somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পশ্চিমাদের ভুল??প্রাচ্যের মুমূর্ষু অবস্থা!

৩১ শে অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ২:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ক্ষমতাসীনরা চিরকাল দুর্বলদের নিয়ে খেলবে,প্রয়োজনে তাদেরকে ধ্বংস করে দিবে;তারপর একসময় যখন হুশ ফিরবে,তখন বলবে সরি,ওটা ভুল ছিল--এটাই যেন জগতের নিয়ম!ততদিনে কিন্তু ওদিকে ঝড়ে যাবে লাখো তাজা প্রাণ,ধ্বংস হয়ে যাবে এক-একটি বিস্তীর্ণ জনপদ,তাদের সভ্যতা,কৃষ্টি,কালচার,স্থাপত্যশৈলী।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ এবং যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার সহ তাদের মিত্রশক্তিদের নেতৃত্বে ২০০৩ সালে 'অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম' নামে ইরাকে একটি সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়।যার জন্য অজুহাত হিসেবে দেখানো হয়,তৎকালীন ক্ষমতাসীন সাদ্দাম সরকার আন্তর্জাতিক বিধি-নিষেধ অমান্য করে বিপুল পরিমান সামরিক সরঞ্জাম তৈরী করছেন এবং তার দেশের জনসাধারনের বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করছেন;যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি এবং আমেরিকা সহ মিত্রশক্তিদের নিরাপত্তার জন্য হুমকীর কারন।

ফলশ্রুতিতে যৌথ বাহিনীর দ্বারা ইরাক আক্রমন করা হয় এবং ২০০৩ এর শেষদিকে সাদ্দাম হুসেইনকে গ্রেফতার করা হয়।অবশেষে ২০০৬সালে তাঁর ফাঁসিও কার্যকর করা হয়।গোটা ইরাককে তছনছ করে দেওয়া হয়,ওখানে ভয়াবহ যুদ্ধ বাঁধে।আনুমানিক দেড়-দশ লক্ষাধিক লোকের প্রাণহানি ঘটে।কিন্তু শেষপর্যন্ত প্রমাণ হয় তারা যা আশঙ্কা করছিলেন(সামরিক অস্ত্র তৈরী সংক্রান্ত),তা সম্পূর্ণ মিথ্যা!আসলে মূল কারন ছিল সাদ্দাম হুসেইনকে ক্ষমতাচ্যুত করে তাদের অনুগত একটি সরকারকে ইরাকের ক্ষমতার মসনদে বসানো এবং ইরাকের তেলসম্পদ করতলে আনা!

অপরদিকে 'আরব বসন্তের' নামে ২০১১সালে লিবিয়ায় অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরী করে ক্ষমতাসীন মুয়াম্মাল গাদ্দাফিকে গদিচ্যুত করা হয় এবং তাকে হত্যা করা হয়।তখন থেকেই ঐদেশে অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে এবং সবধরনের অরাজকতা জেঁকে বসেছে।

অপরদিকে সিরিয়াযুদ্ধ এখনো চলছে।সিরিয়ায় ক্ষমতাসীন আসাদ সরকারের পতন ঘটানোর জন্যে আমেরিকা বিদ্রোহী গ্রুপকে মদদ দিয়ে আসছে এবং তাদেরকে সামরিক প্রশিক্ষণ ও দিয়েছে,অস্ত্র-সরবরাহ করছে।অভিযোগ করা হয়,জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস ও তাদেরই সৃষ্টি(প্রত্যক্ষ/পরোক্ষ)।এখন আবার রাশিয়া সিরিয়ায় আইএস বিরোধী বিমানহামলা শুরু করেছে,যার সাথে যোগ দিচ্ছে চীন সহ আরো কয়েকটি দেশ।বলা চলে,গত শতাব্দীর মতই এইমুহুর্তে বিশ্বে আরো একটি স্নায়ুযুদ্ধ(cold war) চলছে!

অতঃপর গোটা মধ্যপ্রাচ্যই আজ সংকটের মুখে,যার হোতা আমেরিকা সহ পশ্চিমাবিশ্ব।তাই আজ সিরিয়া,ইরাক,লিবিয়া থেকে লাখ লাখ শরণার্থী নিরাপদ জীবনের আশায় সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশ করতে চাইছে।কিন্তু অনেক পশ্চিমা রাষ্ট্রই এখন তাদেরকে গ্রহন করতে নারাজ।অর্থাৎ যে সমস্যার সৃষ্টি তারাই করেছিল,আজ তাদের ঘাড়েই যখন এর বোঝা চাপতে যাচ্ছে;তখনি টনক নড়তে শুরু করেছে ঐসব মোড়লদের।

ইরাক যুদ্ধের অন্যতম কুশলী ও সমর্থনদাতা সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এখন বলছেন,ইরাকযুদ্ধে তারা কিছু ভুল করেছিলেন,সেজন্য তিনি ক্ষমাপ্রার্থী।তখন তাদের কাছে কিছু ভুল গোয়েন্দা তথ্য এসেছিল।বাহ ব্লেয়ার সাহেব!আপনাদের সেই ছোট্ট ভুলের জন্য লাখো মানুষের জীবন গেল,মধ্যপ্রাচ্য ধ্বংস হল;আর এখন আপনি ক্ষমা চাচ্ছেন??কি নির্মম রসিকতা!

অপরদিকে আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প সিএনএন এর একটি টকশোতে অতিসম্প্রতি বলেছেন,"সাদ্দাম হুসেইন-গাদ্দাফিরা থাকলেই পৃথিবীটা হয়তবা এখন অপেক্ষাকৃত ভাল থাকতো।উনি এখন ওবামা প্রশাসনের ভূমিকার বিরোধিতা করছেন।আইএস এর উত্থান এবং অভিবাসন সংকটের জন্য ঐ ঘটনাগুলোর দায় আছে বলে মনে করছেন।"এটাও কি হাস্যকর নয় ট্রাম্প সাহেব??এতদিন পর বোধোদয় হল আপনাদের??কই তখন তো এগুলোর বিরোধিতা করেননি!

আসলে এটা নির্বাচনী বিরোধিতা,লোকদেখানো বিরোধিতা।কাল আপনি ক্ষমতায় গেলে আপনিও যে এমন করবেন না,তার কি কোন গ্যারান্টি আছে??নেই!আপনারা তো মোড়ল।তাই যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন/পারবেন।দুর্বলদের নিয়ে খেলতে পারেন যেমনি ইচ্ছা তেমনিভাবে!

তবে হ্যা,বিবেকের দায়মুক্তি??তা হয়ত পাবেন না।ইতিহাস কখনোই আপনাদেরকে ক্ষমা করবে না।যেমন করেনি হিটলারকে,মুসোলিনিকে,ভয়ংকর নাৎসিদেরকে!

যুগেযুগেই শাসকদল শোষণ করে গেছে দুর্বলদের।কিন্তু একদিন ঐ দুর্বলরাই আবার মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে।শাসকশ্রেণীর রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে ছিন্ন করেছে যাবতীয় শোষণের নাগপাশ।কখনোই কোন সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠীরা জয়ী হয়নি,বরং
তারাই মহাকালের স্রোতে বিলীন হয়ে গেছে।জয় হয়েছে মেহনতি মানুষদের,দুর্বলদের,শোষিতদের!

তাই আজ আমরা প্রস্তুত,আপনারা প্রস্তুত তো???
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ২:২৬
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"টোকাই থেকে হিরো"

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৬



টোকাই থেকে হিরো! বাংলা ছবির  অশ্লীল যুগে মুক্তি পাওয়া এক ঢাকাইয়া চলচ্চিত্র। ছবিতে প্রেক্ষাপটে অনেকটা এইরকম - বস্তিতে বেড়ে উঠা; মানুষের লাথি- উষ্টা খেয়ে বড় হওয়া এক টোকাই (ছবির... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুখরিত জীবনের চলার পথে, ব্লগের মুখরিত দিন

লিখেছেন মেহবুবা, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:১৪


ব্লগ স্কুল, মজারু
ছোটন চলে স্কুলেতে বই শ্লেট হাতে ,
বদরুল ভাই কাঁদছে ভীষন যাবে সাথে সাথে,
চান্কু হল লক্ষ্মীছাড়া পান্কু হয়ে ঘোরে ,
চিটি যাবে সবার আগে উঠল... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ফোনে কয়টি গান সেভ করা আছে? #:-S

লিখেছেন অপু তানভীর, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



কদিন আগে একটা ফোন নিতে হয়েছে। আগের ফোনটা তিন বছরের মত সার্ভিস দিয়েছে। তবে টাচস্ক্রিনে সমস্যা দেখার কারণে সেটা ঠিক মত ব্যবহার করা যাচ্ছিল না। নতুন ফোন বলে সেটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

Ripe Age দুই প্রান্তের দুই মানুষঃ সামু শব্দের সেতু প্রজন্মের বন্ধন

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৪


একজন দাঁড়িয়ে জীবনের শুরুতে
চোখে তার অগণিত স্বপ্ন
আগামীর পথে কত প্রশ্ন
কত না-জানা, কত বিস্ময়
কত দূরের নীল আকাশ
ডাকে তাকে প্রতিদিন।

অন্যজন বসে জীবনের শেষে নয়
বরং দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসা এক প্রান্তে
প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেন টু কক্সবাজার: টিকিট পেলাম না, পেলাম বিকল্প পথের সন্ধান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

কক্সবাজার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল অনেক দিনের। তবে এবার লক্ষ্য ছিল একটু আলাদা—বাসে নয়, বিমানে নয়; ট্রেনের জানালায় চোখ রেখে সমুদ্রের শহরের পথে যাত্রা। কিন্তু সেই সহজ পরিকল্পনার প্রথম বাধাই হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×