সকালে বাংলানিউজ২৪.কম এ খবরটা দেখে তেমন বড় ধরনের বিকার হলো না। কিছুক্ষন পর আবার পড়লাম - ভাবলাম কেন তেমন চিন্তা হচ্ছে না! অবাক করার মতো বিষয় - দেশে একটা ছোট্ট ঘটনা প্রবাসীদের বড় ভাবায় - কিন্তু এটা তেমন ভাবাচ্ছেনা কেন?
কারনটা হয়তো এমন যে, যারা এটা করেছে তারা আসলে তাদের উদ্দেশ্য সাধনে ব্যর্থ হয়েছে?
বাংলাদেশে আজ আমরা যে জঙ্গীবাদের কার্যকলাপ দেখছি - সেটা হলো দীর্ঘ এক প্রক্রিয়ার শেষ পর্ব মাত্র। মূল পর্বটা শেষ হয়ে গেছে বাংলাভাইয়ের ফাঁসীর সাথে সাথে। এর শুরু হয় মূলত সোভিয়েত ইউনিয়নের আফগান দখল কালীন সময়ে। ৮০ দশকের ইনকিলাবের যদি কারো কালেকশান থাকে তাতে দেখবেন কিছু ছোট ছোট বিজ্ঞাপন - "উচ্চ শিক্ষার্থে পাকিস্থান যাত্রা" - ছবিতে দেখা যাবে একজন শত্রুমন্ডিত তরুন মাথায় টুপি - পড়তে যাচ্ছে করাচী বা লাহোরে। তাদের জন্যে ফ্রী বাসট্রিপ সহ বনভোজনের আয়োজন করতো পাকিস্থানী গোয়েন্দা সংস্থা - সেখানে ৩/৪ দিনের কর্মসূচীতে অস্ত্রপরিচালনা ও বোমা বানানোর ট্রেনিং দেওয়া হতো।
৯/১১ এর পর আমেরিকান বোমার তন্ডবে তালেব এলেমরা দেশে ফিরে আসার পর শুরু করেছে একটা কর্মকান্ড। এখানে সরকারে উদাসীনতা বা পরোক্ষ মদদ আজ সবার জানা। তাদের হামলার টার্গেট দেখেই বুঝা যাবে কারা তাদের সমর্থন দিয়েছে। শুনা যায় বাংলাভাই নাকি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বড় ছেলেকে মাতুল বংশীয় আংকেল হিসাবে পরিচয় দিতো। কয়েকটা মামলাও হয়েছে বেশ কিছু প্রভাবশালী মানুষের বিরুদ্ধে - যারা জঙ্গীবাদের স্পন্সর ছিলেন বলে অভিযোগ আছে।
এখানে জঙ্গীবাদ সম্পর্কে কিছু বলা দরকার। বাংলাদেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য জংগীবাদের জন্যে একটা উর্বর ভূমি হিসাবে বিবেচিত হয়। যার প্রমান মিলে সর্বহারা থেকে প্রধান দলগুলোর আন্দোলনের চুড়ান্ত মুহূর্ত থেকে - যখন বোমা-গুলিই হয় তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের একমাত্র পথ হিসাবে বিবেচিত হয়। জঙ্গীদের সাফল্যের সম্ভাবনা নির্ভর করে মূলত জনসম্পৃক্ততার উপর - সেই কারনেই জঙ্গীত্ব তখনই সফল হয় যখন টার্গেট গ্রুপটা হয় জনবিচ্ছিন্ন - উদাহরন ইরাক। অন্যদিকে যখন পুরোজনগোষ্ঠীকে টার্গেট করে কোন গোষ্ঠী তাদের এজেন্ডাকে বাস্তবায়নের জন্যে চরম পন্থা অবলম্বন করে - স্বাভাবিক ভাবে তারা ব্যর্থ হয়।
জঙ্গীবাদ মূলত তাদের সাফল্যের বাহন হিসাবে ব্যবহার করে "আতঙ্ক"কে। যখন তাদের কোন কর্মকান্ডে জনসাধারন আতঙ্কিত হয় - সেখানেই এরা সফল হয়। কিন্তু প্রতিপক্ষ যখন সাধারন মানুষ - তখন সাধারন মানুষ ঐক্যবদ্ধ ভাবে বিষয়টার উর্ধে উঠে যায় এবং "আতঙ্ক" তখন গৌন হয়ে পড়ে (উদাহরন রমনার বর্ষবরণ অনুষ্ঠান) -ফলে জঙ্গীদের কর্মকান্ড অর্থহীন হয়ে যায়।
সবশেষে বলা যায় - বাংলাদেশে জঙ্গীবাদ বা যে কোন চরম পন্থা কখনই সফল হবে না। সময় সময় এরা অনাসৃস্টি তৈরী করবে এবং ক্ষনিকের জন্য খবরের শিরোনাম হবে।
তাহলে দেখা যাচ্ছে - বাংলাদেশে জঙ্গী কর্মকান্ড থাকবে - ছিলও। সর্বহারা থেকে শুরু করে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবির সবাই একই গোত্রের দল। কিন্তু সাধারন মানুষ এটাকে প্রতিরোধ করতে শিখেছে বলেই এরা ম্রিয়মান।
এখানে সরকারের করনীয়ও বেশ গুরুত্বপূর্ন। প্রথম কাজ হলো মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক না ছড়ায় সেটা লক্ষ্য রাখা। মিডিয়া এখানে একটা ভুমিকা রাখবে ( বাংলাদেশের মিডিয়া এখানে এ প্লাস পাবে) আর দরকার একটা দক্ষ ও প্রশিক্ষিত গোয়েন্দা বাহিনী যারা মগবাজারে বসে মুরগীর পালক দিয়ে কান না চুলকিয়ে জঙ্গীদের থেকে এগিয়ে থাকবে।
বাংলাদেশের সাধারন মানুষ বন্যা, খরা, যুদ্ধের মতো কঠিন দূর্যোগের মোকাবেলার মাধ্যমে একটা সাহসী জাতি হিসাবে বেড়ে উঠেছে - সেখানে কতিপয় বিপথগামী চরমপন্থীকে মোকাবেলায় তারা সফল হবে - এটা আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মে, ২০০৭ ভোর ৪:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



