somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ত্রিভূজের "ছাগু" হয়ে উঠা - পর্ব ২

০১ লা মে, ২০০৭ রাত ৯:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছাগু মশাই আরেকটা লেখা ছেড়েছেন। পড়ে বিষয়টা অনেকটা পরিষ্কার হলো একজন মানুষ কিভাবে "ছাগু" হয়ে উঠে ধীরে ধীরে - কিন্তু নিশ্চিত ভাবে।

এখানে একটা কথা বলা জরুরী - আমি ব্যক্তিগত জীবনে গালাগালি তেমন একটা পছন্দ করি না। কারন গালাগালি হলো দূর্বলের অস্ত্র। ছোটকালে যখন মারামারিতে কোন ছেলে হেরে যেত তখন গালাগালি দিয়ে ভো দৌড়। কিন্তু "ছাগু" শব্দটাকে গালাগালি মনে হয়নি - মনে হয়েছে শব্দ ভান্ডারে একটা নব সংযোজন - যেমনটা হয়েছে রাজাকার শব্দটা।

যাই হোক। একজন মানুষ ছাগু হয় কিভাবে তার বিষয়ে একটা রিসার্চ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি গতকাল। গতকালের প্রথম পর্বটা ছিল কিছুটা এলোমেলো - কথা দিচ্ছি এর পর থেকে গুছানো লেখা থাকবে পাঠকদের সুবিধার্থ।

এবার কাজের কথায় আসি। দেখলাম ছাগু উপাধীধারি ত্রিভূজ সর্বশেষ লেখায় মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে এটাকে ব্যবসায়িক বা হালকা ব্যবহারে কথা বলেছে। এটা ছিল একটা ডেসপারেট এটেম্ব - যা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের চিন্তা ভাবনাকে কিছুটা বিপথে ঠেলে দেওয়া যায়।

এখানে লক্ষ্যনীয় যে, ত্রিভুজের "ছাগু" হওয়ার পিছনে অনেকগুলো কারনে কাজ করেছে - যা পরবর্তীতে বলা হবে। এখানে একটা কারনের বিষয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করবো।

কারন - সংগদোষে লোহা জলে ভাসে।

লক্ষ্য করলে দেখা যাবে ত্রিভূজের লেখা পোষ্ট হওয়ার পর পরই একদল তোষামোদকী দ্রুত লগইন হয়ে পিঠচাপড়ানো ধরনের কমেন্ট দিয়ে তাকে উৎসাহিত (ত যুক্ত করা যাচ্ছে না) করে। ত্রিভূজ ধীরে ধীরে সেই স্তবকদের তোষামুদে ভেসে গিয়ে নিজেকে আবিষ্কার করেছে একটা "খোয়ারে" যেখানে চারপেয়ে ছাড়া কোন প্রানী নেই।

এই রকমের এক তোষামুদকারী হলেন - আসরাফ রহমান। দেখুন তার কমেন্ট -

"আমাদের দেশের কিছু রাজাকার বাদে সকল মানুষ যখন খেয়ে না খেয়ে যুদ্ধ করেছে, মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছে.."

খুবই সত্য কথা। তারপর ইতিহাস রাজাকার কুকীর্তি এবং মুক্তিযুদ্ধাদের মহত্ব নিয়ে সদর রাস্তা ধরে ১৬ই ডিসেম্বরের বিজয়ের দিকে এগিয়ে যাবে। কিন্তু আসরাফ রহমানদের রাস্তা সেটা না - তারা ইতিহাসের কানাগলিতে সবাইকে নিয়ে যাবার চেষ্টায় রত - সেখানে সে ভারতে অবস্থানকারী ছাত্রলীগ আর আওয়ামীলীগের নেতারা কি করেছে সেই বিষয়ে একটা বর্ণনা দেবার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সেটা তো ইতিহাসের মূল রাস্তা নয়। যুদ্ধে হয়েছে বাংলাদেশে। পক্ষে ছিল মুক্তিযুদ্ধারা আর বিপক্ষে পাকি সেনাবাহিনী তাদের সহযোগী ছিল রাজাকার আল বদর আর আল শাসম বাহিনী। ইতিহাসটা এগোবে ১৬ই ডিসেম্বরে দিকে এবং ১৪ই ডিসেম্বর পাঠকরা হোচট খাবে এটা জেনে যে পরাজয় নিশ্চিত জেনে রাজাকারা বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করার জন্য রায়েরবাজারে একটা গনহত্যা করেছে - যা ছিল ৯ মাস চলা গনহত্যার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এবং অপূরনীয়।

কলকাতার হোটেলে কে মদ খেয়েছে সেটা ইতিহাস নয় বা সেটা বাংলাদশের ৯ মাস ব্যাপী সংঘটিত গনহত্যার সাথে সম্পৃক্ত নয় বিধায় সেটা রাজাকারদের জন্যে কোন স্বস্থির কারন হবে না। কিংবা বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ৯ মাস ব্যাপী সংগঠিত গনহত্যার দায়ও ওদের উপর পড়বে না।

আমাদের কথাটা সুষ্পষ্ঠ এবং পরিষ্কার - আশরাফ রহমানের লেখা উপরের লাইনের উল্লেখিত "রাজাকার" দেরই বিচার চাই আমরা - যারা পাকিস্থানী বাহিনীকে গনহত্যার সহায়তা করেছে - আমাদের মা-বোনদের পাকিদের ভোগের সামগ্রী হতে সহায়তা করেছে - যারা বুদ্ধিজীবিদের হত্যায় জড়িত ছিল। পিরিয়ড।

আর ত্রিভূজ ইতিহাসের সদর রাস্তা ছেড়ে আশরাফ রহমানের হাত ধরে অন্ধগলিতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে কিছু মানুষের মদ্যপানের দৃশ্য মুগ্ধ হয়ে বাংলাদেশের ভয়াবহ গনহত্যাকে দেখতে ব্যর্থ হন।

এখানেই একজন ত্রিভূজের "ছাগু" হয়ে যাওয়া দুঃখের সাথে দেখতে হয়।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মে, ২০০৭ রাত ১১:৫৬
১২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এই সমাজ- ৭২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৩



দেশের সরকার অযোগ্য অদক্ষ হলে, জনগনের শান্তি থাকে না।
দেশের জনগন সারাদিন কাম কাজ করে। অফিসে নানান রকম যন্ত্রনা পোহায়। নানান জক্কি ঝামেলা পোহাতে হয়। অফিসে থাকে না... ...বাকিটুকু পড়ুন

তেল গ‍্যাস অনুসন্ধান আর বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে, সুদি মহাজন আর খাম্বা/কার্ড সরকারের মিথ্যাচারের জবাব॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮



২০০৮-২০২৪ এই ১৬ বছরকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন "chronicle of shoddy gas exploration" - মানে গ্যাস অনুসন্ধানের ধীরগতির ইতিহাস।

২০০৮-২০২৪ এর মূল চিত্র

< Between 2008 and 2024, bureaucratic interference... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল ইশরাত মঞ্জিল ধ্বংসের আসল খলনায়ক কে?

লিখেছেন মৌন পাঠক, ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:১১

কথায় কথায় বামপন্থী, সেক্যুলারদের গালি দেয়া হচ্ছে ইশারাত মঞ্জিলের ইতিহাস মুছে ফেলার জন্য।

কিন্তু দালিলিক ইতিহাস হলো— ১৯৫১-৫২ সালে মূল ইশারাত মঞ্জিল বিল্ডিংয়ে কোনো হিন্দু, বামপন্থী বা আওয়ামী লীগার বুলডোজার চালায়নি!

তাহলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবননগর

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪১



গ্রাম দেখতে কোলাহলের বাইরে গিয়ে দেখি-
কোথাও নেই একরত্তি গ্রাম!
বিলুপ্ত হয়েছে যাবতীয় সবুজ সুন্দর;
সর্বত্র বিস্তার লাভ করেছে কংক্রিটের বন!
ভ্রমণক্লান্তিতে খুব তৃষ্ণার্ত হয়ে-
জলপানাঙ্ক্ষা জানাতেই পেলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ নেপালের চেয়েও ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:২৬

বাংলাদেশ নেপালের চেয়েও ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।



বাংলাদেশে যদি একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প বা বড় ধরনের নগর দুর্যোগ আঘাত হানে, তাহলে দেশটি নেপালের অভিজ্ঞতার চেয়েও বহুগুণ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×