somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

চেংকু প্যাঁক
নাস্তিকরা বঁদড়ামি করবো আর আমি নিশ্চিন্তে বেহেশতে চইলা যাওয়ার ধান্দা করমু ! কক্ষনো না, বরং আমি এই কুলাংগার গুলারে জাহান্নাম পর্যন্ত ধাওয়া করমু, ওগো লগে জাহান্নামে ঢুকমু, ওগো আগুনের চাপাতি দিয়া কুপামু.......এর পরে আমার কইলজা ঠান্ডা হইবো।

‘গরু খাওয়া মুসলমান’ আমরা নই

১৬ ই জুন, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


==
কিছু হলেই উপরের টার্মটি অনেকে ব্যবহার করে, আমরা ‘গরু খাওয়া মুসলমান’। তবে আমি কথাটি মানতে রাজি নই। উপমহাদেশের মুসলমানরা যদি সত্যিকার অর্থে ‘গরু খাওয়া মুসলমান’ হতোই, তাহলে হিন্দুত্ববাদের উত্থানটা এভাবে হতো না।
কয়েকদিন আগে ভারতের মেঘালয়ে কয়েকজন বিজেপি নেতার দলত্যাগ করা নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছিল “বিজেপি ছাড়ল, গরুর গোশত ছাড়ল না”। মেঘালয়ের বিজেপি নেতারা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রথমে বিচি-বিফ ফেস্ট করার পরিকল্পনা নেয়। তখন বিজেপির কেন্দ্র থেকে জানানো হয়, তারা ঐ উৎসব করতে পারবে না।
ব্যস, সাথে সাথে পদত্যাগ করে বিজেপির তিন নেতা বার্নাড মারাক, বাচু মারাক এবং উইলভার গ্রাহাম ডাংগো। বার্নার্ড মারাক জোর গলায় বলে, “বিজেপি উপজাতি ও খ্রিস্টানদের ওপর ‘হিন্দুত্ব’ চাপিয়ে দিতে চাচ্ছে। এরকম রাজনৈতিক দলের অংশ হয়ে থাকার কোনো মানে নেই, যারা আমাদের গারো ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে চায় না।” (http://parstoday.com/bn/news/india-i39206)
আশ্চর্যের বিষয়, গোটা বিশ্বে যেখানে মুসলমানরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে; সে তুলনায় এই গারোরা সংখ্যায় কত কম, কত নগণ্য জাতি তারা। তারপরও নিজেদের ‘স্বকীয়তা’ রক্ষার্থে কত সচেতনতা তাদের। যেখানে পয়সা ও ক্ষমতার জন্য রাজনীতিকরা বিরোধী দল থেকে সরকারি দলে যোগ দেয়, সেখানে গরুর গোশত খাওয়ার অধিকার তথা নিজ সংস্কৃতি রক্ষার জন্য গারো নেতারা ক্ষমতাসীন দলও ত্যাগ করেছে।
বিপরীতে বাংলাদেশের বহু মফস্বল শহর আমি ঘুরেছি, যেখানে একটি রেস্টুরেন্টেও গরুর গোশত রাখা হয় না। খোদ ঢাকা শহরের টিকাটুলি, বংশাল, মতিঝিলের দিকেও মূল মূল রেস্টুরেন্টগুলোতে পাওয়া যায় না গরুর গোশত। এতেই প্রমাণ হয় যে, আমরা ‘গরু খাওয়া মুসলমান’ নই। মেঘালয়ের বিজেপি নেতারা কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে দলত্যাগ করে গরুর গোশত উৎসবের আয়োজন করেছে। শুধু মেঘালয় নয়, ভারতের কেরালা, তামিলনাড়ু সহ অনেক জায়গাতেই গরুর গোশত উৎসব করা হয়েছে বিজেপির বিরোধিতা করে। বিপরীতে এদেশে চারুকলায় গরুর গোশত ইস্যুতে ক্যান্টিন ভাঙচুর ও ক্যান্টিন মালিককে পেটানো হলেও এদেশের মুসলমানরা কিন্তু প্রতিবাদস্বরূপ কোন ‘বিফ ফেস্টিভ্যাল’ এর আয়োজন করেনি।
সুতরাং ‘গরু খাওয়া মুসলমান’ উপাধিটা এই ধ্বজভঙ্গ অসাম্প্রদায়িক জাতির ক্ষেত্রে খাটে না। মুসলমানরা গরুর গোশত নিয়ে আপোষের পথে হাঁটে বলেই তাদেরকে পিটিয়ে মারা হয়। বিপরীতে উপজাতিরা অতিক্ষুদ্র হয়েও গরুর গোশত নিয়ে কোন আপোষের পথে হাঁটে না, যে কারণে হিন্দুরা তাদের কাছে মাথানত করেছে। এমনকি ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংকে আমন্ত্রণ জানাতে মিজোরামে গরুর গোশত উৎসবের আয়োজন করা হয়, আর সেও সেখানে হাজির হয়ে বলে “আপনারা যা খুশি, খেতে পারেন।” (https://goo.gl/Ag5YaD)

- দস্তার রাজদরবার
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুন, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৫৪
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শরীফ থেকে শরীফা ইস্যু কেন চাঙা হচ্ছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:১৭


দেশে ট্রান্সজেন্ডার ও সমকামী ইস্যু নিয়ে জল ঘোলা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমকামী ইস্যুতে একের পর এক বহিষ্কারের ঘটনার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্প - অভাগীর সুর ব্যঞ্জনা – পর্ব ১ -

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


শহরটা রাতে কখনও পুরো ঘুমোয় না। কেউ প্রেমে জাগে, কেউ স্বপ্নে, কেউ অপরাধবোধে।আর কেউ কেউ জেগে থাকে অভাবে। তিনতলার ছোট্ট ভাড়া-বাড়িটির জানালার পাশে বসে শিরীন হারমোনিয়ামের রিডে আঙুল রাখল।

বাইরে তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মদিনে তাহাদের জন্য শুভকামনা। আমার জন্মদিনের স্মৃতি...

লিখেছেন করুণাধারা, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬



একেকটা জন্মদিন পার করা মানে জীবন বইয়ের একেকটা পৃষ্ঠা পড়ে ফেলা, কয়েক বছর পরপর সেই বইয়ের একেক অধ্যায় শেষ হয়! বইটা ট্রাজেডি না কমেডি, একেবারে শেষ পর্যন্ত না পৌঁছালে তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুপ - একদম চুপ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



আমরা শুধু চুপ থাকবো -
আমাদের কথা বলার মুখ নেই
আমাদের দেখার মতো চোখ নেই
আমাদের শোনার মতো কান নেই
মনে হয়, মনে হয় -
আমাদের হাত-পাও নেই।

আমাদের বিবেক নেই
আমাদের চিন্তা-চেতনাও নেই
আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২





হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

...................................................................
মানচিত্রের আঁকাবাঁকা রেখায় তারে পাবেনা,
সে নদী তো চেনা কোনো ঠিকানায় যাবে না।
তার কোনো কূল নেই, নেই কোনো ঘাট,
সে বয়ে চলে একা, বুক জুড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×