somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খবিসের ধার

২৩ শে জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ১১:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সামনের অংশে চক চক করে ধার। রোদের ফালি চোখে পড়ে তখন মনে হয় গল্পে পড়া তেলেসমাতি ঘোড়ার উপর বসে থাকা বীর। তরবারী বলে কিছু এই যুগে মিলবে না। তার সাড়ে সাত ইঞ্চি ধারালো বস্তুটা এমন ভাবে বানানো তার সামনে চিকন অংশ মুহূর্তে হরিৎ আচ্ছাদন ছিন্ন ভিন্ন করতে পারে। তাকে সবাই জানে নষ্ট। সে চোর। একটা না দুটো নয় পুরো জায়গা সে যদি পেতো। প্রথমে সে মজুমদারের অঞ্চলে ছিল সেরা তস্কর। পুরো এলাকাকে নিজের বানাতো। মকবুল্যার মত এমন সাহসী কেউ নেই।
গত পরশুর কথা সে বজলু মেম্বারের পাঁচিল পার হয়েছে। একটা দীঘির পারে বড় একটা গাছের আড়ালে সব হলো।
মকবুল্যা চাক্কুটা নিয়ে উপরে উঠেছে। দুই পা কাঁচি দিয়ে ধরে একটাকে টেনে ধরেছে। শক্ত হয়ে আছে। কাঁপছে না। না, সময় লাগবে। কিন্তু একটু পর এসে হাজির হবে একজন। তখন নিস্তার নাই। মানুষের কণ্ঠস্বর থামাতে পালানো ছাড়া উপায় হবে না।
সময় কম বলে সে জোরে টানতে থাকে সবগুলো। তিন চারটা ফল এক সাথে। আমের এই স্বাদ অন্যরকম। পুরো ঝাঁকার গোড়া থেকে কেটে ফেলে যতগুলো সম্ভব নিয়ে পালাবে সে। লোকজন আসার আগে সব হবে। একটা মুখে দেয়, টক। মনে হয় শরীরে লবন মাখালেই কাজ হবে। এত অল্পতে হবে না। একটা সে ছিঁড়ে ফেলল। লবন পড়ে যায় কোঁচর থেকে। তখুনি শুনতে পায় মেম্বারের নাতি। ফর্সা ধব ধবে গালে ভদ্র ভাষায় বলে।
ওই খবিস আমগো গাছে উঠচস ক্যান? নাম। দাদারে ডাকলাম। সে একেবারে খুন কইরা ফালবো।
খবিস ছড় ছড় করে নেমে পালাবে। মেম্বারকে তার ভয়। এই নিয়ে এক সপ্তাহ ধরে এই ছেলেটা বাঁধা দিয়েছে। সে ভীত হয়ে পালাতে যাবে। হঠাৎ তার সাত ইঞ্চি ছুরিটার দিকে নজর যায়। যার হাতে ছুরি সে কেন পালাবে? তার কিসের অভাবা?
মকবুল্যার ভয়ে সমস্ত ফলের ঝাঁকা নুয়ে যায়। সে যেমন খুশি কেটে ফেলতে পারে নারকেল শবরি, আম! এই মানুষের শরীরকে কেটে ফেলাও সমস্যা না।
খবিস ডাকলি ক্যান, আমার নাম নাই? আমার হাতে কি দেখসস? এক্কেরা উঝুরি গালায়ে ফালবো।
মেম্বারের নাতি এসবে ভয় পায় না। তার নানার বন্দুক সে ধরে দেখেছে। গুলি না ফুটতে জানলে বন্দুক আর কাগজ এক সমান। এ মকবুল্যা ছাচড়া। তার হুমকিতে ভয়ের কিছু নাই। কিন্তু কিছুক্ষণ পর নাতির ধারণা মিথ্যে হয়। বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ের শক্তির কাছে হেরে যায় মেম্বারের নাতি। তার পেটে বিদ্ধ হয় একটা তার ধারালো ছুরি।
কিশোর মকবুল সম্বিত ফিরে বুঝতে পারে মানুষ আর আম ফল এক না। সে ছুরিটা টেনে তুলে পুকুরের দিকে ছুটে পালায়। পা চলছে না। সে ভিতর গলা ডুবিয়ে কাঁপতে থাকে। আল্লাহ কে ডাকে। তার কোন রক্ষা নাই।
*
একটা ঘটনা ঘটে সেই দিন। ঘণ্টা খানেক পরেই ডাকাতি হয় মেম্বারের বাড়িতে। সে এক ভয়াবহ ঘটনা। হতে পারে আগের পরিকল্পিত। ডাকাত দলের সদস্যরা আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্রের সামনে আটক করে পুরো বাড়ি। গুলিতে মারা যায় মেম্বর সহ বাড়ির আরো তিনজন। মেম্বারের বড় মেয়ের লাশ পাওয়া যায় খড়ের গাদার পাশে। আর সেই মেয়ের সন্তানকে পাওয়া যায় আম গাছের তলায় রক্তাক্ত।
থানা পুলিশ হয় তাতে ডাকাতের দলের বিরুদ্ধে ।সব অভিযোগ প্রমাণিত হয়। ডাকাত দলের চারজনের ফাঁসি হয়।
*
মকবুল্যার কথা কেউ আর জানে না। কিন্তু সবাহ দেখে মকবুল্যা মকবুলে পরিণত হয়। সে মসজিদে যায় কোরান পড়তে। ফাইফরমাস খাটে, ধানের জমিতে চাচার সাথে কামালা দেয়। একদিন সন্ধ্যায় মকবুল যখন বাড়ি থেকে বের হয়। সে হঠাৎ দেখে মেম্বারের নাতি তার সামনে। হাতে ঠিক তার মত একটা ছুরি।
চারপাশ মাছের মত চকচকে মুখটা সূঁচালো। সে ডাকে, মকবুল ভেবেছিলি আমি নাই। আর আমার কিচ্ছু হয় নাই। আজকে মনে হল গাছে অনেক আম।
মকবুল দেখলো মেম্বারের নাতির মুখে কোন ক্রোধ নেই হাসি। মকবুলের মনে হয় আবারও ওর সাথে আম গাছে উঠে আম কেটে নেয়।
সে, এই মেম্বারের, সত্যি তো, অন্য কোন উদ্দেশ্য নাই তো?
কিসের উদ্দেশ্য থাকবে? মকবুল তখন মেম্বারের নাতির কাছে আসে। মেম্বারের নাতি কিছুই করে নি। তবে তার সারাটা শরীর ছুরির মত ধারালো।
_
ড্রাফট ১.০ / ২ মিনিটের টাইপে চাইলেই কিছু হয় না। থাকুক ড্রাফট।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ১২:১০
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?

লিখেছেন raselabe, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×