নিরন্তর অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে, এই ধরণের মানুষ আমাদের চারপাশে মেলা আছে।
দোকানে সদাই কিনতে গেলে যে লোকটার মনে হয়, দোকানি তাকে গুরুত্ব না দিয়ে অন্য ক্রেতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। কিংবা রাস্তায় হাঁটার সময় মনে একটা শংকা কাজ করে, “সবাই কেমন করে যেন আমার দিকে তাকাচ্ছে, নিশ্চয়ই বাজে দেখাচ্ছে আমাকে!”
সবচেয়ে বড় সংকট হয় জমজমাট কোন আড্ডায়। ওই লোকটা ভাবে, তার কথা কেউ তেমন শুনছেনা, তার দিকে কেউ খেয়াল করছেনা!
মানব চরিত্রের বড় জটিল কিন্তু স্বাভাবিক একটা দিক হচ্ছে এই অস্তিত্ব সংকটে ভোগা। মজার বিষয় সমাজের নিম্ন স্তরের মানুষ কিন্তু এ ধরণের কোন ঝামেলায় পড়েনা। উচ্চবিত্তও না। এ সমস্যার মূল ভুক্তভোগী হল মধ্যবিত্ত কিংবা সমাজের নিম্ন মধ্যবিত্তরা।
হঠাৎ এইসব নিয়ে কেন লিখছি? লিখছি কারণ লিখতে বাধ্য হচ্ছি। ফিওদর দস্তেভয়েস্কির “নোটস ফ্রম দি আন্ডারগ্রাউন্ড” পড়া শেষ করে কিভাবে বসে থাকা যায়? দুকলম যে লিখতে শিখেছে, সে লিখবেই। যে লিখতে পারছেনা, সে থম মেরে বসে থাকবে পর পর দুদিন!
নিয়তির সন্তান মানুষ মাঝে মাঝে নিজ হাতে নিজের সর্বনাশ ডেকে আনে। আপন দুর্ভাগ্য সে খাল কেটে কুমির আনার মতো নিজের জীবনে ডেকে আনে, সর্বনাশা মনের বিচিত্র সব অনুভবে জর্জরিত হয়েই। তাহলে দুঃখে জর্জরিত মানুষ শেষ পর্যন্ত অভিযোগের আঙুল কার দিকে তুলবে? নিজের দিকে কি আঙুল তোলা যায়?
ব্যক্তিত্বের দ্বন্দে ভুগতে ভুগতে তখন সে নিজেকে ভাবতে থাকে অন্ধকার গর্তে বাস করা ইঁদুরের মতো। নিজের গল্পগুলো তখন সে বলতে থাকে ওই গর্তে বসে বসেই!
বইটা দুটো ভাগে ভাগ করা। প্রথম পর্ব “ভূগর্ভবাস” এ নামহীন এক সরকারি কর্মচারি নিজের মনের ভিতর চলতে থাকা চিন্তা ভাবনা আপনার সামনে উগরে দেবে। ছোট্ট একটা উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। নিজের বক্তব্য সম্পর্কে তার মতামত হলো, আপনার দাঁতে ব্যাথা হলে প্রথমে আপনি অসম্ভব যন্ত্রণা টের পাবেন, পেতে পেতে এক পর্যায়ে কিন্তু আপনি ওই অসম্ভব যন্ত্রণা থেকেই আনন্দ খুঁজে পাবেন!
বইয়ের দ্বিতীয়াংশ হলো “তুষারপাতের গল্প”। সেই সময়ের গল্প যখন এ গল্পের নামহীন নায়কের বয়স ২৪। ওই যে দাঁতে ব্যাথার উদাহরণ দিলাম, গল্পটা দাঁড়িয়ে যাবে ওই উদাহরণের উপরেই। কি সেই বিচিত্র নিয়তির গল্প?
জানতে পড়ে ফেলা যেতে পারে ফিওদর দস্তেভয়েস্কির “নোটস ফ্রম দি আন্ডারফ্রাউন্ড”। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে বইটার চমৎকার অনুবাদ বেরিয়েছে “অজ্ঞাতবাসের পত্র” শিরোনামে। সাবলিল আর সুপাঠ্য অনুবাদ করেছেন খন্দকার মাজহারুল করিম। অনেকের মতেই অস্তিত্ববাদের উপর লেখা প্রথম উপন্যাস এটিই।
আর দস্তেভয়েস্কি সম্পর্কে নতুন করে কি বলবো? রাশিয়ার এই মহান ঔপন্যাসিক সম্পর্কে আমাদের গল্পের যাদুকর হুমায়ুন আহমেদ বলেছিলেন, “পৃথিবীর তাবৎ ঔপন্যাসিক যে লোকটির কোটের পকেট থেকে বেরিয়েছেন, তিনি হলেন ফিওদর দস্তেভয়েস্কি!”
দস্তেভয়েস্কির নোটস ফ্রম দি আন্ডারগ্রাউন্ডঃ আমাদের ভূগর্ভবাসের বয়ান
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
পাহাড় কাউকে জয়ী হতে দেয় না

আমরা প্রায়ই বলি, অমুক এভারেস্ট জয় করেছেন, তমুক কে-টু জয় করেছেন, অমুক অন্নপূর্ণা জয় করেছেন। শব্দটি এতটাই প্রচলিত যে আমরা আর ভাবিই না—আসলে কি পাহাড়কে জয় করা যায়?
আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন
৩৫ হাজার টাকা বিনিয়োগে ৩ লাখ ২৭ হাজার টাকা ফেরতের প্রলোভন!

মাইক্রোপ্লাস্টিক: অদৃশ্য প্লাস্টিক কীভাবে আমাদের খাবার ও শরীরে ঢুকছে?

মাইক্রোপ্লাস্টিক (Microplastic) হলো খুব ছোট প্লাস্টিকের কণা। সাধারণভাবে ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এর থেকেও অনেক ক্ষুদ্র কণা আছে—সেগুলোকে ন্যানোপ্লাস্টিক বলা হয়। এগুলো এত ছোট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন
এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)
এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন
জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।