somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক অন্যরকম সন্ধ্যা: এপ্রিল ১৭, ২০০৯!

৩০ শে এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১২:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মোটামুটি দু'বছর আগে। তখন এরকম কিছু ভাবনা ছিল না। যতদূর মনে পড়ে মাথায় শুধু ঘুরতো ইউএস বিলবোর্ড টপ চার্টে কে আছে, জেমস ব্লান্ট লন্ডন ছাড়িয়ে কিভাবে আমেরিকা জয় করবে অথবা কোয়ান্টাম অব সোলেসে ড্যানিয়েল ক্রেগকে কি জন্য সিলেক্ট করা হলো। তখন নতুন নতুন ঢুকেছি এখানে, মনের মধ্যে একটা গর্বের ভাব ছিলো, সাথে টেনশনও; কি আছে ভবিষ্যতে।চুয়েট থেকে পাশ করি ২০০৫ এ, টানা ১ বছর বডি বিল্ডিং আর ব্রেইন রেস্ট! ২০০৬ সালে ক্যারিয়ার শুরু করার পর বছরটা আমার জন্য খারাপ ছিলো না। আত্নীয় স্বজন বলতো আমি যেভাবে জব চেন্জ্ঞ করি মানুষ এরকম ভাবে জামা কাপড়ও চেন্জ্ঞ করে না। তখন আমার মাঝে একটা ঝোক চেপে ছিলো আমার ভিতরে আসলেই কিছু আছে এটা জানানোর জন্য। যখন দেখা গেলো সবাইকে দেখানোতে আমি বেশ সফল হলাম আমি আমার নিজের পয়েন্টকে প্রুভ করলাম তখন মনে হলো আমার মাঝে আসলেই কিছু নাই।

সিএসবি নিউজ চ্যানেল জানতাম একদিন না একদিন বন্ধ হবে। কারণ এখানকার যারা বস ছিলো তারা খুব ভালো লোক মনে হয়েছিলো। আর এদেশে ভালো লোকদের দিয়ে এত ফাটাফাটি বিজনেস হয় না। মনে পড়ে যখন আমরা লোক সিলেকশন করেছিলাম সিএসবির জন্য, সিভি গুলোকে খুব ভালোভাবে পরীক্ষা করেছিলাম। এমনকি একেকটা নিউজ প্রেজেন্টার দু তিনবার স্ক্রিনিং টেস্ট দিয়েছিলো। তাদের খাতাগুলো দেখা হয়েছিলো খুব খুটিয়ে খুটিয়ে। দেখতাম বড় রেফারেন্সে যারা আসত তাদের মধ্যে যদি যোগ্যতা না থাকতো তাহলে বস বলতো সিস্টেমে ফেলে দাও। এর ফলে সাপও মরলো লাঠিও ভাংতো না। যখন সিএসবি ছাড়লাম, তখন হাতে তিনটা অফার ছিলো: একটা হলো বাংলালিংকের রোলআউট ইন্জ্ঞিনীয়ার, সুইডেনের বিটিএইচ এ ইলেক্ট্রিক্যালে ভার্সিটি ফান্ডিং আর বর্তমান জব অফার। ফান্ডিংটা ছিলো একটু কন্ডিশনাল আর এটা শিওর যে এটাও নিজের যোগ্যতায় পাইনি। আমাদের ভার্সিটির এক বড় ভাই ছিলেন আমার সিনিয়র। উনি খুব সম্ভবত টিচিং এ্যাসিস্টেন্স শীপে কাজ করছিলেন। উনি একটা প্রোপাজালের আইডিয়া দিলেন, আমি এক্সপান্ড করলাম। একজন প্রফেসর দেখে রেসপন্স করলো বেশ ভালো ভাবেই, দিলো ফাটাফাটি একটা রেফারেন্স। একদিন উনি কাগজ এনে বললো, হয়ে গেছে রনি! আমি তখন বেশ ভাবে চলছিলাম। এদিকে হোয়াওয়ে তে সুইচিং এ কথাবার্তা চলছিলো।
অনেক ভাবলাম। আমার খুব একটা পিছুটান ছিলো না, ছিলো না তেমন কোনো টার্গেট। একদিন রাতে হঠাৎ শুনি বোনটা কাদছে। আমি বললাম কি হয়েছে, সে কিছুই বলতে পারলো না। বাবা-মা কি করবে কিছু বুঝতে না পেরে মামাদের ফোন দিলো। পরে তারাই হাসপাতালে নিয়ে গেলো। তেমন কিছুই হয়নি, ফুড পয়জনিং, কিন্তু একটা জিনিস চোখে পড়লো আমার। আমার বোনের জন্য আমার চোখটা একটু ভিজেছিলো। কেনো জানি না, সিএসবি থেকে ঈদের বোনাস সহ স্যালারী উঠিয়ে একটা ইন্টারভিউ কন্ডাক্ট করলাম, যেটা আমার পোস্টের জন্যই। আর রিকোমেন্ডেশন দিলাম কয়েক জনের নাম। বললাম আমার জায়গায় এরাই যোগ্য। মাহমুদ ভাই খুব খুশী হলেন লেটারটা দেখে। জাকির ভাই বললেন,"তুমি তো দেখি আমার চেয়ে আগাই গেলা"। সামান্য একটা ছোট্ট আর শেষ কাজ দিলো সেটা এদেশের হাই লেভেলের একটা লোকের সাথে কথা বলার জন্য যেটা আমি অবশ্য পরে আর করিনি। তবুও মনে পড়ে আমরা যারা প্রথম যে সাতজন মিলে একটা কোম্পানী রিফর্ম করলাম বসদের দেখানো রাস্তায় সবাই কেমন যেনো মন মরা হয়ে গেলো। তার পরের দিন জয়েন করলাম এখানে।

তারপর তেমন চড়াই উৎরাই পার করতে হয় নি আমাকে। কখনোই ভাবিনি যে আমার চাকরি নিয়ে টানাটানি হবে। এখনও ভাবি না। শুধু ভাবি একটা কিছু হারিয়েছি যা আর কোনো দিনও ফিরে পাব না। ভালোবাসা আসলেই খারাপ জিনিস।

এসব ইতং বিতং ভেবে বাসা থেকে রওনা দিলাম এপ্রিলের ১৪ তারিখে বিকাল ৪ টায়। অনেকেই ফোন দিচ্ছে আমিও দিচ্ছি: এক ডায়লগ: ঐ মিয়া, আহেন না কেন?

বসুন্ধরা কনভেনশনে গিয়ে একটু বেকুব হয়ে গেলাম, কারন তখনও গেট খুলে নাই, তারচেয়ে বড় কথা কেউ তখনো আসেনি। সবাই খালি ফাপড়ের উপর রাখলো আমারে। যাই হোউক, পৌছালাম, খেতে খেতে মনে হলো রাতের জন্য খালি রাখি। আবার নাচানাচিও করতে হবে। যদিও মন চাইছিলো না, মনে চাইছিলো পিচ্চির সাথে যদি একটিবার কথা বলতে পারতাম, একবার যদি পারতাম কেমন আছে ও? পোস্ট পড়ে কেন যেনো মনে হয় ও যার খোজে বের হয়েছে সেটা ও পায়নি। ও ভালো নেই!

যাই হোক, সিইও কে দেখে আমার হাত পা কাপছিলো। তাহকিক ভাই আর সোহেল ভাই কইলো,"ক্যামেরা আছে, চলেন যাই!"

এদিকে আমার ক্লাশ মেটরাও আসলো। এরা অবশ্য সব ফার্স্ট সেকেন্ড থার্ড। পিচ্চি গুলার দিকে তাকানোই যায় না। এদের গ্রেডিং দেখলে মনে হয় এসব গ্রেডিং না ডাব্লু ডাব্লু ই এর চ্যাম্পিয়নশীপ বেল্ট। আর আমি বরাবরই সেভেনথ অব দ্যা লাস্ট। তবুও উচ্ছ্বাস কিছু মানে না। অনেকেই আসতে পারেনি কারন বরিশাল, চট্টগ্রামের বিজলির চুম্মা আর সারা দেশে নেটওয়ার্ক ঠিক রাখার কাজ পড়েছে।

এদিকে দেখি সিএসবির আজিজ ভাই যিনি এখানে এইচআরএ ডিএম হিসেবে জয়েন করেছেন। কথা হলো, হাসি ঠাট্টা। পরে মনে হলো এত পরিচিতর মাঝে আমি আসলেই একা। কারন কারো সাথেই আমি খুব একটা এ্যটাচ হতে পারি না। এ দল ও দল করে আমি যেনো পথহারা।

ঢুকলাম বিশাল মাঠটায়, হাতে নীল সাদার স্কার্ফ। মন চাইছিলো আর্টসেল গান গাক। কিন্তু আর্টসেল আসেনি, এসেছে আমাদের কলিগ আর্টসেলের লিটন। তাতেই সই। দুটো গ্রুপ সং হিট। ব্যাপক গান।

তারপর নিজেদের করা কিছু পারফরম্যান্স, যোগ হলো মিনার, কণা, শুভ, হ্রদয় খান, বালাম জুলি। সবার শেষে আসলো মাইলস।

মাঝে মাঝে আমাদের সিইও অন্যান্য ডিরেক্টর আর ম্যানেজম্যান্টের সবাইকে পুরস্কৃত করে নতুন গোল সেট হলো।
অনুষ্ঠানটা এত কন্টেন্টে ভরা ছিলো যে কোনো কিছুর মজা চলতে চলতে শেষ হয়ে যাচ্ছিলো। কেউ বুঝতে পারছিলো না এরপর কি হবে, তবে মাঠের সবাই এক্সাইটেড ছিলাম এরপর কি হবে। খাবারের কথা বাদ দিলাম। কারন আমি এজন্য দুপুর থেকে না খেয়ে ছিলাম। বাটনরুজে ১৯৯ আইটেমর বুফে। হয়তো গুনলে ১৯৯ না হলেও ওর ৯৯ এর কাছাকাছি যাবে।
পরিবেশটা ছিলো দারুন, কিন্তু আফসোস পরিবেশের এমনই বিপর্যয় যে এখনো বৃস্টি পেলাম না মনের মতো। মনে হয় পরিবেশের পেট খারাপ হয়ে গেছে। ২০১২ মুভির কাটিং দেখলাম সেদিন। দেখে মনে হলো ঐ ভিক্ষুকের যখন ঐ অবস্হা হবে তাহলে আমাদের কি অবস্হা হতে পারে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে এটাও ঠিক কসমোলজিক্যাল এ্যালাইনমেন্টের এ্যাট্রাকশন শুধু একটা মিথ মাত্র যেটা আমরা ২০১২ সালের নভেম্বরের দিকে একটু হাবলের মাধ্যমে অনুধাবন করার সুযোগ পেতে পারি মাত্র!

শুনেছি কিছু দিন আগে একটেলও নাকি এখানে ওদের অনুষ্ঠান করেছিলো। তবে এটা আমি শিওর আমাদের মতো ওদের টা হয় নি। আসলেই যারা এ নাইট দেখেছে তাদের আর কোনো নাইট ভালো লাগবে না মনে হয়!
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে নভেম্বর, ২০১০ বিকাল ৫:৪৮
১০টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×