somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুক্তিযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা - পর্বঃ১

০১ লা এপ্রিল, ২০০৭ দুপুর ১:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৯৭১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্থানের নিরস্ত্র জনতার উপর ঝাপিয়ে পড়ে একটা সুসজ্জিত ও পেশাধারী পাকিস্থানী সেনাবাহিনী। ২৫শে মার্চের গভীর রাত থেকে শুরু হয়ে ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত চলে বর্তমানের বাংলাদেশ নামক ভুখন্ডের সাধারন মানুষের উপর হত্যা-ধর্ষনসহ একটা পরিকল্পিত গনহত্যা এবং বুদ্ধিজীবি নিধনযজ্ঞ অভিযান। এটা পরিচালিত হয় পাকিস্থানী সেনাবাহিনী এবং বাঙালীর মধ্যে একদল দালাল - রাজাকার, আলবদর, আল শামস এবং শান্তি কমিটি নামক সহযোগী বাহিনী তৈরীর মাধ্যমে। সেই গনহত্যা আর নির্যাতনে চিহ্ন পাওয়া যাবে না এমন কোন স্থান বাংলাদেশে অবশিষ্ট নেই। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে এবং পরবর্তীতে দেশ - বিদেশের বিভিন্ন সংস্থা এবং মিডিয়া তাদের নিজস্ব হিসাবে মতে এই গনহত্যার নিহতদের সংখ্যার সর্বোচ্চ তিন মিলিয়ন হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই বিবেচনায় ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশে ৩ মিলিয়ন বা ত্রিশ লক্ষ শহীদের কথাটা প্রচলিত হয়ে আসছে। কিন্তু দীর্ঘ এই নয় মাসের গনহত্যায় কত মানুষ জীবন দিয়েছিলেন এবং পাকিস্থানী সেনাবাহিনী আর রাজাকারদের হাতে সম্ভ্রম হারিয়ে ছিলেন কত নারী সেটা গননা করা হয়নি এবং যথাযথ ভাবে পরিসংখ্যানের আলোকে লিপিবদ্ধ করা হয়নি বলে অনেক মহল থেকে এই বিষয়ে বিতর্ক তোলা হয়।

যারা এই বিষয়ে বিতর্ক সুষ্টির প্রয়াস নেয় তাদেরকে দুই শ্রেনীতে বিভক্ত করা যেতে পারে। প্রথম শ্রেনীতে আছে - ৭১এর পরাজিত রাজাকার-আলবদর এবং দালালরা - যারা বাংলাদেশ নামক স্বাধীন দেশে জন্মের বিরোধীতা করেছিলো এবং আজও তার বিরুদ্ধে কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৭৫ সালের মুক্তিযুদ্ধের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার পর পরিকল্পিত ভাবে ুপ্রপাগান্ডাচ্র মাধ্যমে। এরই অংশ হিসাবে বাংলাদেশের একমাত্র ইলেকট্রনিক মিডিয়া বিটিভিকে চতুরতার সাথে ব্যবহার করা হয়। ১৯৭৫ সালের পর বিটিভি এবং বাংলাদেশ রেডিওতে ুপাকিস্থানী সেনাবাহিনীচ্ এর পরিবর্তে ুহানাদার বাহিনীচ্ শব্দগুচ্ছ ব্যবহারসহ রাজাকার এবং দালালদের দৃশ্যের আড়ালে নিয়ে যাওয়া হয়। অন্যদিকে স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী নেতৃবৃন্দ যেমন শেখ মুজিব, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপটেন মনসুর আলী, তাজউদ্দিন আহম্মদকে দৃশ্যপট থেকে আড়ালে সড়িয়ে রাখা হয়। সাথে সাথে মুক্তিযুদ্ধের শীর্ষস্থানীয় সামরিক কর্মকর্তা যেমন জেনারেল ওসমানী, আব্দুর রব, কে এম শফিউল্লাহ, এ কে খন্দকার, খালেদ মোশাররফের মতো নেতাদের পর্দার অন্তরালে পাঠিয়ে একজন সেক্টর কমান্ডার জিয়াউর রহমানকে শীর্ষস্থানে উপস্থানের প্রয়াসে ইতিহাসের একটা শর্টকার্ট তৈরী করা হয়। এগুলো ছিল মুক্তিযুদ্ধের পরাজিতদের ুপ্রপাগান্ডা ওয়ারেরচ্ অংশ বিশেষ। বিশেষ বিশেষ দিবসে দেখানো হতো এক অদ্ভুদ ধরনের নাটক। সেখানে দেখানো হতো হয়তো ১৯৭১ সালের একটা দৃশ্য যেখানে কিছু মুক্তিযোদ্ধা চরিত্রে অভিনয়কারী মানুষ বর্তমানে প্রচলিত ুসবুজ জমিনে লাল সূর্যচ্ পতাকাটি নিয়ে ুবাংলাদেশ জিন্দাবাদচ্ শ্লোগান দিচ্ছে। যেখানে প্রকৃত ঘটনা ছিল ১৯৭১ সালের পতাকা ছিল ুসবুজ জমিনের ভিতরে লাল সূর্য্য এবং তার ভিতরে হলুদ রংগের বাংলাদেশের মানচিত্রচ্ এবং শ্লোগান ছিল ুজয় বাংলাচ্। এখন হয়তো আমাদের অনেকের ুজয় বাংলাচ্ শ্লোগান দিতে দ্বিধা হয় - এটাকে একটা দলীয় শ্লোগান হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। যদি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কোন ঘটনা দেখানো হয় এবং সেখানে জয় বাংলা শ্লোগানটা না থাকে তবে সেটা হবে সত্যের অপলাপ এবং সুস্পস্ট ইতিহাস বিকৃতি। অন্যদিকে যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসাবে নিজেদের পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি - তারা ুজয় বাংলাচ্ শ্লোগানটার বিষয়ে একটু ভেবে দেখতে পারেন। ৭১ এর হাজার হাজার মুক্তিসেনা ুজয় বাংলাচ্ উচ্চারন করেই উদ্দীপ্ত হয়েছে এবং জীবন দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছে। সুতরাং সেই আত্নদানকারী বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্যেই আমাদের এই শ্লোগানটাকে উচ্চারন করা উচিৎ।

(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ষো-ল-ব-ছ-রঃ আর কি বর্ষপূর্তি পোস্ট লেখা হবে?

লিখেছেন আমি তুমি আমরা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:০৬



অবাক হয়েই চেয়ে দেখি
কখন এমন হলো?
এইতো আমার ব্লগবাড়ীটার
বয়স হল ষোল।

দুরুদুরু বুকে তখন
খুলেছিলাম ‘নিক’।
ফেলতে পলক, পেরিয়ে গেল
ষোল বছর ঠিক।

ফেসবুক আর ইউটিউবের
আছড়ে পরে ঢেউ।
সামুপাড়ায় এখন কি আর
উঁকি মারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কটা দুলাল

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪১



বাল্য বন্ধু শফির ফোন পাইলেই টেনশনে থাকি। কোন একটা দুঃসংবাদ নিশ্চিত। আর সেটা যদি হয় সকাল বেলা তবে তো কথাই নেই। যদিও আমাদের মধ্যে আন্তরিকতার ঘাটতি নেই মোটেও তবুও... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন পর্ব -১

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৮ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২



(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

'তুমি আমাকে এটা কোন ধরনের হোটেলে নিয়ে এলে?'

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

এ লেখাটি ম্যাচিউর পাঠকদের জন্য। সে কারণে reader discretion is advised, অর্থাৎ, অস্বস্তি লাগলে পড়বেন না।

ব্যবসায়িক কাজে চায়না গেলেন হাজি মামুন (ছদ্মনাম)।

পঞ্চাশোর্ধ বয়সের সংসারী মানুষ তিনি। ঘরে পরহেজগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২২



আজ শুক্রবার। শুক্রবার মুসলমানদের জন্য বিশেষ একটি দিন।
আজ বাংলা আষাঢ় মাসের ৫ তারিখ। যদিও বর্ষাকাল। আজ আকাশে মেঘ নেই। বরং রোদ উঠেছে। রোদের তাপ ভালোই। শাহেদ পথে বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×