উঠতি বয়সে পা দেওয়া মেয়েটি রোজ অবেলায় আয়নার সামনে লাজুক লাজুক মুখে কপালের মাঝে টিপ পড়ে, গাঢ় টুকটুকে লাল টিপ; ওড়নাটা টেনে ঘোমটা দেয়, অপেক্ষায় থাকে, কেউ একজন আসবে, তার ওড়না সরিয়ে গালের লজ্জাটুকু আপন করে নেবে। . উঠতি বয়সী ছেলেটি বাইক চালিয়ে চুল উড়িয়ে অপেক্ষায় থাকে, কেউ একজন আসবে; বাইকের পেছনের সীটের অধিকার নিজের করে নিতে। . নয় বছর আগে একনজর দেখেই ভালো লেগে যাওয়া মেয়েটির জন্য ছেলেটি আজও রাত জাগে,অপেক্ষায় থাকে, একদিন অলৌকিকভাবেই আবার তাদের দেখা হবে। . স্কুল পড়ুয়া ছোট্ট ছেলেটি ছুটির পর অপেক্ষায় থাকে কখন তার মা আসবে, কখন সে মায়ের কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্যান্টিন থেকে আইসক্রীম কিনে খাওয়ার বায়না করবে। . দুই বছরের ছোট্ট সামিহা মায়ের বকুনি খাওয়ার পরেও ঘুমুতে যায় না। অপেক্ষায় থাকে, কখন তার পাপা আসবে, পাপার ঘামে ভেজা বুকে লাফিয়ে উঠে কখন সে বুকপকেট থেকে ইয়া বড় ক্যাডবেরিতে কামড় বসিয়ে গাল ফুলিয়ে খাবে। . ......অপেক্ষাগুলো কি মধুর, তাই না? কে বলেছে অপেক্ষা বিষাদময়? অপেক্ষাগুলো সুন্দর, অপেক্ষাগুলো অপরুপ! . এই অপেক্ষাগুলো না থাকলে তো আমাদের জীবনটাই অচল হয়ে যেতো। সামিয়ার বাবারা ক্যাডবেরি আনতো না, কিংবা স্কুল পড়ুয়া চঞ্চল ছেলেগুলো আইসক্রিম খেতে চাওয়ার অপরাধে মায়ের মিষ্টি বকুনি খেতো না। . বেঁচে থাক এই মধুর অপেক্ষাগুলো। বেঁচে থাক অধীর আগ্রহে অপেক্ষমান মানুষগুলোর নিষ্পাপ চাহনিগুলো! বেঁচে থাক...
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১২:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



