somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গোলাম আযম করেছিল ৭ কোটি মানুষের সাথে বেইমানী আর এরা করেছে প্রায় ১৬ কোটি মানুষের সাথে।

১৬ ই জুলাই, ২০১৩ দুপুর ১২:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নিজে সরাসরি মুক্তি যুদ্ধ করেন নি, মুক্তি যোদ্ধাদের সাহায্য করেছিলেন হুকুম আলি ব্যাপারী। বয়সে কিশোর হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধারা হুকুম আলি কে দিয়ে তথ্য আদান-প্রদানের কাজ করিয়ে নিতেন, শখ করে তাকে “লিটল মাউথ গ্রেনেড” বলে ডাকতেন যোদ্ধারা।

হুকুম যেই টিমে কাজ করতো সেখানে অনেক মুক্তিযোদ্ধাই পড়ালেখা জানতেন না, হুকুম তখন ক্লাস সিক্সে পড়া ছাত্র। মুক্তিযোদ্ধাদের উদেশ্য করে যেই বুলেটিন গুলো ছাপা হত, হুকুম সেগুলো পুথি পাঠের মত করে সকলের মাঝে বসে পড়ে শোনাত।

এই বুলেটিন পড়তে পড়তে কয়েকটা নাম হুকুমের মাথায় গেথে যায় টিক্কা খান, ইয়াহিয়া খান, রাও ফরমান আলি, গোলাম আযম। কোন লেখায় যখন গোলাম আযমের নাম আসতো তখন হুকুম আলি কিছুক্ষণ থেমে বড় নিঃশ্বাস নিয়ে বলতোঃ গোলামের বাচ্চা গোলাম আযম বলেছেন “এই সব বিশৃঙ্খলাকারী ভারতের এজেন্টদের যেকোন মুল্যে প্রতিহত করায় ধর্ম প্রাণ মুসলমানদের একমাত্র ঈমানী দায়িত্ব”!

সাথে সাথে সকলে গোলাম আযম বেঈমান, গোলাম আযম বেঈমান ধ্বনি তে এলাকা প্রকম্পিত করে তুলতো। হুকুম কোনভাবেই মেনে নিতে পারতো না একটা মানুষ তার মাতৃভূমির সাথে এতোটা বিশ্বাসঘাতকতা কিভাবে করতে পারে! বুলেটিনে একেকদিন গোলাম আযমের বিভিন্ন বিবৃতির অংশ বিশেষ পড়ে পড়ে তার প্রতি এক ধরনের ঘৃণা বোধ চরম পর্যায়ে চলে যায়।

যুদ্ধ শেষ হয়। যুদ্ধে এক হাত এবং এক পা হারায় হুকুম আলি। মুক্তিযোদ্ধাদের সকল জায়গায় বীরের খেতাবে ভূষিত করা হতে থাকে। যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদের কর্মের ব্যবস্থা করা হতে থাকে। পঙ্গু হুকুম আলির কোন ব্যবস্থায় হয় না।

রুটি রুযী নিয়ে যখন চরম দুশ্চিন্তায় ছিল হুকুম আলি তখন একদিন কবিরাজ হারুন ব্যাপারীর সাথে পরিচয় ঘটে তার। কবিরাজ হিসেবে হারুন ব্যাপারীর এলাকা জুড়ে নাম ডাক তখন তুঙ্গে। কিছুদিনের মধ্যেই তাদের মধ্যে তুমুল সখ্যতা তৈরি হয়।
একদিন সুযোগ বুঝে হারুন ব্যাপারীর কাছে হুকুম আলি জিজ্ঞেস করেঃ আচ্ছা, আপনে কেমনে কবিরাজী করেন?
--বিষে বিষক্ষয়!
--একটু বুঝাইয়া বলবেন?
--রোগ বালা সারাবার জন্য নতুন রোগবালা আমদানি করি।
--উস্তাদ! বুঝি নাই!
--ধর, কারো যদি পেটে অত্যধিক পিড়া হয় তবে ইসলামের শত্রু আবু জাহেলের নাম বিশবার কাগজে লিখে সেই কাগজ মাদুলির ভীতরে ঢুকিয়ে রোগীর গলায় বেঁধে দেই। এতে কি হয়? আবু জাহেল এবং ঐ পিড়া যুদ্ধ করে। আবু জাহেল যেহেতু রোগের চেয়েও বড় হারামি সেহেতু রোগ আবু জাহেলের কাছে পরাজিত হয়। রোগী সুস্থ হয়ে মাদুলি খুলে ফেলে।

এই কথা শোনার পর থেকে হুকুম আলি নিজেও কবিরাজী শুরু করে। সেই ৭২ সাল থেকে আজ পর্যন্ত, বিভিন্ন রোগের সু চিকিৎসা দিয়েছে হুকুম আলি। যত বড় রোগই হোক না কেন, ওষুধ একটাই! গোলাম আযমের নাম বিশবার লিখে মাদুলি ঝুলিয়ে দেয়া, রোগ ভয়তে পালিয়েছে।

তবে আজ হুকুম আলির মন বেজায় খারাপ। গোলাম আযমের অপরাধের শাস্তি হিসেবে জেল দেয়া হয়েছে, ফাঁসি নয়! তার মানে, গোলাম আযম অতবড় বেঈমান না যতবড় বেঈমান হুকুম আলি ভেবে এসেছিলে।

দিন দিন যেই হারে নিত্য নতুন রোগ বাড়ছে তাতে গোলাম আযমে বোধ হয় আর কাজ হবে না, নতুন কারো নাম খুঁজতে হবে।

এই মুহূর্তে তার কয়েকজনের নাম মাথায় এসেছে, যারা বেইমানীর দিক দিয়ে গোলাম আযমকে ছাপিয়ে গিয়েছে। গোলাম আযম করেছিল ৭ কোটি মানুষের সাথে বেইমানী আর এরা করেছে প্রায় ১৬ কোটি মানুষের সাথে।

এদের নাম মাদুলিতে ভরলে, রোগ নিশ্চয় ভয়ে পালাবেই তা সে যতবড় ডিজিটাল রোগই হোক না কেন!


৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=মন বাগানে ফুটে আছে রঙবাহারী ফুল=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:০৫



তুমি তো আর করলে না যাচাই, মন আমার মন্দ কী ভালো,
প্রেম কথনে ভরালে না মন, ভালোবেসে করলে না মনঘর আলো;
মনের শাখে শাখে ঝুলে আছে মধু মঞ্জুরী ফুল,
কী মুগ্ধতা ছড়িয়ে পাপড়ির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ শবে বরাত!!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২০



ইসলামি বিশ্বাস মতে,
এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে বিশেষ ভাবে ক্ষমা করেন। ফারসি 'শবে বরাত' শব্দের অর্থ ভাগ্য রজনী। দুই হাত তুলে প্রার্থনা করলে আল্লাহ হয়তো সমস্ত অপরাধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

“Epstein “ বুঝতে পারেন ! কিন্তু রাজাকার,আলবদর,আলশামস আর আজকের Extension লালবদর বুঝতে পারেন না ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:০৮

মূলত এটি একটি ছবি ব্লগ। এক একটি ছবি একটি করে ইতিহাস। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কস্টের অধ্যায়।

এপস্টেইন ফাইল দেখে আপনারা যারা বিচলিত, জেনে রাখুন ভয়াবহ আরেক বর্বরতা ঘটেছিলো ৭১এ এদেশেই, আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:০১

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

ছবি, সংগৃহিত।

সারসংক্ষেপ

রমজানের রোজা ইসলামের অন্যতম মৌলিক ইবাদত। সাধারণ মুসলিম সমাজে রোজা ভঙ্গের ধারণা প্রধানত পানাহার ও যৌন সংসর্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অথচ কুরআন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×