somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হারানো জীবন থেকে

১৬ ই এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৪:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



০১
এ যে গোপন এতই যতটুকু যায় বোঝা
সবটুকু মনে হয় বুঝেছি জেনেছি ;তবু
বারবার দেখা দরকার
পলকের পূর্বের রহস্য তার ।।

এমনি সে গোপন গুঞ্জনা
বাণ হয়ে যেন কোথা থেকে
এসে কোথা হয়ে চলে যাবে !
কিছু বাতাসে মেলেবা চিহ্ন
কিছু আক্ষেপ বুঝিবা নিশ্বাস
তারা আসে না ,যায় না
অবস্থিতি হয় নাই তার
শুধু জানি যতটুকু চোখের সামনে
বা অলক্ষ্যে অগম্য অঞ্চল
দেখা না দেখা ,ছায়া আলো খেলা
পর্দা নাকি তার অন্তরাল ।।
পলক অপলক থাকি নাই ;
কখনও?হেঁটে যেতে যেতে
পর্দা শরীরে শরীরে শেষ হয়ে গেছে ;এত আলো এত ছায়া !

স্মৃতি সব নাই ,কুয়াশা জীবন
দেখতে পেয়েছি এখন ,গোপন তখন ।


০২
এই শহর জানালার কাঁচ থেকে ঝাপসা থাকুক তবু
লেখার অলস টেবিল কখন ভেসে ভেসে,ছেলেবেলার
কিছু দৃশ্যের এপারে বসিয়েছে ,খুব অসঙ্গত যদিও
একেবারেই তেমন কিছুই না ,কিছুই নয় । শুধু যেন
একান্ত আবদারে কোনে পুরাতন উপস্থিতি।

সত্যি তেমন কিছু না
কছু-পাতা পানি, ঝিরঝির অন্ধকার আমবাগানে
একটি সামান্য দূর্বার সহজ সবুজ হয়তো ...

দুইটি জানালার কোনটি স্পর্শ করতে দেয়নি !!

কিছু ব্যাঙের ডাক হয়তো
অহেতুক সময় চলে যাওয়া
ধ্বনি
আমি মানি আর না মানি
কি জানি তবু ঘ্যাঙ্ঘ্যান
এতদিন পরেও ,
নগরেই শুনি।

যারা শহুরের বৃষ্টি ঝঞ্জাট বিপরীত ঝাপসা জানালার কাঁচ
ভাসাভাসা টেবিল থেকে কচুক্ষেতের জঙ্গল;
সমস্ত জীবন
জানালা জানালা অজস্র,এপাশ এপাশ অজস্র ,অজস্র ওপাশ ।

সঙ্গীতের দাম তারা বেজাই হেঁকেছে ,হাকুক
ভীম-পল্লশ্রী ,বাতায়ানারণ্ণ্য সম্মীলন মেঘাশ্রু
কেনার মোহর-ঘড়া;লাঙলে হৃদয়-ফলা আছে
দেখনি ?

একটি পরিচিত দূর্বার সরল আনন্দ হারিয়ে ফেলেছি
খুব বেশি কিছু তো নয় ,একেবারেই বেশি কিছুই নয়...

প্রিয়ার সঙ্গীত বা মধুভাষন নয়,
সন্ধ্যা বিদায় পুর্বলগ্নে
জলঢালা আকাশের নিচে চন্দ্রনকশী
আমবাগানে মৌ-অলীক একটু আঁধারে
আর একটু বলেই দেই,
জলতৃপ্ত আপন ডোবায় কিছু ব্যাঙের বেসুরো চিতকার হারিয়ে হয়তো চলে গেছে
পঁচিশ বছরের দূর্গম্য পাচিলের ওধারে
কখনো পচিশ বছর পর অচেনা জানালা অচেনা সময়
চেনা মানুষের অচেনা অস্তিত্ত্বে ।।
জানালা থেকে জানালা
কাঁচ থেকে কাঁচ
সময় থেকে সময়
খুব বেশী কিছু নয় ,একটি জলায় পাঁচটি নতুন পাতা
আমাকে সেইসব ,সেইসব কিছুই স্পর্শ করতে দেয়নি
জানালা জানালা স্থির বিপরীতে
কাঁচ কাঁচ হয়ে আছে
সময় হয়েছে শুধুই সময়।

০৩
কতকাল আগে গ্রীষ্মকালে
বাড়ির জমাট দাওয়াই শুয়ে
রাত রাত ,অন্ধকার । অন্ধকারে
তবু কালো ছায়া ,ছায়া আমগাছ ছিল
উঠোনের এক কোণে;বাতাসে গন্ধে বলছিল কথা
মুকুলের মৌ মৌ ঘ্রাণে ...
কে ?

স্বপ্ন বুঝিবা এতকাল পরে জেগে দেখি
তবু সেসব স্বপ্ন তো নয়!
হলুদ চাঁদ কিছু বলছিল ,আরও কত কি! জানিনা ।

শৈশবের সব গল্প বলতে পারলে
কেউ কি কখনও বড় হত?

এমন সময় যখন ;তখন একটি চিল বা একার অচিন অন্য কোন পাখি
নাই আলো নাই অন্ধকারে ;স্বপ্ন স্বপ্ন গাছ-পাতার রূপালী অবসরে । মাখি
হলদে চাঁদে গেল।
তাতে পৃথিবীর নেই ভ্রুক্ষেপ ,
আমারই বা ,
তাতে সঙ্গতি আছে !

তবু বা চিল চলে গেল
আরও দূরে হলদে চাঁদের দেশে
গ্রামের শেষের মাঠের পরে নয় ,বালকের হাতে নয় ,আকাশের পরে নয়
কোথায় সে থামবে ?
এইসব জিজ্ঞাসান্তে বুঝি শৈশব শেষ হয় ?
থামেনি ,আসেনি ,পাইনি
হারিয়েছি।

ছাদের ঘরে রাত কাটানো রাত দেখা
অজস্র তারা যেন কতদূর
প্রশান্তি সমীরণ বুঝিবা তারা আনে

তারপর কতদুর চিল
কতদুর তারা
কত সহজেই কিছু দিন চলে যাওয়া
কত সহজেই ভালবেসে ফেলা
কত সহজেই ভুলে যাওয়া
আবিষ্কারের আল্পনা
যাই হোক ! সেসব তো আর তেমন কিছু না ।
আরও দূর থেকে দূর ,চিল কিংবা সবুজ কোন সরলতা
রাত্রের মায়াপুরী থেকে,দিবসের বেশী স্বচ্ছতা
যেদিন চিরতরে আড়ি নিয়েছে
একটি দূর্বা বা চিলের সাথে বন্ধুত্ব চুকে গেছে
সেদিন থেকেই অনেক জানালায়
ওদের দেখেছি ,দেখছি
সব টেবিল ভেসে আসে জানালার এপাশে
কখনও বুঝিবা দরজার কাছে যেতে নেই
কে জানে দরজা জগতেই নেই
খুঁজিনি।

যেমন কাঁচ স্পর্শ করা যায় না
যেমন সময় শুধু সময় হয়ে যায় ।।

কিছু সন্ধ্যা রুপকথা একা একা
কিছু চিল হলদে আলোয় একা একা
জানালার ওপাশে এসে বলে ,
এ যে গোপন এতই যতটুকু বোঝা যায়
সবটুকু মনে হয় বুঝেছি জেনেছি
তবু বারবার দেখা দরকার
পলকের পূর্বের রহস্য তার ।।
সব এসে যদি জমে
বন্ধ ঘরের কোণে
পুরাতন আসবাবে ,ওধারে রহস্য সন্ধান
স্মৃতি সব নাই ,কুয়াশা জীবন
দেখতে পেয়েছি এখন ,গোপন তখন।।
০৬।০৪।২০১৪
শিবগঞ্জ
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের শাহেদ জামাল- ১০০

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৮



মাঝে মাঝে খুব অবিশ্বাস্য ব্যাপার সহজ ভাবে ঘটে যায়।
এই যে আমি শাহেদ। শাহেদ জামাল। রমিজ উদ্দীনের ছেলে। আমাকে একটা ঘরে বন্ধী করে রাখা হয়েছে। ছোট ঘর। ঘরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২



শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

গতকাল এক বাবার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে একটি মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল যৌন নিপীড়ন করেছেন। বাবার প্রতিক্রিয়া সঠিক ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনেকটা পথ হেঁটে এসেছি

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:০৫




১৯৯৭ সাল।

আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ি।

স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মামুন ভাইয়ের একটা অডিও ক্যাসেটের দোকান ছিল। পাশেই মির্জা ভাইয়ের কনফেকশনারি। টিফিনের সময় ওখানে প্যাটিস খেতাম।

সেই সময় অডিও ক্যাসেটের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশটাতো এখন রাজাকারদের....

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৮




একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বাদী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী (৮৭)। মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রস্তুতি চলার সময় জামাতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×