somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

এইযেদুনিয়া
পেশায় শিক্ষক হলেও নেশায় লেখক ও পর্যটক। ''ভালো আদর মন্দ আদর''(২০১৩) তাঁর প্রকাশিত প্রথম বই

এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়

১৪ ই জুন, ২০১৪ সকাল ৮:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কৌতুক করে বলা হয়ে থাকে, প্রথম সারির মেধাবী শিক্ষার্থীরা ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হয়ে থাকে। মাঝারি মানের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে থাকে এবং তারাই প্রথম সারির শিক্ষার্থীদের পরিচালনা করে।তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা রাজনীতিতে প্রবেশ করে মন্ত্রী হয় এবং এদের কথায় আগের দুই শ্রেণির শিক্ষার্থীরা উঠ বস করে।আর যেসব শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণই হতে পারে নি, তারা আন্ডারগ্রাউন্ডে গিয়ে উপরের সবাইকে নিয়ন্ত্রণ করে।শুধু এই কৌতুকটিই বা কেন, রাজনৈতিক নেতা বা মন্ত্রীদের নির্বুদ্ধিতা নিয়ে আরো কত রকম যে কৌতুক আছে!কৌতুকের জগত থেকে বেড়িয়ে বাস্তবতার দিকে একটু চোখ মেলে তাকালেই টের পাওয়া যায়, রাজনীতি আজ কোন স্তরের ব্যক্তিদের হাতে কুক্ষিগত, রাজনীতিতে মেধাবীদের অবস্থান কোন জায়গায়। বিভিন্ন সমাবেশে রাজনৈতিক নেতারা প্রায়ই তরুণদের প্রতি বেশ গালভরা বাণী শুনিয়ে থাকেন, ‘’এই তরুণেরাই ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্ব দেবে,দেশের হাল ধরবে, ইত্যাদি, ইত্যাদি।‘’ কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। মেধাবী তরুণেরা নয়, বরং দেশের ভবিষ্যত নে্তৃত্ব উঠে আসছে পরিবারতন্ত্রের হাত ধরে নয়ত এককালের ছাত্রনামধারী টেন্ডারবাজ অছাত্রদের মাঝ থেকে।আর এভাবেই দেশের রাজনীতিতে মেধাবী তরুণদের অংশগ্রহণের খরা চলছে বছরের পর বছরে ধরে।দেশ বঞ্চিত হচ্ছে ভবিষ্যত যোগ্য নেতৃত্ব থেকে, রাজনীতি হচ্ছে কলুষিত।
দেশের এমন করুণ পরিস্থিতিতেও তরুণদের মাঝে রাজনীতি নিয়ে দেখা যায় আশ্চর্য ধরনের নির্লিপ্ততা। যেন তাদের কিছুই করার নেই। ফেসবুকে তরুণদের প্রোফাইলে প্রোফাইলে ঘুরে একটি বাক্যই চোখে পড়ে খুব ‘’I hate politics’’। কিন্তু কেনই বা তরুণদের এই রাজনীতি বিমুখতা?এই নিয়েই কথা হল বেশ কয়েকজন তরুণের সাথে। রাজনীতি নিয়ে তাদের বেশিরভাগেরই কোন আগ্রহ নেই বলে জানালেও কথা বলতে গিয়ে দেখা গেল, দেশ ও রাজনীতি নিয়ে তারা বেশ ভালই ভাবেন।তাদের কাছ থেকেই জানা গেল, রাজনীতির কোন দিক গুলো তারা ঘৃণা করেন, কেনই বা তারা রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন, কীভাবেই বা আসবে পরিবর্তন, তারা নিজেরা কিভাবে কাজ করতে চান।চলুন সেসব সম্পর্কে জানা যাক তাহলে।

বর্তমান রাজনীতির কোন নেতিবাচক দিকটির পরিবর্তন চায় তরুণেরা?
[
বিএম কলেজের (বরিশাল) ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নুরে আলমের মতে বর্তমান রাজনীতিতে সুস্থতা বলে কিছু নেই।এখন শুধুই প্রতিহিংসা, হানাহানির রাজনীতি চলছে।সদ্য মাস্টার্স শেষ করা আশরাফুল ইসলাম দূর্জয় বলেছেন গনতন্ত্রবিহীন রাজনৈতিক চর্চ্চা, রাজনৈতিক নেতৃত্বে লেজুড়বৃত্তি চামচামির পরিবর্তনের কথা।২১ বছরের রাহাত লতিফ তৌসিফ চায় রাজনীতি থেকে পরিবারতন্ত্রের উচ্ছেদ ।অসৎ,অযোগ্য,নীতিহীন,অশিক্ষিত,চরিত্রহীন লোকজনের উপস্থিতি মুক্ত রাজনীতিকে দেখতে চায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়নের শিক্ষার্থী মাশরাফি বিন মোবারক।জনগণের সেবা নয়, বরং নেতারা নিজেদের পকেট ভরতেই রাজনীতিতে আসেন, নেতাদের এমন মানসিকতাও মাশরাফিকে হতাশ করে তোলে। লোকাল বাসের হেল্পার কালামের মতে, ‘’মহিলা মানুষ দিয়া রাজনীতি অয়? অনেক দেখসি, অহন আমরা পুরুষ কাউরে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চাই। এরশাদই ভাল আসিলো।‘’ গৃহিনী ফজিলাতুন্নেসা রাজনীতিতে টাকার খেলা আর দেখতে চান না।এছাড়াও রাজনীতিতে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, গুম, হত্যা নিয়েও তরুণদের মাঝে বেশ অসন্তোষ দেখা গেল।তরুণ শিক্ষক সঞ্জিৎ মণ্ডল বললেন নেতাদের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কথা, ‘’আমার কাছে নেতাদের একটা দিক অবশ্য বেশ মজা লাগে। সব দলের নেতার মাঝেই একটা দিক দিয়ে খুব মিল দেখা যায়, তা হল তারা সবাই মিথ্যাবাদী আর ভণ্ড।‘’

কীভাবে আসবে পরিবর্তন?
রাজনীতির অন্ধকার গুমট ও দমবন্ধকর অবস্থার পরিবর্তন কীভাবে আসবে সে সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছিল তরুণ প্রজন্মের কাছে। সৎ ও যোগ্য একজন নেতার অপেক্ষায় রয়েছে সবাই, যিনি একদিন এসে রাজনীতির হাল ধরে জনগনের ভাগ্যের উন্নতি ঘটাবেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ফারিহা তায়্যেবা মনে করেন, নষ্ট রাজনীতির পরিবর্তনের জন্য দলগুলোর ভেতরেই ব্যাপক পরিবর্তন হওয়া দরকার। অসৎ রাজনীতিবিদদের বর্জন করার মাধ্যমে পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করেন হাসান সাকীফ । জনগনের মাঝে তৃণমূল পর্যায় থেকে রাজনীতি নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবর্তন আনতে পারে বলে বললেন কেউ কেউ। স্কুল শিক্ষক তাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘’একই ব্যক্তি দুইবারের বেশি ক্ষমতায় আসতে পারবে না, এমন নিয়ম যদি চালু হয়, তবেই নেতৃত্বে নতুনত্ব ও বৈচিত্র্য আসবে, রাজনীতির নোংরামি কমে যাবে।‘’ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আশিক রহমান, প্রাণ আরএফএল গ্রুপে কর্মরত আনোয়ার হোসেন, সরকরি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থী নিজাম আহমেদ সহ আরো অনেক তরুণই মনে করেন দলের মধ্যে গণতন্ত্রায়নের ফলে রাজনীতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করেন ক্ষুদ্র উদ্দোক্তা উম্মে শায়লা । কলেজ শিক্ষক তরিকুল ইসলাম বলেছেন,’’ আমি চাই দেশের মধ্যে অন্যায়, অরাজকতা, দূর্নীতি বাড়তে থাকুক।বাড়তে বাড়তে এটি এমন এক অসনীয় পর্যায়ে পৌঁছুবে যে জনগণই তখন একটি বড় পরিবর্তন নিয়ে আসবে।‘’

আমরা যদি না জাগি মা, কেমনে সকাল হবে?
প্রায় সব তরুণের মাঝেই রাজনীতি নিয়ে বেশ হতাশা লক্ষ্য করা যায়। একটি বড় পরিবর্তনের অপেক্ষায় দিন গুনছে তরুণেরা। কিন্তু আকাশ থেকে হঠাৎ একদিন টুপ করে সব বদলে যাবে অথবা কোন আলাদিনের জাদুর দৈত্য এসে আমাদের সব কিছু এক নিমিষে ঠিক করে দিয়ে যাবে, রাজনীতিতে পরিবর্তন ব্যাপারটি তো এমন সহজ নয়।আমাদের নিজেদেরকেই নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে।তাই তরুণদের কাছে প্রশ্ন রাখা হয়েছিল, রাজনীতিতে এসব পরিবর্তন আনতে আপনি নিজে কিভাবে কাজ করবেন?এই প্রশ্নটি শুনে প্রায় সব তরুণের মধ্যেই পিছু হটে যাওয়া, লেজ গুটিয়ে পলায়নপর মনোবৃত্তি লক্ষ্য করা যায়।সবাই রাজনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন চায়, প্রধান দুই রাজনৈতিক দলকে বর্জন করতে চায়। কিন্তু নিজের স্বার্থের জন্য আবার ঐ দলগুলোর কাছ থেকেই সুবিধা নিতে কেউই পিছুপা হচ্ছে না। ফলে ঐ দুই দলের বৃত্তে আটকে পড়েছে পুরো দেশ। প্রসংগত মনে পড়ে যায় অ্যাপেলের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের কথা। তিনি বলেছেন, ‘’সবাই চায় স্বর্গে যেতে, কিন্তু কেউই মরতে রাজি নয়।‘’ মেধাবী তরুণেরা কেউই সরাসরি রাজনীতিতে অংশ নিতে সাহসী বা আগ্রহী নয় বলেই মনে হল তাদের সাথে কথা বলতে গিয়ে । কারণ হিসেবে চিকিৎসক ইশরাত জেরিন তার হতাশার কথাই বললেন, ‘’রাজনীতিতে এসে সৎ, যোগ্য নেতারা কেউ টিকে থাকতে পারে না, তাদেরকে কিছুতেই কাজ করতে দেওয়া হয় না।‘’ তরুণদের বেশির ভাগই বলেছেন,তারা নিজেরা নিজের কাজটুকু সৎভাবে করে, দেশের প্রতি অবদান রাখতে চান।শিক্ষার্থী নুরে আলম তার সামর্থ্য অনুযায়ী তার আশপাশের মানুষজনদের রাজনীতি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করার চেষ্টা করবেন বলে ইচ্ছে জানিয়েছেন।আশরাফুল ইসলাম দূর্জয় কঠিন বাস্তবতার কথাই স্বীকার নিয়েছেন, ‘’নতুন করে আমার কাজ করার কিছু নেই। জন্ম যেহেতু এখানে, আপস করে জীবন কাটাতে হবে। ‘’ শিক্ষক মাহবুবুর রহমান বলেছেন, ‘’পরিবর্তন আমরা সবাই চাই, কিন্তু আপনি আমি একা কিছুই বদলাতে পারবো না।আমাদের ভূমিকা দর্শকের। আমরা শুধু আমাদের ভাবনার কথা একে অন্যের কাছে শেয়ার করতে পারি ।আমাদের সামর্থ্য এতটুকুই।যতদিন না উচচ পর্যায়ের রাজনীতিবিদদের কান পর্যন্ত আমাদের কথাগুলো পৌঁছুবে, ততদিন কিছুই বদলাবে না।‘’ কিছু করতে না পারার অক্ষমতা থেকেই সূর্যতামসী প্রিয়া ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছে, ‘’ এখানে শিশুর জন্মের সাথে সাথে শেখানো হয় নিজে বাঁচলে বাপের নাম ,আমরা
পড়া শুনা করি গাড়িতে চড়ার জন্য, জন্মের সাথে সাথে আমাদের বানিয়ে ফেলা হয়
আত্মকেন্দ্রিক ,স্বার্থপর । আমি লজ্জিত আমার এই সমাজে জন্ম হয়েছে বলে, এই সমাজের অন্যায় অবিচার গুলা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতে হচ্ছে বলে ।‘’

কেমন নেতা চায় তরুণেরা?
একজন যোগ্য ও সৎ নেতার আবির্ভাবের মাধ্যমে দেশে পরিবর্তন আসবে বলে তরুণেরা বারবার তাদের আশার কথা বলেছেন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী শাহিদা রিতা জানালেন তার ক্ষোভের কথা, ‘’এখন কেউ নেতা হতে চাইলে তাকে অবশ্যই উগ্র হতে হবে, তার অস্ত্র থাকতে হবে, গলাবাজি করা জানতে হবে।এসব গুণ(!) ছাড়া নেতা হওয়া সম্ভব নয়। এখন তো সততাই নেতা হবার পথে সবচেয়ে বড় অযোগ্যতা।’
তরুণদের প্রিয় নেতার তালিকায় বংগবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান, তাজউদ্দিন আহমেদের কথাই তুলনামূলকভাবে বেশি উঠে এসেছে। জনগনকে উদ্দীপ্ত করার ক্ষমতা, তাঁর দেশপ্রেম, দেশের মানুষের প্রতি ভালবাসা, স্বাধীকারের স্বপ্ন পূরণে অবদানের জন্য তরুণদের মধ্যে প্রিয় নেতা হিসেবে শেখ মুজিবর রহমান অনেকখানি জায়গা জুড়ে রয়েছেন। রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, শক্তহাতে মুক্তিযুদ্ধের হাল ধরা, সাংগাঠনিক ক্ষমতা, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবার দক্ষতা ইত্যাদি গুণের কারণে তাজউদ্দিন আহমেদের নামটিও তরুণদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে। এছাড়াও জিয়াউর রহমান, মাওলানা ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দি,শেরে বাংলা এ কে এম ফজলুল হকের কথাও অনেকেই বলেছে।একজন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী বলেছে, মহানবী(স) এর মত নেতা থাকলে দেশের অরাজকতা সব পালটে যেত।আবার অনেকেই নির্দিষ্ট করে কোন নেতার নাম বলতেই নারাজ।যেমন তুহিন মুস্তাফিজের মতে, ‘’একেক জন নেতার একেক রকম গুণ রয়েছে।কেউই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। তাই নির্দিষ্ট একজন প্রিয় নেতার নাম বলা সম্ভব নয়।‘’ কেউ কেউ বাংলাদেশের সব নেতার প্রতিই বিরাগ। তাই তারাও কোন প্রিয় নেতার বলতে পারেন নি।

বাধাগ্রস্থ হচ্ছে তরুণদের নেতা হবার প্রক্রিয়াঃ

একটি বিষয় বেশ লক্ষ্যণীয় যে, তরুণদের নিজেদের মধ্যে রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবার ইচ্ছে প্রায় নেই বললেই চলে। তরুণদের এই নিস্পৃহতা দেশের ভবিষ্যত রাজনীতির জন্যই আশংকাজনক।রাজনীতির অংগনে আমরা সহসাই যে নতুন ও সম্ভাবনাময় কাউকে পাবো তেমন কোন লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। একদিনে কেউ নেতা হতে পারে না।নেতা হয়ে উঠা একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। আর সে প্রক্রিয়াও বিভিন্নভাবে যেন এককথায় স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে।বয়ষ্ক নেতারা ক্ষমতা শুধুমাত্র তাদের হাতেই কুক্ষিগত করে রাখছেন। নতুন নেতা গড়ে তোলার জন্য কোন ক্ষেত্র বা সুযোগ তারা রাখছেন না, তরুণদের অনুপ্রেরণা দিচ্ছেন না। দেশের দ্বিতীয় সংসদ বলে খ্যাত ‘ডাকসু’র কার্যক্রম বন্ধ ২৪ বছর ধরে। একই অবস্থা ‘জাকসু’, ‘রাকসু’, ‘চাকসু’তেও। দীর্ঘ দুই যুগ ধরে এই সবগুলি সংগঠন একদম অকার্যকর করে রাখা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ, সুন্দর রাজনীতির চর্চা একেবারেই হচ্ছে না। ছাত্র রাজনীতির নামে হচ্ছে শুধু অপরাজনীতি, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, হল দখল, অস্ত্রবাজি। এখানে মেধাবী তরুণদের যেন বিন্দুমাত্র স্থা্ন নেই। তাই নতুন, মেধাবী, যোগ্য নেতাও তৈরি হচ্ছে না। অথচ একসময় দেশের যেকোন রাজনৈতিক সংকটে তরুণ ছাত্ররাই আন্দোলনে মূল নেতৃত্ব দিয়ে থাকত। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে মেধাবী তরুণদের ভূমিকাই ছিল মুখ্য।অথচ আজ দেশের চরম ক্রান্তিকালেও তরুণরা যেন নির্লিপ্ত, নির্বাক, বিচ্ছিন্ন। তারা জানে না কী করতে হবে।
প্রসংগত অনেকেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে দাবিতে গড়ে উঠা গণজাগরন মঞ্চের উদাহরণ দিয়ে তরুণদের জেগে উঠার কথা বলে আশাবাদী হয়ে উঠেন। কিন্তু এ নিয়ে শাহিদা রিতার রয়েছে ভিন্ন মত। তিনি বলেন, ‘’গণজাগরণ মঞ্চ কোন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয় নি। হঠাৎ করেই এই মঞ্চ গড়ে উঠেছিল।এ মঞ্চ নিজেদের অরাজনৈতিক বলে দাবি করেছিল, যদিও পরে তা আর রাজনীতির প্রভাবমুক্ত থাকে নি। এখানে ভূঁইফোঁড় অনেকের মাঝেই আমরা নতুন নেতার স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু এখন এই সংগঠনটিই দলীয় কোন্দলে ও বিভিন্ন অভিযোগের কারণে আমাদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ।এমন সংগঠনের উপরে আস্থা রাখা যায় না।‘’
তবে কি তারুণ্য তাদের জয়গান আমাদের শোনাবে না? তবে কি কবির এমন তারুণ্যোদ্দীপ্ত কবিতার ভাষা,
“’উৎকৃষ্ট সময় কিন্তু আজ বয়ে যায়।
এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়।‘’


স্রেফ একটি কবিতাই থেকে যাবে? তবে কি পারিবারিক উত্তরাধিকারসূত্রে উঠে আসা নেতারাই কিংবা ছাত্রনামধারী সন্ত্রাসী অছাত্ররাই হবে একুশ শতকের রাজনীতিতে আমাদের পথদ্রষ্টা? আর আমরা তাদের নেতৃত্বই মাথা পেতে নির্বিকারে মেনে নেবার জন্য প্রস্তুত?
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×