somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের সম্ভাব্য আন্দোলন নিয়ে কিছু কথা

০২ রা আগস্ট, ২০১৪ রাত ১১:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত পাঁচ বছর অবিরাম বিএনপির সমালোচনা করেছি। কারন ছিলো মুলত দুইটা - প্রথমত বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতকে আইনী, রাজনৈতিক এবং শক্তি দিয়ে সহায়তা করছিলো এবং বিএনপির ভিতরেও যুদ্ধাপরাধীর আশ্রয় আছে - এমনকি বিচারাধীন আসামীও বহাল তবিয়তে আছে। আর দ্বিতীয়ত বিএনপি তাদের শাসনামলে যে সকল ভুল এবং অন্যায় করেছিলো - তার নিয়ে সামান্য দুঃখিততো হয়নি বরঞ্চ তাদের দুর্ণীতিগ্রস্ত নেতাদের পুর্নবাসন করতে গিয়ে নিজের দলকেও দূর্বল করেছে - যা মুলত সরকারকে আরো বেপোরোয়া হওয়ার সুযোগ দিয়েছে।

আর আমাদের মতো অনেকেই যুদ্ধাপরাধী ইস্যুতে বিএনপি জামায়াতের বিরুদ্ধে সরব থাকার সুবিধাটাও পেয়েছে আওয়ামীলীগ - যা অনেকটা বাধ্য হয়েই আমাদের করতে হয়েছে - কারন বিএনপি জামায়াত রাজনৈতিক ভাবে একটা অন্ধকার কানাগলিতে ঢুকে পড়েছে।

এইতো গেলো পুরানো কাসুন্দি। এখন কি?

বিএনপি (জামায়াতের রহস্যজনক নিরবতার মাঝে) আন্দোলনের হুমকী দিচ্ছে। বাস্তবতা হলো - বিএনপির এই হুমকী একটা বায়বীয় হুমকী হিসাবেই দেখা ভাল। কারন হলো - বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা। বাংলাদেশে প্রতিবার যাই - দেখি সাধারন মানুষের পরিবর্তন। এখন প্রায় পুঁজিবাদী সমাজে উত্তীর্ন হয়ে গেছে বাংলাদেশ। সেখানে সবার মাঝে আছে স্বপ্ন। হতাশা নেইই বললেই চলে। তাই ৫২, ৬৭, ৬৯ অথবা ৯০ এর মতো আন্দোলনে সাধারন মানুষের আগ্রহ থাকার কথা না - কারন সময় মানেই টাকা। সময় নষ্ট করে নেতা-নেত্রী বত্তৃতা শুনা আর রাস্তা গিয়ে পুলিশের নির্যাতন সহ্য করে একটা আন্দোলন করার মতো সময় সাধারন মানুষের নেই বলেই মনে করছি। তবে ডাইহার্ট সমর্থক আর পেইড কর্মীদের কথা আলাদা। সেখানে আছে অর্থকড়ির বিষয়। খোড়া ঘোড়ায় বাজি ধরার মতো মানুষ কম - তাই প্রচুর অর্থ খরচ করে কিছু করা্র মতো সরবরাহও পাওয়া সম্ভাবনা নেই। দ্বিতীয় যে কারনে বিএনপি আন্দোলন সুবিধা করতে পারবে না তা হলো - দলের সাংগঠনিক দূর্বলতা। দীর্ঘদিন ধরে একটা মহাসচিব নিয়োগ দিকে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি। বয়সের ভারে নূজ্যমান দলের প্রধানের ঘাটতি পুরন করতে পারতো একজন দক্ষ মহাসচিব। কিন্তু তার পক্ষে কাজ করাও কঠিন হতো - কারন বিএনপির দ্বৈত নেতৃত্ব। একজন লন্ডন থেকে ফোনে নির্দেশ দিচ্ছে আরেকজন ঢাকায় বসে দলের কাজ করছেন গভীর রাতে - ফলে নেতাকর্মীরা প্রকৃতপক্ষে বিভ্রান্ত এবং দিশাহারা।

মজার বিষয় হলো - আওয়ামীলীগও জানে যে বিএনপির আন্দোলনের চাবি এখন তাদের হাতে। কিন্তু আওয়ামীলীগের নেতাদের কর্মকান্ডে মনে হচ্ছে তারাই চাইছে বিএনপি আন্দোলনের নামুক - রাস্তায় বাস পুড়ুক - টিভির পর্দায় জ্বলত্ব বাসের ছবিতে ভরপুর হয়ে যাক - ফলে তাদের দূর্বলতা গুলো ঢকা পড়ে যাবে। প্রকৃতপক্ষে বিএনপি নির্বাচনের আগে আওয়ামীলীগের ফাঁদে পা দিয়েছিলো - খেলেছে আওয়ামীলীগ আর বিএনপি দৃশ্যমান ভুমিকায় ভিলেন হয়ে গেছে। এবারও তাই হবে।

এখান একটা কথা না বললেই নয় - তা হলো বিএনপি বায়বীয় কিছু ইস্যুতে আন্দোলন করার চেস্টা করছে যার প্রকৃত কোন মূল্য নেই বাস্তবে। জনগনের ভোটের অধিকার মানেই কি একদল ক্ষমতায় পাঠানো বা সরানো? ধরা যাক - বিএনপি গত নির্বাচনে ১৪৯ সিট পেলো - কিন্তু তারা কি সে্ ইনির্বাচন মেনে নিতো - আমরা আগেও দেখেছি - বিরোধীদল কোন ভাবেই সংসদীয় প্রক্রিয়াকে সহায়তা করে না। বিএনপি গত পাঁচ বছরে বিরোধীদল হিসাবে ইতিহাসের সবচেয়ে নির্লজ্জ ভূমিকায় ছিলো। তাই মানুষের কাছে সংসদের বিরোধী থাকা না থাকার বিষয়টা সমান। তাইলে মানুষে চায় কি? মৌলিক চাহিদাগুলোর বিষয়ে নিশ্চয়তা, অর্থনীতিতে অগ্রগতি, বিদ্যুৎ আর জ্বালানির নিশ্চয়তা তথা দেশের উন্নতি। তা তো হচ্ছে - তাইলে মানুষের কাছে ভোটের অধিকারের বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ন হবে?

প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের যে ইস্যুতে বিরোধীদল সবচেয়ে সরব হতে পারতো তা হলো দূর্নীতি এবং সুশাসন। বিশেষ করে দূর্নীতি ইস্যুতে বিরোধীদল সবচেয়ে সুবিধা করতে পারতো। গত ছয় বছরে কি বিপুল পরিমান সম্পদ দেশ থেকে পাচার হয়ে গেছে তার কিছু ধারনা পাওয়া যাবে যদি কেউ টরন্টোর বাইরে রিচমন্ডহিল শহরে বাংলাদেশীদের মিলিয়ন ডলারের বাড়ি কেনার হিড়িক দেখে্ই অনুমান করা যায় - যাদের মধ্যে সরকারী দলের অনেকেই আছেন।

দুঃখজনক হলেও সত্য - এই ইস্যুতে বিএনপি দূর্বল। কারন তাদের নিজেদের ঘরেই দূর্নীতির আখড়া। কানাডায় বাড়ি কেনায় যেভাবে আওয়ামীলীগের নেতার আছেন - তেমনি আছেন বিএনপির নেতারাও। বিএনপির ঢাকা মহানগরের নতুন কমিটির নেতাদের অনেকেরই পরিবারের অর্ধকে টরন্টোতে বাস করেন - সচিব এবং আহ্বায়কের পরিবার থাকে টরন্টোয় - দেশ থেকে ডলার আসে - কিভাবে আসে তা না হয নাই বললাম। মুল কথা হলো - এদের পক্ষে সরকারের বিরুদ্ধে জেহাদ করা সম্ভব নয়। কারন এরা ক্ষমতায় থেকে যে বিপুল অর্থের মালিক হয়েছিলো তা রক্ষা করাই এদের প্রধান কাজ হবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো - লন্ডনে বসে ফিনফিনে শার্ট পড়ে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত হল ঘরে সরকার বিরোধী জ্বালাময়ী বত্তৃতা দেওয়া আর পল্টনের উত্তপ্ত পীচের রাস্তায় নেমে জনগনকে আন্দোলনের ডাকা কখনই সমান না - মানুষও এই বুঝে।

তাই পরামর্শ দিচ্ছি বিএনপির উচিত নয় আওয়ামীলীগের ফাঁদে পা না দিয়ে প্রথমত নিজেদের ঘর গুছানো। সেই কাজে প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে তারেক রহমানকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া, খালেদা জিয়াকে উপদেষ্টা করে একটা কার্যকরী সভাপতিমন্ডলী তৈরী করে প্রতিটি জেলা/থানায় সন্মেলন করে দলের কাঠামো নির্মান করা এবং মেধাবী এবং দক্ষদের নেতৃত্বে আনা। তার সাথে সাথে ধান্ধাবাজ টকশো জীবিদের পরামর্শ গ্রহন থেকে বিরত থাকা (বিশেষ করে মান্না, মুজাহিদুল ইসলাম, আসিফ নজরুল, পিয়াস করিম,ইত্যাদি, কারন গত পাঁচ বছর ওদের পরামর্শ শুনেই বিএনপি ভীষন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে)। দ্বিতীয়ত রাজনীতির বিষয়ে বায়বীয় ইস্যুকে (বিসমিল্লাহ শেষ হবে, ভারত দেশ নিয়ে যাবে, ভোটের অধিকার ইত্যাদি) বাদ দিয়ে অর্থনীতিকে প্রাধান্য দিয়ে দূর্নীতিকে কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসা।

এই জন্যে দরকার ধৈর্য্য। আর বিতর্কিত বিষয়গুলোর একটা মিমাংসা করে নিজেদের অবস্থান সুস্পষ্ট করা জরুরী বটে। যুদ্ধাপরাধের বিচার, জামায়াতের সাথে সম্পর্ক, খালেদা জিয়া জন্মদিন, স্বাধীনতার ঘোষক ইত্যাদি ইস্যতে সত্যকে মেনে নেওয়ার মাধ্যমে উদারতার পরিচয় দেওয়া। সবচেয়ে বড় কথা হলো - আগামী দশ বছর পর বাংলাদেশকে কেমন দেখতে চায় বিএনপি তার একটা রূপরেখা তৈরী করে জনগনের কাছে সুষ্পষ্ট ভাবে পৌছানো - যাতে সেই স্বপ্নটা সাধারনের স্বপ্নের সাথে মিশে যায় - তা হলে আর বিদেশী শক্তি আর দেশীয় কুচক্রিদের উপর নির্ভর করতে হবে না - সাধারনের সমর্থনেই বিএনপি ক্ষমতায় যেতে পারবে।
৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুরাদ হাসানকে মন্ত্রিত্ব কেড়ে নেওয়া হইছে, মাহিয়া মাহি ওমরাহ করতে গেছেন

লিখেছেন জ্যাকেল , ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২১ সকাল ৮:৩৭

নৈতিক স্খলন জনিত কারন দেখিয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান ইহার মন্ত্রিত্ব তো গেল। ইমন (দালাল) সাক্ষাৎকারে বলেছে সে রেইপ করার কথা আগে জানতে পারেনি। এইদিকে মাহিয়া মাহি ওমরাহ করতে গিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুনজির- মুস্তফা.........

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২১ সকাল ১০:৩৭

মুনজির- মুস্তফা.........


বাবার কোলে নিচ্ছেন শিশুকে। অনাবিল হাসি একরত্তির মুখে। আর বাবার চোখে মুখে পরিতৃপ্তির ছাপ। মেহমেত আসলানের তোলা এই ছবি সিয়েনা ইন্টারন্যাশানালে সেরা ছবির স্বীকৃতি পেয়েছে। ছবিটি সিরিয়ার সীমান্তে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের কৌতুক

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২১ দুপুর ১২:০১


আলম সাহেবের বয়েস হয়েছে।
সরকারী চাকুরে ছিলেন, অবসর নিয়েছেন অনেক বছর আগেই। চোখের সামনে একমাত্র ছেলেটা ধীরে ধীরে বড় হয়ে উঠেছে। আলম সাহেবের স্ত্রী নিজের স্বাধ্যের মধ্যের সবটুকু দিয়ে মোটামুটি ধুমধাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ হরে জরুরি ভিত্তিতে যা করণীয়। ভূমি/জমি/বাড়ি বেদখল হলে করণীয়

লিখেছেন এম টি উল্লাহ, ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২১ দুপুর ১২:২৫



জোর করে কেও যদি আপনার সম্পত্তি দখল করে ফেলে, তখন আপনি কি করবেন? প্রতিনিয়ত জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট হতে কেউ না কেউ দখলচ্যূত হচ্ছেন। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা প্রায়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোটলোক চেনার উপায় কী?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৩০



একবার এক ধনী লোক এক জায়গায় অনেক গুলা হীরা রাখে। সেখান থেকে একটা ইঁদুর ভুল করে হীরের টুকরো গিলে ফেলে।
হীরের মালিকের রাতের ঘুম উড়ে যায়। ইঁদুর মারার জন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×