somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঈশ্বরের লজ্জা

০৭ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৮:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্বর্গের লোভ বা নরকের শাস্তির ভয় তিনি দেখাননি। নিজেকে কখনও ঈশ্বরের অবতার হিসেবে দাবি করেননি। বলেছিলেন আমার ধর্ম আমার সাধনার মাধ্যমে সৃষ্ট, ঈশ্বরের নয়। আরও বলেছিলেন দেবতা বা ঈশ্বরের আরাধনা নয়, মানুষ কেবল সাধনার মাধ্যমে যাবতীয় মোহ ত্যাগ করে জন্মের এই কষ্ট থেকে মুক্তি লাভ করতে পারে। অথচ ভাবতে অবাক লাগে সর্বত্যাগী এই মানুষটির শিক্ষার বিপরীত দিকটি নিয়েই এখন তার অনুসারীরা অধিক ব্যস্ত। মহান গৌতম বুদ্ধকে এখন তার অনুসারীরা ঈশ্বরের আসনে বসিয়েছেন। নিজেদের মোহ ত্যাগ নয় বরং বুদ্ধের পূজা করেই তারা নির্বাণ লাভের চেষ্টা চালাচ্ছেন। মায়ানমার, থাইল্যান্ড কিংবা শ্রীলংকার রাস্তায় রাস্তায় স্থাপিত বুদ্ধমুর্তি এবং এগুলোকে পূজার দৃশ্য দেখলে আমি নিশ্চিত যে, সিদ্ধার্থ গৌতম লজ্জায় মুখ ঢাকতেন।

পিস (Peace) টিভিতে ডাঃ জাকির নায়েককে একটু পরে পরেই তার টিভি চ্যানেলের জন্য যাকাতের টাকা চাইতে দেখি। এতদিন আমি জানতাম যাকাত শুধুমাত্র দরিদ্রের অধিকার। এখন তাঁর মুখে শুনি যে, ইসলাম প্রচারে নিয়োজিত স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলকেও যাকাত দেয়া যায়। আমি ইসলাম বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নই। কাজেই বক্তব্যটি কতদূর সঠিক এনিয়ে তর্কে যাবনা বা উচিতও হবেনা। কিন্তু এ চ্যানেলে প্রচারিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্টদের যে পরিবেশে অবস্থান করে তাদের বক্তব্য রাখতে দেখা যায় বা তাদের চারপাশে যে জৌলুস দেখা যায় তাতে বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় যে দরিদ্র জনগণের যাকাতের টাকাটা কীভাবে অপচয় হচ্ছে। অথচ শুনেছি ইসলামের নবী নাকি মসজিদে নববীতে খেজুর গাছের গুড়িতে বসে ইসলামের বাণী প্রচার করেছেন। সাধারণ রুটিই নাকি ছিল তার প্রধান খাদ্য। একটার অতিরিক্ত জামাও নাকি তার ছিলনা। সেই অতি সাধারণ মুহম্মদ যদি তার এই সাগরেদ ডাঃ নায়েকের পোশাকের বিলাস দেখতেন কিংবা দরিদ্র জনগণের টাকা ব্যবহার করে টিভি চ্যানেলের জৌলুস বাড়ানো দেখতেন তখন কি করতেন তিনি? আমারতো মনে হয় স্যুট, টাই পরিহিত এই বেটার দুই গালে দুইটা চড় বসিয়ে দিতেন।

আজকাল আপনি খেয়াল করলে দেখবেন যে, ভারতের বিভিন্ন স্যাটেলাইট চ্যানেলে ঝাকে ঝাকে কমার্শিয়াল সাধুবাবাদের আগমন ঘটছে। তারা রুদ্রাক্ষ, দূর্গা কবজ, সাই কবজ, হনুমান কবজ বা শনি কবজ পরিধানের মাধ্যমে জনগণকে জাগতিক সুখ, ব্যবসায়ের উন্নতি, পরিজনের মধ্যে মিলেমিশে থাকার পথ বাতলাচ্ছেন। বলাবাহুল্য, এগুলো সব পেইড বিজ্ঞাপন। প্রতিটা বিজ্ঞাপনের দৈর্ঘ্য কম করে হলেও পনেরো মিনিট। এতা দীর্ঘ সময় ধরে বিজ্ঞাপন দেওয়ার সামর্থ্য দেখার পর এটা কারো বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় যে, এই বাবা বা তাদের প্রতিষ্ঠানের আয়-রোজগার কেমন। আর এটাও বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় যে, এই ইনকামের পুরোটাই আসছে তাদের কবজ ব্যবহার করা বোকা জনগণের পকেট থেকে। অথচ গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে স্পষ্ট বলেছেন, মানুষের সুখ বা কষ্ট তাঁর কর্মের ফল। যদি মানুষের কর্মই তার সুখ বা কষ্টকে নিয়ন্ত্রণ করে তবে বাবাদের এই কর্মকান্ডের কি হেতু? ভগবান কি তার শীষ্যদের এই কর্মকান্ড দেখতে পান? তিনি কি লজ্জায় মুখ লুকান?

একটি মিশনারী কলেজে পড়ার সুযোগ আমার হয়েছিল। নিজ অভিজ্ঞতার আলোকে মিশনারীদের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলার সুযোগ বা উৎস আমার নেই। তবে আমি দেখেছি তাদের কলেজ বা তাদের নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে তাদের মতালম্বীদের বাড়তি সুবিধা বা সুযোগ দিতে। এই মতালম্বীদের সিংহভাগই ধর্মান্তরিত। কাজেই অন্তত এটা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই যে ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণেই সংশ্লিষ্টরা এ সুযোগটা পাচ্ছেন কিংবা তাদের এ সুযোগটা দেয়া হচ্ছে। অর্থাৎ সোজা কথায় সুবিধার বিনিময়ে ধর্মান্তরকরণে উৎসাহিত করা হচ্ছে। অথচ জগতের সকল পাপী, পূণ্যবান, ধনী, গরীব নির্বিশেষে সবাইকে উদ্ধারের জন্য ঈশ্বর তার প্রিয়পুত্রকে এ ধরণীতে পাঠিয়েছিলেন। জগতের সবার পাপকে নিজের করে নিতে ক্রুশে প্রাণ দিয়েছেন। কিন্তু যীশুর উত্তরাধিকারদের বর্তমান কর্মকান্ড দেখার পর কি ঈশ্বর বলতে পারবেন তার পুত্রকে দিয়ে জগত উদ্ধারের চেষ্টাটা বা তার পুত্রের এই ত্যাগ সফল হয়েছে? আমি জানিনা ঈশ্বর কি উত্তর দিবেন। তবে পর্যবেক্ষণের আলোকে এই বিষয়ে আমার স্পষ্ট উত্তর হচ্ছে, না।
----------------------------------------------------------------------------------

ব্লগার ত্রিদীব এর এই পোস্টের (Click This Link) সাথে আমার লেখাটির ভাবগত মিল রয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৮:২৬
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×