যখনই কোন ধর্মীয় অনুভুতি সহ লেখা পড়ি তখন প্রায়শই অবাক হই এই ভেবে যে - লেখকরা রাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং ধর্ম বিশ্বাসটাকে এক করে ফেলে।
প্রথমেই আসি রাষ্ট্র সম্পর্ক। রাষ্ট্র বিজ্ঞানে রাষ্ট্রের সংজ্ঞা নিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। এখন বিশ্বায়নে প্রভাবে রাষ্ট্র ক্রমশ তার পরিধি সংকুচিত করছে। পশ্চিমা বিশ্বের কথাই ধরা যাক - সেখানে রাষ্ট্র এখন সামাজিক ইস্যুতে তাদের নিয়ন্ত্রন ছেড়ে দিচ্ছে। যেমন গে রাইট বা আত্নহরনের মতো আইন করে রাষ্ট্র মানুষকে তাদের উপর ছেড়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে অর্থনৈতিক বিষয়েও রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রন ক্রমশ সংকুচিত হয়ে - সরকার একটা কর্পোরেশনে রূপান্তরিত হচ্ছে । সেখানে সরকারের আয় - ব্যয় অনেকটা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে মতোই বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক বা অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমশ মুরব্বিতে রূপান্তরিত হয়ে রাষ্ট্রকে সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তে একটা লাভজনক প্রতিষ্টানে পরিনত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই অবস্থায় রাষ্টকে ধর্মের মতো বিষয়ের উপর নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠার চিন্তা করা একটা বিরাট ভুল। মূলত রাষ্ট্রীয় ধর্ম নিরপেক্ষতার বিষয়টা সেখান থেকেই আসছে। কিন্তু অনেকে ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রের সংজ্ঞার সাথে "ধর্মহীন রাষ্ট্রের" ধারনার সাথে গুলিয়ে ফেলছেন।
এখানেই আসছে ধর্ম নিয়ে রাজনীতির বিষয়টা। একদল যেমন গায়ের জোরে ধর্মকে রাষ্ট্রের দর্শন হিসাবে প্রতিষ্ঠার জন্যে রাজনীতি - এমনকি জংঙ্গীত্বকে প্রয়োগ করছে - অন্যদিকে একদল রাষ্ট্রীয় সীমানা থেকে ধর্ম বিশ্বাসকে নির্মূল করাটাকে জীবনের একমাত্র ব্রত হিসাবে বিবেচনা করছে। এরা দুই দলই প্রকৃত পক্ষে আধুনিক রাষ্ট্রের ধারনার বিষয়ে নিজেদের অজ্ঞতার দ্বারাই পরিচালিত হচ্ছেন।
দ্বিতীয়ত যে কথাটা বলার জন্যে এই লেখা তা হলো - আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার সাথে নিজেদের ধারনাকে প্রতিষ্ঠা করতে না পারার কারন হিসাবে এই দুই দলই নিজেদের দিকে না তাকিয়ে অন্যকে দোষারোপ করছে। আমরা অতীত দেখলে দেখবো - "ধর্ম ভিত্তিক" এবং "ধর্মহীন" রাষ্ট্র ব্যবস্থা কি ভয়াবহ ভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের ব্যর্থতা রেখে গেছে একদল সাধারন মানুষের করুন ইতিহাস। অন্যর দিকে আঙ্গুল উঠানোর আগে সকল মতবাদের অনুসারীদের উচিত নিজেদের দিকে ভাল করে নজর দেওয়া এবং আত্ন সমালোচনার মাধ্যমে আন্তসশুদ্ধি করা।
এবার আসি একটা আধুনিক রাষ্ট্রের উদাহরনে। আমেরিকার অনেক নীতির সাথে একমত না হলেও একটা আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রকৃষ্ট উদাহরন হিসাবে সেই দেশটার কথাই আগে আসবে। এই বিষয়ে বেশী কথা না বলে একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে - যিনি ইসলামের জাগরনের আহ্বান জানাচ্ছেন - উনি "ইসলামি চরমপন্থার" বিরুদ্ধে যুদ্ধরত আমেরিকায় আগমনের প্রস্তুতি হিসাবে জিআরইএর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এটা এমন একটা রাষ্ট্রব্যবস্থা যেখানে সব পথ এবং মতকে ধারন করার মতো স্বক্ষমতা অর্জন করেছে।
শেষ কথা হলো - যে যেই মতের বা পথেরই হোক না কেন - রাষ্ট্রের আইনানুসারে নাগরিকত্ব অর্জনের পর রাষ্ট্রের দায়িত্ব সেই নাগরিকের অধিকার এবং বিশ্বাস রক্ষার ব্যবস্থা করা।
অন্যদিকে সবমতের এবং পথের মানুষের দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের সকল অধিকারের প্রতি সন্মাজনক দৃষ্টি ভঙগী বজায় রাখা।
সেটা সম্ভব শুধু মাত্র পরষ্পরের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সহনশীল দৃষ্টিভঙগী প্রদর্শনের মাধ্যমে। একটা বিষয় বামাদের মনে রাখতে হবে - নিজেদের মতের শ্রেষ্টত্ব প্রচার কথার অর্থই হলো অন্য মতকে নিম্নস্থরে ঠেলে দেওয়া। সেটা কোন ভাবেই কল্যানকর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে কাজ করবে না।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মে, ২০০৭ রাত ১২:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


