somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি ঝগড়ার সুযোগের অভাবে! [ইনবক্স-১]

২৬ শে জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ১১:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



- হা হা হা!
- হঠাৎ হাসির কি হলো?
- কমেন্টের রিপ্লাই দিতে পারলাম না বলে এখানেই হাসলাম। ওটা ছিল জীবন থেকে নেওয়া শিক্ষা, সবচেয়ে বড় সাক্ষী তো তুমিই!
- হা হা হা হা হা! এই বার আমি না হেসে পারলাম না! কমেন্ট রিপ্লাই করতে পারবা না জানি। আমিও হয়তো কমেন্ট করতাম না, কিন্তু না করে পারলাম না।
- হুমম, মন ভাল না, আজ কোথাও বের হইনি। নো অফিস, নো ফোনকল, নো আড্ডাবাজি! বাসায় বসে বসে পুরনো দিনের কথা ভাবছিলাম। আমি আমার জীবনে এত ভুল করেছি যে এখন আর শোধরানোর উপায় নাই! তবে হাস্যকর কথা কি জানো? আমার করা ভুল গুলো অনেকের জন্যই অনেক অনেক শুভদিন নিয়ে এসেছে।
- হয়তো! মাঝে মাঝে পুরনো দিনের কথা মনে করা ভাল। জং ধরা মন আর শরীরকে ফ্রেশ করে।
- হুমম! তারপর, কেমন আছো? তোমার উনি কেমন আছে? তোমারা দুজন মিলে কেমন আছো?
- সব মিলে বাইরে থেকে ভালই আছি বা সবাইকে সেটাই দেখাচ্ছি। কিন্তু ভেতরে হাহাকার আর মনের টান শেষ করে দিচ্ছে!
- কি জন্য?
- হা হা হা, তেমন কিছু না! দু’জন দু’প্রান্তে থাকার জন্য।
- আচ্ছা, তাও ভাল! আমি তো ভেবেছিলাম ঝগড়া করে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছো!
- আরে নাহ্, ঝগড়া তো আমিই করি। সেটাও যদি সে জানতো তাহলে তো হতোই! আমি ঝাড়ি দিই আর সে এক কান দিয়ে শুনে আর অন্যটা দিয়ে বের করে দেয়!
- হা হা হা! সমস্যা নাই, মাঝে মাঝে ইচ্ছা হলে আমার সাথে ঝগড়া করে যেতে পারো!
- সেটা হবে না! ঝগড়া করলে তো সেই কবেই করতাম হয়তো!
- তা ঠিক! আচ্ছা, কেন ঝগড়া করোনি বলতো?
- তুমি সুযোগ দাওনি! অপেক্ষা অপেক্ষাই রয়ে গেছিলো!
- হুমম, কিন্তু এখন তুমি অনেক ভাল আছো।
- ভাল খারাপ জানি না, কিন্তু সেই মানুষটাকে যে মন প্রাণ দিয়ে ভালবাসি এটা জানি। একই টান ছিল তোমার উপর, যদিও তখন কিছু বুঝতাম না হয়তো!
- তুমি এখন ভাল আছো এটাই বাস্তবতা!
- হুম, তবে তোমার কাছ থেকেই প্রথম ভালবাসা শেখা! ভালবাসা কি আর সেটা কিভাবে গড়া আর ভাঙা যায়!
- মানুষ অতীত কিংবা ভবিষ্যতে বাস করে না, বাস করে বর্তমানে। এসব ভেবে মন খারাপ করো না। লিভ ইট, অনেক কঠিন কঠিন কথা বলছি আমরা!!
- হা হা হা, সরি অনেক কিছুই বলে ফেলেছি!
- না না, ইটস ওকে!
- আমি শুধু আমার কথা বলতে চেয়েছি!
- হুম, এটা বুঝি। আমি এক সময় অনেক কিছু বুঝতাম না। এখনও অনেক কিছু বুঝি না। তবে কিছু কিছু বুঝি। বুঝিয়ে দিলে আরো ভাল করে বুঝি! হা হা হা হা!
- হুম, দেখে আর ঠেকেই মানুষ শেখে।
- হুমম। আচ্ছা শোন, তোমার হাসি হাসি প্রো-পিকচারটা ভাল লাগছে!
- থ্যাংকস! দেখতে দেখতে ৯ মাস হয়ে গেল!
- একদিন দেখতে দেখতে ৯ বছর হবে, ৯০ বছর হবে টেরও পাবা না!
- পাবো পাবো, সময়কে মূল্য দিলেই টের পাবো।
- হা হা হা, হয়তো! তোমার সব চাওয়া যেন পূর্ণ হয়।
- থ্যাংক ইউ! চাওয়া কিছুই না, সবাইকে যেন ভাল রাখতে পারি আর সাথে থাকতে পারি। তা আমার কথা তো অনেক হলো, এবার বলো তুমি কেমন আছো?
- আমি তেমন ভাল নাই! কাজের চাপ, রাস্তায় জ্যাম, শীত সব মিলিয়ে বিরক্ত!
- ভাল থাকার চেষ্টা করো।
- করবো...!
- আজ তাহলে আসি, কেমন?
- আচ্ছা, আবার কথা হবে।
-্ আবার কথা হবে।

একটি ঝগড়ার সুযোগের অভাবে!
জানুয়ারী ২৬, ২০১৬
রামপুরা, ঢাকা।

ফেসবুকের পোস্ট আর কমেন্টের বাইরে কিছু একান্ত কথা থেকে যায়। যার শেষ হয় ইনবক্সে, আবার হয়তো শেষ হয়েও হয় না! এমন শেষ হয়েও না শেষ হওয়া কথা নিয়ে শুরু করলাম ‘ইনবক্স’ সিরিজ। উপরের কথোপকথন একটি সত্য ঘটনা। ঘটনাচক্রে এমন অনেক সত্য ঘটনার সাক্ষী হতে হয় আমাকে। সেই সব ঘটনার চরিত্রগুলোর অনুমতি সাপেক্ষে ‘ইনবক্স’ সিরিজ লিখছি।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ১১:০৩
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাড়ী ভাড়া বিষয়ক সাহায্য পোস্ট - সাময়িক, হেল্প/অ্যাডভাইজ নিয়েই ফুটে যাবো মতান্তরে ডিলিটাবো

লিখেছেন বিষন্ন পথিক, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ৯:১৭

ফেসবুক নাই, তাই এখানে পোস্টাইতে হৈল, দয়া করে দাত শক্ত করে 'এটা ফেসবুক না' বৈলেন্না, খুব জরুরী সহায়তা প্রয়োজন।

মোদ্দা কথা...
আমার মায়ের নামে ঢাকায় একটা ফ্লাট আছে (রিং রোডের দিকে), ১৬০০... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন সন্ধ্যা আসে...

লিখেছেন পদ্ম পুকুর, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ১০:৪৫


জীবনানন্দ দাস লিখেছেন- সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন সন্ধ্যা আসে...। বনলতা সেন কবিতার অসাধারণ এই লাইনসহ শেষ প্যারাটা খুবই রোমান্টিক। বাংলা শিল্প-সাহিত্যের রোমান্টিসিজমে সন্ধ্যার আলাদা একটা যায়গাই রয়ে গেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বৃত্তে বৃত্তান্ত (কবিতার বই)

লিখেছেন মোহাম্মাদ আব্দুলহাক, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১২:৫৯



দ্বিপদী
মিত্রাক্ষর

রসে রসে সরস কথা বলে রসের কারবারি,
তারতম্য না বুঝে তরতর করে সদা বাড়াবাড়ি।
————
রূপসি রূপাজীবা হলে বহুরূপী রূপোন্মত্ত হয়,
রূপকল্পের রূপ রূপায়ণে রূপিণী রূপান্তর হয়।
---------
পিপাসায় বুক ফাটলে পানির মূল্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাবার ঘরেও খেতে পাইনি, স্বামীর ঘরেও কিছু নেই!

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৪৪



"বাবার ঘরেও খেতে পাইনি, স্বামীর ঘরেও কিছু নেই!", এই কথাটি আমাকে বলেছিলেন আমাদের গ্রামের একজন নতুন বধু; ইহা আমার মনে অনেক কষ্ট দিয়েছিলো।

আমি তখন অষ্টম শ্রেণীত, গ্রাম্য এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন জীবন- সাত

লিখেছেন করুণাধারা, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:৫৭



আগের পর্ব: নতুন জীবন- ছয়

ইন্সপেক্টরের কপালে ভাঁজ পড়ল,
- না জানিয়ে খুব খারাপ করেছ। একে বলে বিকৃতি- গোপনে সহায়তা করা। এটা একটা অপরাধ; তুমি জানো না?
আমি মাথা নিচু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×