃ চাঁদটাই মূখ্য।
চাঁদহীন অমাবশ্যার আকাশের দিকে
কেউ কখনো ফিরেও তাকায় না।

মেয়েঃ
আকাশকে বাদ দিয়ে চাদেঁর কল্পনা?
বৃক্ষহীন এখানে একটা ফুলের মতো-
যনভাস বিহীন একটা সুন্দর ছবির মতা-
বাস্তবে যার ফুটে ওঠাই অসম্ভব।

ছেলেঃ
আসলে আমি যে আমারে মত করে
ফুটে উঠবার চেষ্ট করি-
তার একমাত্র প্রেরণা তুমি।
যে সৌন্দর্যের মোহ আমাকে প্রতিনিয়ত
টেনে আনে পূর্ণতার পথে-
একমাত্র তোমার সান্নিধ্যেই আমি
তাকে অনুভব করি।

আর তাই, তুমি ছাড়া আমার
সৌন্দর্যও নেই, পূর্ণতাও নেই।
সুতরাং তোমাকে ঘিরেই পৃথিবীর সব আয়োজন
-এ কথা নির্দিধায় বলা যায়।

মেয়েঃ
আমার চিত্রপটে যে সৌন্দর্য
প্রতিনিযত ধরা দেয় তুলির টানে
-তার একমাত্র ভাষ্কর তুমি।
আমার বীণার তারে সুর কে তোলে?
কে কাঁটে আঁচড় আমার চিত্রপটে?

আমি তখনই শুধূ আমি হয়ে উঠি
যখন তুমি এসে দাঁড়াও পাশে।
চারিদিকে সুরের ঝংকার ওঠে-
আকাশ আর পৃথিবী জুড়ে সৌন্দর্যেরা ধরা দেয।
সুতরাং তোমারই জন্য পৃথিবীর সব আয়োজন
এ কথা অস্বীকার করি কী করে?
ছেলেঃ
থাক আর বিতর্ক নয়।
দেখো- এতক্ষণে আমাদের বিতর্কে
পৃথিবীর মুখ কেমন মলিন হয়ে উঠেছে।
চারিদিকে আঁধার নামছে।
সব রং কেমন ফিকে হয়ে আসছে।
তার চেয়ে চলো আমরা আগের মতো হয়ে যাই-
আমি ছেলে- তুমি মেয়ে।

মেয়েঃ
পৃথিবীর সব আনন্দই যেখানে মাটি হতে চলেছে
সখানে আর প্রয়োজন নেই-
ভারী ভারী কথার ভাঁজে নতুন পরিচয় খুঁজবার
তার চেয়ে অনাদীকালের পরিচয়ই হোক
আমাদের শেষ পরিচয়-
আমি মেয়ে- তুমি ছেলে।

ছেলে ও মেয়ে (এক সাথে)ঃ
ভালবাসি মাটি, ফুল, পাখি, জোৎস্নার আলো
ভালবাসি পাখির কাকলী ফুলের সুবাস
ভালবাসি রূপ-লাবণ্যে ভরা
প্রাকৃতিক এ পৃথিবীর আলো-ছায়ার বৈভবে
জনম জনম ধরে এমনি বেঁচে থাকা।

এসা তবে বন্ধ করি আমাদের এ মরণ খেলা
পৃথিবীকে ফেরাই
অনিবার্য ধ্বংসের দূয়ার হতে।
সম্মিলিত কণ্ঠে ধারণ করি
সৃষ্টির আদীমতম উপলব্ধি-
ছেলেরা ছেলে -মেয়েরা মেয়ে।।
-------০০-------
কবিঃ মোঃ ইফতেখার হোসেন
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৬ সকাল ১১:৫৯
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডায়োজেনিস সিন্ড্রম

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১২:০১



ডায়োজেনিস সিন্ড্রমে আক্রান্ত মানুষের ঘর

আমার একজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের কিছু অদ্ভুত আচরণ দেখে বুঝতে চাচ্ছিলাম যে তার এমন আচরণ কোনো মানসিক সমস্যা কিনা। তার আচরণের বর্ণনা দেই ইন্টারনেটে, আর তখন জানতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-৩০)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১:০৩



সূরাঃ ৩০ রূম, ৩২ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩২। যারা নিজেদের দীনে মতভেদ সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে।প্রত্যেক দল নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে উৎফুল্ল।

সূরাঃ ৩০ রূম, ২৯ নং... ...বাকিটুকু পড়ুন

হামে শিশুদের মৃত্যুর দায় ডঃ ইউনুস গভার্নমেন্টের

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১:০৪

ইউনিসেফ হামের টিকা কেনার জন্যে গত তত্তবধায়ক সরকার প্রধান ড' ইউনুসকে বারবার অনুরোধ করেছিলো। আমরা এখনো ইউনুস স্যারের উত্তর পাই নাই। কিন্তু, প্রশ্ন হচ্ছে, ইউনিসেফকে প্রধান উপদেষ্টা পর্যন্ত যেতে হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাশূন্যের অন্তহীন দিগন্তে: আগামীর মহাকাশ গবেষণা, মানবসভ্যতা এবং আল কুরআনের বিস্ময়কর দিকনির্দেশনা

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৫৫

মহাশূন্যের অন্তহীন দিগন্তে: আগামীর মহাকাশ গবেষণা, মানবসভ্যতা এবং আল কুরআনের বিস্ময়কর দিকনির্দেশনা

ছবি অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

ভূমিকা:

মানুষ যখন প্রথম আকাশের দিকে চোখ তুলে তাকিয়েছিল তখন সেই বিশাল নীলিমা তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুগে যুগে সারদা দেবী

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৯



নদীর নাম রুপসা।
জীবনানন্দ দাশ তার কবিতায়ও রূপসা নদীর কথা বলেছেন। এই নদীতে স্নান করেছেন- রবীন্দ্রনাথের মা এবং স্ত্রী। বর্ষাকালে রুপসা নদী যেন যৌবনে ফিরে যায়। কি তেজ! কি জলের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×