somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শাহবাগের উত্তাপ টরন্টোর তুষার ঝড়কেও হার মানালো

০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ ভোর ৬:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গতকালই ঘোষনা করা হয়ে ছিলো আজ মানববন্ধন হবে। মুল উদ্যোগটা নিয়েছে ইয়াং বাংলাদেশী টরন্টোনিয়ান নামের একটা সংগঠন। আলোচনার সময় নিশ্চয় ওরা চিন্তা করেছিলো উইকডেতে হয়তো জনসমাগম কত হতে পারে - কিন্তু তারুন্য মানে কোন নিয়ম - উইকডেতেই হবে মানব বন্ধন - কারন শাহবাগের প্রানের ছোঁয়ায় আন্দোলিত এই তরুনরা। কিন্তু আজ যে তুষার ঝড়ের সতর্কবার্তা আবহাওয়া দফতর দিয়ে রেখেছে - তা হয়তো তরুনরা লক্ষ্য করেনি - করার কথাও না। কারন ওদের চোখে তখন শাহবাগের বিশাল জনসমাবেশ - মনে বাজছে উদ্দীপনার গান আর রক্ত গরম হওয়া শ্লোগানগুলো। ঠিক চারটা তুষার ঝড় শুরু হলো - ভাবলাম হয়তো প্রোগ্রাম বাতিল হয়ে গেছে। কারন আমরা যখন কোন প্রোগ্রাম রাখি - সেইটা সাধারনত উইকএন্ডের বিকেলে রাখি - সংসার জীবনের শত চাহিদার কিছু পুরন করেই যাই সেই প্রোগ্রামগুলোতে। কিন্তু তরুনদের জন্যে সময় কোন বিষয়ই না। তাই দেখলাম একদল তরুন চলে এসেছে - হাতে প্লাকার্ড - কারো মাথায় বাংলাদেশের পতাকা বাঁধা - কারো বা বুকে বেঁধে রেখেছে বাংলাদেশের পতাকা। এসেছেন তরুনীরাও - সাথে এসেছে মা তার ছেলেকে নিয়ে - মা ছেলে প্রচন্ড শীতে জড়াজড়ি করে দুই্টা প্লাকার্ড নিয়ে দাড়িয়ে আছে প্রচন্ড শীতের বাতাসে। তাপমাত্রা মনে হয় ছিলো হিমাংকের নীচে ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস ( অনুভুত হচ্ছিলো মাইনাস ১৩ ডিগ্রীর মতো ) । এসেছে মুক্তিযোদ্ধা, এসেছে সাংবাদিক এসেছে ছোট বাচ্চারও।

এতো প্রতিকূল আবহাওয়ায় দাড়িয়ে সবাই সমবেত কন্ঠে গাইছিলেন দেশের গান - বুকে ঝুলানো প্লাকার্ডে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবী। ব্যস্ত ডেনফোর্ত এভিনিউ দিয়ে দ্রুত ধাবমান গাড়ীগুলো থেকে হর্ন দিয়ে সমর্থন জানাচ্ছিলো অচেনা নাগরিকরা। এক সময় মনে হচ্ছিলো আমরা সবাই শাহবাগের জনস্রোতের মাঝে মিশে গেছি।

আয়োজক তরুনদের জন্যে রইল শুভেচ্ছা এবং সংগ্রামী অভিনন্দন। স্বাধীনতার ৪০ বছর পর যুদ্ধাপরাধীর বিচারের মাধ্যমে আমরা একটা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি - মুক্তিযোদ্ধারা বয়োবৃদ্ধ হয়ে গেছেন - অনেকেই জীবনের তাগিদে নানান ভাবে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। বিশেষ করে ৭৫ এর পর বৈরী পরিবেশে মুক্তিযুদ্ধাদের মনোবল অনেক ক্ষেত্রে নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু তরুন প্রজন্মের এই এগিয়ে আসা এবং রীলে রেইসের মতো ব্যটনটা সময় মতোই নিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার যে প্রজন্মান্তর হচ্ছে - তা দেখে নিশ্চয় মুক্তিসংগ্রামী বীরের প্রশান্তি লাভ করবেন - আর শহীদদের আত্না নিশ্চয় শান্তি লাভ করবে এই ভেবে যে - তাঁদের জীবন দেওয়া বৃথা যায়নি - শত চেষ্টা করেও পরাজিত শক্তি মুক্তিযুদ্ধের গৌরবকে ভুলিয়ে দিতে পারেনি। আজ শাহবাগ থেকে টরন্টো পর্যন্ত নতুন প্রজন্ম চিৎকার করে জানিয়ে দিচ্ছে - কাদের মোল্লার ফাঁসি চাই - যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসী চাই। বাংলার মাটিতে রাজাকারদের ঠাঁই নাই। চমৎকার এই দৃশ্য দেখে চোখ জলে ভরে উঠে - যখন দেখি একজন তরুন প্রচন্ড গৌরবের সাথে মুক্তিযুদ্ধকে ধারন করে মিছিলে যাচ্ছে - রাজাকারদের সংগঠনগুলো হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে যে সন্ত্রাসী বাহিনী তৈরী করেছে তার বিপরীতে এই উদ্দীপ্ত তরুনদের হূদয় থেকে উৎসরিত শ্লোগান যে কত গভীর আবেদন সৃষ্টি করে বলার মতো ভাষা থাকে না।

আর শাহবাগের জমায়েতের সাথীদের জন্যে নিশ্চয় টরন্টোর শীতার্ত মানববন্ধনের উত্তাপটা অনুভুত হবো। টরন্টোর মানব বন্ধনের চেতনাটাও যেন শাহবাগের মুল চেতনার সাথে মিলে মিশে এক হয়ে একটা বিরাট কন্ঠস্বরে পরিসত হয় - যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের চুড়ান্ত শাস্তি চাই - বাংলার মাটিতে রাজাকারদের ঠাঁই নেই - স্বাধীনতার শত্রুদের বাংলার মাটিতে ঠাঁই নেই।


টরন্টোর মানববন্ধনের ছবি:

ফেইস বুকের লিংক
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ৮:০৫
৫টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্ম শেখানোর সুযোগ পেলে কি শিখাবেন?

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সকাল ৯:৪০








কিছুদিন আগে নানু মারা যাওয়ায় জানাযারর সময় নিয়ে সমস্যা হলো,তা ছিলো ঐ দিনই বাড়ির খুব পরিচিত মুখও ক্যান্সারে অনেক মাস যুদ্ধ করে মারা যায়।মাঠ যেহেতু একটাই,পরে ঠিক হলো সকাল ১১... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভালোবেসে লিখেছি নাম

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ দুপুর ১২:৫৮









আকাশে রেখেছি সূর্যের স্বাক্ষর
আমার বুকের পাজরের ভাজে ভাজে
ভালোবেসে লিখেছি তোমারি নাম
ফোটায় ফোটায় রক্তের অক্ষর।

এক জীবন সময় যেন বড় অল্প
হাতে রেখে হাত মিটেনাতো সাধ
... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীলাঞ্জনার সাথে

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ দুপুর ১:৪৩

ছবি :ইন্টারনেট


কেউ নিজের মতো অভিযোগ গঠন করলে (ঠুনকো)
বলি কী ,
তার ভেতরেই বদলানোর নেশা ,
হারিয়ে যাওয়ার নেশা।
ছেড়ে যেতে অভিনয় বেশ বেমানান,
এ যেন নাটক মঞ্চস্থ হওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ আমার কবিতা পছন্দ করেছেন বলে মনে হয়

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ বিকাল ৫:২৪



আল্লাহ

নিজে নিজে হয়েছেন আল্লাহ মহান
কারণ অসীম হয় নিজে হয় যারা
সসীম করবে তাঁকে ছিলো সেথা কারা?
শূন্য ছিলো তাঁর পূর্বে আর তিনি এক।
নিজে নিজে হয়েছেন শুধু একজন
কারণ আলাদা হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গত ৯ বছরে সামুর পোষ্টের মান বেড়েছে, নাকি কমেছে?

লিখেছেন সোনাগাজী, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ৮:১৮



আমার ধারণা, গত ৮/৯ বছরে সামুর পোষ্টের মান বেড়েছে, অপ্রয়োজনীয় পোষ্টের সংখ্যা কমেছে। সব পোষ্টেই কিছু একটা থাকে; তবে, পোষ্ট ভুল ধারণার বাহক হলে সমুহ বিপদ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×