গণতানন্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় প্রত্যেকটি সরকারদলীয় সরকারে প্রধানমন্ত্রীর পরে সর্বোচ্চ ক্ষমতার বলে বলীয়ান হোন সেই সরকারের মন্তীগন। কিন্তু বর্তমান সরকারের মন্ত্রী পরিষদের কিছু মন্ত্রী একটু বেশিই ব্যাকডেটেড কিংবা ওভার আপডেটেড। খুবই অবাক লাগে মন্ত্রীদের হুটহাট মাথায় আসা অদ্ভূত সিদ্ধান্তগুলি কোনরুপ চিন্তা ভাবনা ছাড়াই তার বাস্তবায়ন ঘটাতে চান। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো বিজ্ঞ রাজনীতিবিদ কাদের পরামর্শে যে মন্ত্রীসভায় তাদেরকে নিযুক্ত করেছিলেন সেটা বোঝা বড় দায়। বর্তমান সরকারের যতটুকু ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে তার সবটুকুই মন্ত্রীপরিষদ কিংবা উপদেষ্টা পরিষদের উদ্ভট চিন্তাধারা এবং কূটনৈতিকতার অভাবে।
গতকাল দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রধান, মাননীয় অর্থমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিলেন যে, ৫ টাকার নিচে যাবতীয় মুদ্রা বাজার থেকে তুলে নিবেন। তিনি কিভাবে সিদ্ধান্তটি নিলেন তা কি একবারও ভেবে দেখেছেন? ১-২ টাকার চকলেট-চুইংগামের কথা না হয় বাদ-ই দিলাম। হয়তো উনি এলিট সোসাইটির মানুষ হওয়ায় এগুলো চোখেই দেখেননি। কিন্তু যখন ১ কেজি চাউলের মূল্য ৩৭ টাকা হবে তখন কি করবে মানুষ? দোকানদারকে ৩৫ টাকা দিবে? নাকি ৪০ টাকা? নাকি যতক্ষণ পর্যন্ত রাউন্ড ফিগার না আসবে ততক্ষণ পর্যন্ত চাউল কিনতেই থাকবে? যাই হোক সেই সিদ্ধান্ত উনি আবার তুলে নিয়েছেন। এ জন্য তাকে সাধুবাদ জানাই।
সাম্প্রতি, মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী ঘোষণা দিলেন যে, সকল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কোন ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই ভর্তি প্রকৃিয়া সম্পন্ন করতে। সেখানেও সেই আবারো সুনির্দিষ্ট চিন্তার অভাব। আবারো তিনি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করলেন।
কিছুদিন আগে টেলিভিশনে একটা টক শো দেখছিলাম। যেখানে ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এবং মুন্নি সাহা। একজন মন্ত্রীকে যে একজন সাংবাদিক কিভাবে হেনস্তা করছে সেটা আমরা বুঝলেও উক্ত মন্ত্রী হয়তো তা বোঝার মতো উপলব্ধির বোধদয় তার মধ্যে ঘটেনি। উনাকে মুন্নি সাহা একাধারে নাট্যকার, গায়ক, নৃত্যশিল্পী বানাচ্ছে আর উনি তাতে গর্ব করে চলছেন।
কতটুকু কূটনৈতিক জ্ঞানের অভাব থাকলে একজন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জনসম্মুখে মুখ ফসকে বলে দিতে পারেন যে 'ভাইভাতে পাস করানোর দ্বায়িত্ব আমাদের।' আরো কিছু মন্ত্রীর কথা হয় না-ই বললাম। কালো বিড়াল কিংবা পিলার নাড়াচাড়া জাতীয় রাজনৈতিক ভাষ্য রাজনীতির খাতায় আবার প্রত্যাবর্তন না ঘটুক সেটাই কাম্য।
সর্বোপরি বলতে গেলে, যারা দেশটাকে পরিচালনা করে তাদের চিন্তাধারা, মন-মানুষিকতা এবং জ্ঞানের গভীরতা যদি এমনটা হয়ে থাকে, তবে সরকার কিভাবে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে? প্রবাদে আছে- 'পুরাতন চাল ভাতে বাড়ে।' মানলাম কথাটা। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে যে মস্তিস্কের অষাড়তা বৃদ্ধি পেতে থাকে সেটাও তো বাস্তবিক সত্য। তাই বলতে চাই, সরকারকে প্রবীনতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা না করে নবীনদের হাতে রাস্ট্র পরিচালনায় উদ্ভূদ্ভ করুন। তবেই রুপকল্প ২০২১ বাস্তবায়ন সম্ভব।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


