স্বর্গের লোভ বা নরকের শাস্তির ভয় তিনি দেখাননি। নিজেকে কখনও ঈশ্বরের অবতার হিসেবে দাবি করেননি। বলেছিলেন আমার ধর্ম আমার সাধনার মাধ্যমে সৃষ্ট, ঈশ্বরের নয়। আরও বলেছিলেন দেবতা বা ঈশ্বরের আরাধনা নয়, মানুষ কেবল সাধনার মাধ্যমে যাবতীয় মোহ ত্যাগ করে জন্মের এই কষ্ট থেকে মুক্তি লাভ করতে পারে। অথচ ভাবতে অবাক লাগে সর্বত্যাগী এই মানুষটির শিক্ষার বিপরীত দিকটি নিয়েই এখন তার অনুসারীরা অধিক ব্যস্ত। মহান গৌতম বুদ্ধকে এখন তার অনুসারীরা ঈশ্বরের আসনে বসিয়েছেন। নিজেদের মোহ ত্যাগ নয় বরং বুদ্ধের পূজা করেই তারা নির্বাণ লাভের চেষ্টা চালাচ্ছেন। মায়ানমার, থাইল্যান্ড কিংবা শ্রীলংকার রাস্তায় রাস্তায় স্থাপিত বুদ্ধমুর্তি এবং এগুলোকে পূজার দৃশ্য দেখলে আমি নিশ্চিত যে, সিদ্ধার্থ গৌতম লজ্জায় মুখ ঢাকতেন।
পিস (Peace) টিভিতে ডাঃ জাকির নায়েককে একটু পরে পরেই তার টিভি চ্যানেলের জন্য যাকাতের টাকা চাইতে দেখি। এতদিন আমি জানতাম যাকাত শুধুমাত্র দরিদ্রের অধিকার। এখন তাঁর মুখে শুনি যে, ইসলাম প্রচারে নিয়োজিত স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলকেও যাকাত দেয়া যায়। আমি ইসলাম বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নই। কাজেই বক্তব্যটি কতদূর সঠিক এনিয়ে তর্কে যাবনা বা উচিতও হবেনা। কিন্তু এ চ্যানেলে প্রচারিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্টদের যে পরিবেশে অবস্থান করে তাদের বক্তব্য রাখতে দেখা যায় বা তাদের চারপাশে যে জৌলুস দেখা যায় তাতে বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় যে দরিদ্র জনগণের যাকাতের টাকাটা কীভাবে অপচয় হচ্ছে। অথচ শুনেছি ইসলামের নবী নাকি মসজিদে নববীতে খেজুর গাছের গুড়িতে বসে ইসলামের বাণী প্রচার করেছেন। সাধারণ রুটিই নাকি ছিল তার প্রধান খাদ্য। একটার অতিরিক্ত জামাও নাকি তার ছিলনা। সেই অতি সাধারণ মুহম্মদ যদি তার এই সাগরেদ ডাঃ নায়েকের পোশাকের বিলাস দেখতেন কিংবা দরিদ্র জনগণের টাকা ব্যবহার করে টিভি চ্যানেলের জৌলুস বাড়ানো দেখতেন তখন কি করতেন তিনি? আমারতো মনে হয় স্যুট, টাই পরিহিত এই বেটার দুই গালে দুইটা চড় বসিয়ে দিতেন।
আজকাল আপনি খেয়াল করলে দেখবেন যে, ভারতের বিভিন্ন স্যাটেলাইট চ্যানেলে ঝাকে ঝাকে কমার্শিয়াল সাধুবাবাদের আগমন ঘটছে। তারা রুদ্রাক্ষ, দূর্গা কবজ, সাই কবজ, হনুমান কবজ বা শনি কবজ পরিধানের মাধ্যমে জনগণকে জাগতিক সুখ, ব্যবসায়ের উন্নতি, পরিজনের মধ্যে মিলেমিশে থাকার পথ বাতলাচ্ছেন। বলাবাহুল্য, এগুলো সব পেইড বিজ্ঞাপন। প্রতিটা বিজ্ঞাপনের দৈর্ঘ্য কম করে হলেও পনেরো মিনিট। এতা দীর্ঘ সময় ধরে বিজ্ঞাপন দেওয়ার সামর্থ্য দেখার পর এটা কারো বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় যে, এই বাবা বা তাদের প্রতিষ্ঠানের আয়-রোজগার কেমন। আর এটাও বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় যে, এই ইনকামের পুরোটাই আসছে তাদের কবজ ব্যবহার করা বোকা জনগণের পকেট থেকে। অথচ গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে স্পষ্ট বলেছেন, মানুষের সুখ বা কষ্ট তাঁর কর্মের ফল। যদি মানুষের কর্মই তার সুখ বা কষ্টকে নিয়ন্ত্রণ করে তবে বাবাদের এই কর্মকান্ডের কি হেতু? ভগবান কি তার শীষ্যদের এই কর্মকান্ড দেখতে পান? তিনি কি লজ্জায় মুখ লুকান?
একটি মিশনারী কলেজে পড়ার সুযোগ আমার হয়েছিল। নিজ অভিজ্ঞতার আলোকে মিশনারীদের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলার সুযোগ বা উৎস আমার নেই। তবে আমি দেখেছি তাদের কলেজ বা তাদের নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে তাদের মতালম্বীদের বাড়তি সুবিধা বা সুযোগ দিতে। এই মতালম্বীদের সিংহভাগই ধর্মান্তরিত। কাজেই অন্তত এটা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই যে ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণেই সংশ্লিষ্টরা এ সুযোগটা পাচ্ছেন কিংবা তাদের এ সুযোগটা দেয়া হচ্ছে। অর্থাৎ সোজা কথায় সুবিধার বিনিময়ে ধর্মান্তরকরণে উৎসাহিত করা হচ্ছে। অথচ জগতের সকল পাপী, পূণ্যবান, ধনী, গরীব নির্বিশেষে সবাইকে উদ্ধারের জন্য ঈশ্বর তার প্রিয়পুত্রকে এ ধরণীতে পাঠিয়েছিলেন। জগতের সবার পাপকে নিজের করে নিতে ক্রুশে প্রাণ দিয়েছেন। কিন্তু যীশুর উত্তরাধিকারদের বর্তমান কর্মকান্ড দেখার পর কি ঈশ্বর বলতে পারবেন তার পুত্রকে দিয়ে জগত উদ্ধারের চেষ্টাটা বা তার পুত্রের এই ত্যাগ সফল হয়েছে? আমি জানিনা ঈশ্বর কি উত্তর দিবেন। তবে পর্যবেক্ষণের আলোকে এই বিষয়ে আমার স্পষ্ট উত্তর হচ্ছে, না।
----------------------------------------------------------------------------------
ব্লগার ত্রিদীব এর এই পোস্টের (Click This Link) সাথে আমার লেখাটির ভাবগত মিল রয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৮:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



