সিএসবি নিউজ চ্যানেল জানতাম একদিন না একদিন বন্ধ হবে। কারণ এখানকার যারা বস ছিলো তারা খুব ভালো লোক মনে হয়েছিলো। আর এদেশে ভালো লোকদের দিয়ে এত ফাটাফাটি বিজনেস হয় না। মনে পড়ে যখন আমরা লোক সিলেকশন করেছিলাম সিএসবির জন্য, সিভি গুলোকে খুব ভালোভাবে পরীক্ষা করেছিলাম। এমনকি একেকটা নিউজ প্রেজেন্টার দু তিনবার স্ক্রিনিং টেস্ট দিয়েছিলো। তাদের খাতাগুলো দেখা হয়েছিলো খুব খুটিয়ে খুটিয়ে। দেখতাম বড় রেফারেন্সে যারা আসত তাদের মধ্যে যদি যোগ্যতা না থাকতো তাহলে বস বলতো সিস্টেমে ফেলে দাও। এর ফলে সাপও মরলো লাঠিও ভাংতো না। যখন সিএসবি ছাড়লাম, তখন হাতে তিনটা অফার ছিলো: একটা হলো বাংলালিংকের রোলআউট ইন্জ্ঞিনীয়ার, সুইডেনের বিটিএইচ এ ইলেক্ট্রিক্যালে ভার্সিটি ফান্ডিং আর বর্তমান জব অফার। ফান্ডিংটা ছিলো একটু কন্ডিশনাল আর এটা শিওর যে এটাও নিজের যোগ্যতায় পাইনি। আমাদের ভার্সিটির এক বড় ভাই ছিলেন আমার সিনিয়র। উনি খুব সম্ভবত টিচিং এ্যাসিস্টেন্স শীপে কাজ করছিলেন। উনি একটা প্রোপাজালের আইডিয়া দিলেন, আমি এক্সপান্ড করলাম। একজন প্রফেসর দেখে রেসপন্স করলো বেশ ভালো ভাবেই, দিলো ফাটাফাটি একটা রেফারেন্স। একদিন উনি কাগজ এনে বললো, হয়ে গেছে রনি! আমি তখন বেশ ভাবে চলছিলাম। এদিকে হোয়াওয়ে তে সুইচিং এ কথাবার্তা চলছিলো।
অনেক ভাবলাম। আমার খুব একটা পিছুটান ছিলো না, ছিলো না তেমন কোনো টার্গেট। একদিন রাতে হঠাৎ শুনি বোনটা কাদছে। আমি বললাম কি হয়েছে, সে কিছুই বলতে পারলো না। বাবা-মা কি করবে কিছু বুঝতে না পেরে মামাদের ফোন দিলো। পরে তারাই হাসপাতালে নিয়ে গেলো। তেমন কিছুই হয়নি, ফুড পয়জনিং, কিন্তু একটা জিনিস চোখে পড়লো আমার। আমার বোনের জন্য আমার চোখটা একটু ভিজেছিলো। কেনো জানি না, সিএসবি থেকে ঈদের বোনাস সহ স্যালারী উঠিয়ে একটা ইন্টারভিউ কন্ডাক্ট করলাম, যেটা আমার পোস্টের জন্যই। আর রিকোমেন্ডেশন দিলাম কয়েক জনের নাম। বললাম আমার জায়গায় এরাই যোগ্য। মাহমুদ ভাই খুব খুশী হলেন লেটারটা দেখে। জাকির ভাই বললেন,"তুমি তো দেখি আমার চেয়ে আগাই গেলা"। সামান্য একটা ছোট্ট আর শেষ কাজ দিলো সেটা এদেশের হাই লেভেলের একটা লোকের সাথে কথা বলার জন্য যেটা আমি অবশ্য পরে আর করিনি। তবুও মনে পড়ে আমরা যারা প্রথম যে সাতজন মিলে একটা কোম্পানী রিফর্ম করলাম বসদের দেখানো রাস্তায় সবাই কেমন যেনো মন মরা হয়ে গেলো। তার পরের দিন জয়েন করলাম এখানে।
তারপর তেমন চড়াই উৎরাই পার করতে হয় নি আমাকে। কখনোই ভাবিনি যে আমার চাকরি নিয়ে টানাটানি হবে। এখনও ভাবি না। শুধু ভাবি একটা কিছু হারিয়েছি যা আর কোনো দিনও ফিরে পাব না। ভালোবাসা আসলেই খারাপ জিনিস।
এসব ইতং বিতং ভেবে বাসা থেকে রওনা দিলাম এপ্রিলের ১৪ তারিখে বিকাল ৪ টায়। অনেকেই ফোন দিচ্ছে আমিও দিচ্ছি: এক ডায়লগ: ঐ মিয়া, আহেন না কেন?
বসুন্ধরা কনভেনশনে গিয়ে একটু বেকুব হয়ে গেলাম, কারন তখনও গেট খুলে নাই, তারচেয়ে বড় কথা কেউ তখনো আসেনি। সবাই খালি ফাপড়ের উপর রাখলো আমারে। যাই হোউক, পৌছালাম, খেতে খেতে মনে হলো রাতের জন্য খালি রাখি। আবার নাচানাচিও করতে হবে। যদিও মন চাইছিলো না, মনে চাইছিলো পিচ্চির সাথে যদি একটিবার কথা বলতে পারতাম, একবার যদি পারতাম কেমন আছে ও? পোস্ট পড়ে কেন যেনো মনে হয় ও যার খোজে বের হয়েছে সেটা ও পায়নি। ও ভালো নেই!
যাই হোক, সিইও কে দেখে আমার হাত পা কাপছিলো। তাহকিক ভাই আর সোহেল ভাই কইলো,"ক্যামেরা আছে, চলেন যাই!"
এদিকে আমার ক্লাশ মেটরাও আসলো। এরা অবশ্য সব ফার্স্ট সেকেন্ড থার্ড। পিচ্চি গুলার দিকে তাকানোই যায় না। এদের গ্রেডিং দেখলে মনে হয় এসব গ্রেডিং না ডাব্লু ডাব্লু ই এর চ্যাম্পিয়নশীপ বেল্ট। আর আমি বরাবরই সেভেনথ অব দ্যা লাস্ট। তবুও উচ্ছ্বাস কিছু মানে না। অনেকেই আসতে পারেনি কারন বরিশাল, চট্টগ্রামের বিজলির চুম্মা আর সারা দেশে নেটওয়ার্ক ঠিক রাখার কাজ পড়েছে।
এদিকে দেখি সিএসবির আজিজ ভাই যিনি এখানে এইচআরএ ডিএম হিসেবে জয়েন করেছেন। কথা হলো, হাসি ঠাট্টা। পরে মনে হলো এত পরিচিতর মাঝে আমি আসলেই একা। কারন কারো সাথেই আমি খুব একটা এ্যটাচ হতে পারি না। এ দল ও দল করে আমি যেনো পথহারা।
ঢুকলাম বিশাল মাঠটায়, হাতে নীল সাদার স্কার্ফ। মন চাইছিলো আর্টসেল গান গাক। কিন্তু আর্টসেল আসেনি, এসেছে আমাদের কলিগ আর্টসেলের লিটন। তাতেই সই। দুটো গ্রুপ সং হিট। ব্যাপক গান।
তারপর নিজেদের করা কিছু পারফরম্যান্স, যোগ হলো মিনার, কণা, শুভ, হ্রদয় খান, বালাম জুলি। সবার শেষে আসলো মাইলস।
মাঝে মাঝে আমাদের সিইও অন্যান্য ডিরেক্টর আর ম্যানেজম্যান্টের সবাইকে পুরস্কৃত করে নতুন গোল সেট হলো।
অনুষ্ঠানটা এত কন্টেন্টে ভরা ছিলো যে কোনো কিছুর মজা চলতে চলতে শেষ হয়ে যাচ্ছিলো। কেউ বুঝতে পারছিলো না এরপর কি হবে, তবে মাঠের সবাই এক্সাইটেড ছিলাম এরপর কি হবে। খাবারের কথা বাদ দিলাম। কারন আমি এজন্য দুপুর থেকে না খেয়ে ছিলাম। বাটনরুজে ১৯৯ আইটেমর বুফে। হয়তো গুনলে ১৯৯ না হলেও ওর ৯৯ এর কাছাকাছি যাবে।
পরিবেশটা ছিলো দারুন, কিন্তু আফসোস পরিবেশের এমনই বিপর্যয় যে এখনো বৃস্টি পেলাম না মনের মতো। মনে হয় পরিবেশের পেট খারাপ হয়ে গেছে। ২০১২ মুভির কাটিং দেখলাম সেদিন। দেখে মনে হলো ঐ ভিক্ষুকের যখন ঐ অবস্হা হবে তাহলে আমাদের কি অবস্হা হতে পারে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে এটাও ঠিক কসমোলজিক্যাল এ্যালাইনমেন্টের এ্যাট্রাকশন শুধু একটা মিথ মাত্র যেটা আমরা ২০১২ সালের নভেম্বরের দিকে একটু হাবলের মাধ্যমে অনুধাবন করার সুযোগ পেতে পারি মাত্র!
শুনেছি কিছু দিন আগে একটেলও নাকি এখানে ওদের অনুষ্ঠান করেছিলো। তবে এটা আমি শিওর আমাদের মতো ওদের টা হয় নি। আসলেই যারা এ নাইট দেখেছে তাদের আর কোনো নাইট ভালো লাগবে না মনে হয়!
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে নভেম্বর, ২০১০ বিকাল ৫:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


