somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুদ্রা দিয়ে ফিতরা দানে মাত্রাহীন ফিতনা

২৩ শে জুন, ২০১৬ রাত ৯:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছোটখাটো বিষয়গুলো নিয়ে ফিতনা সৃষ্টি করতে যেন একদল মানুষ পারমানেন্ট চাকরি নিয়েছেন। শা’বানে ফেরেশতারা যখন শয়তানকে বেড়ি বাঁধার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তখন ফিতনা সৃষ্টি করতে একদল মানুষ পূর্ণশক্তি নিয়ে নামেন।

প্রথমে লাইলাতুল বারাআত নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি করে ইবাদত-বঞ্চিত করার চেষ্টা করেন। অতঃপর “যা-ই তাহাজ্জুদ তা-ই তারাবিহ”- বলে কাউকে তারাবিহ থেকে আর কাউকে তাহাজ্জুদ থেকে বঞ্চিত করার প্রচেষ্টা করে যান।

যখন এই পর্ব শেষ হয়, রামাযান শেষের দিকে ধাবিত হয়, পরবর্তী ফিতনা নিয়ে আগত আবির্ভূত হয়। এটা খুবই মারাত্মক। কারণ, অন্যান্য সব “হাক্কুল্লাহ” তথা আল্লাহর হক হলেও এই বিষয়টা “হাক্কুল্লাহ ইবাদ” তথা বান্দার হক- যা বিনষ্ট করলে বিনষ্টকারীকে যতক্ষণ না বান্দা ক্ষমা করবে, আল্লাহ ক্ষমা করবেন না।

ক’বছর থেকে বলা হচ্ছে- “সাদাকাতুল ফিতর বা ফিতরা মুদ্রা দিয়ে দিলে হবে না। খাদ্যশস্য দিয়েই দিতে হবে।” খাদ্যশস্য নাকি মুদ্রা উত্তম- এই উত্তমতা নিয়ে মতানক্য থাকলেও বৈধতা নিয়ে কেউ কখনো কথা বলেননি। এবিষয়ে হঠাত করে বাংলাভাষী কিছু আলেম তল্পিতল্পা নিয়ে নেমেছেন! কেন?

যদি ধরে নিই, হাদিসের উপর সরাসরি আমল করতে হবে, এখানে মুজতাহিদগণের গবেষণা গ্রহণযোগ্য নয়। তাহলে প্রথমেই দুটো প্রশ্ন আসে ।
(ক) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি ধান/চাল দিয়ে ফিতরা দিয়েছেন বা দিতে বলেছেন?
(খ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিংবা সাহাবায়ে কিরাম কি কখনো খাদ্যশস্য খরিদ করে ফিতরা আদায় করেছেন?

দুটোতেই না বোধক উত্তর আসবে। কারণ, হাদিসে তো স্রেফ গম, খেজুর, পনির এবং কিসমিসের কথা বলা হয়েছে। তাহলে ধান/চাল দেয়ার বৈধতা এলো কোত্থেকে? নিশ্চয়ই ইজতিহাদ করা হয়েছে। এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিংবা সাহাবায়ে কিরাম তো খরিদ করে জব/ পনির/ খেজুর/ কিসমিস দেননি, তাহলে এখন যাদের কাছে এসব নেই, তারা কী করবে?

বিশেষত প্রবাসে বসবাসরত মুসলিমরা কী করবেন? এখানে কাকে দেবেন? স্বাভাবিকভাবে তারা দেশে টাকা পাঠাবে, কেউ টাকাটা নিয়ে খাদ্যশস্য কিনে অতঃপর গরীবের মধ্যে বন্টন করবে। এটা কি খাদ্যশস্য দেয়া হল, নাকি শস্যমূল্য?

অতএব, সামগ্রিক দিক বিবেচনা করলে বুঝাই যায়, হাদিসের সরল অনুবাদ করে “খাদ্যশস্য দিয়ে ফিতরা দিতেই হবে” এমন ফাতওয়া আসলেই বাস্তবতা বিবর্জিত।

এখানে খাদ্যশস্যের মূল্যমান মুদ্রা দিয়ে ফিতরা দেয়ার বৈধতায় কিছু দলিল দেয়া হলঃ

(1) হযরত যোহাইর (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবু ইসহাক থেকে শুনেছি, তিনি (আবু ইসহাক) বলেছেন, আমি সাহাবায়ে কেরামকে এই অবস্থায় পেয়েছি যে, তাঁরা রামাযানে সাদকাতুল ফিতরা (ফিতরা) খাবারের মূল্যমান দিরহাম দিয়ে আদায় করতেন। (সনদ সহিহ)
[ইবনে আবি শায়বা, 2য় খন্ড, 398 পৃ: হাদিস নং 10371]

(2) বিখ্যাত তাবেঈ হাসান বসরি থেকে একটি "আসার"(آثار)উল্লেখ আছে। ওয়াকি' বর্ণনা করেন সুফইয়ান থেকে, তিনি হিশাম থেকে, হিশাম হযরত হাসান বসরি থেকে।
তিনি বলেন- "মুদ্রা দিয়ে ফিতরা দেয়াতে কোনো সমস্যা নেই"। [ইবনে আবি শায়বা, 2য় খন্ড, 398 পৃ: হাদিস নং 10370]

(3)ইসলামের পঞ্চম খলিফা খ্যাত উমর ইবনে আবদুল আজিজের একটি চিঠির কথাওয়াকি' বর্ণনা করেন কোররা থেকে। তিনি বলেন- আমাদের কাছে উমর ইবনে আবদুল আজিজের এই মর্মে একটি চিঠি আসলো যে, "প্রত্যেক মানুষের থেকে (ফিতরা) আধা সা' (খাদ্য) অথবা তার সমপরিমাণ মূল্য অর্ধেক দিরহাম"।[ইবনে আবি শায়বা, 2য় খন্ড, 398 পৃ: হাদিস নং 10369]

(4) এছাড়াও "মুদ্রা বা শস্যমূল্য দিয়ে ফিতরা দেয়া যাবে”- বিষয়ে দেখা যেতে পারে
•ফাতওয়ায়ে শামি 2/366পৃ:।
•আল জাওহারাতুন নাযিয়াহ195 পৃ:।
•বাদইয়ুস সানাঈ 2/969 পৃ:।
•আল মাবসুত লিসসারাখসি 3/113পৃ:।

আল্লাহ যেন আমাদেরকে নতুন-পুরাতন সকল ফিতনা থেকে হিফাযাত করেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুন, ২০১৬ সকাল ৯:০৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানবজমিন, পার্থিব, চক্র: শীর্ষেন্দুকে যেমন পড়লাম

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৯



শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় লেখা শুরু করেন সাধারণত খুব অদ্ভুতভাবে।

যেমন তিনি চক্র উপন্যাস শুরু করেছেন একটি সাপের দৃষ্টিকোণ থেকে। হঠাৎ পড়ে বোঝা যায় না তিনি কার কথা বলছেন, কী বলছেন। সাপ চলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন মসজিদের কাজ শুরু করলাম

লিখেছেন প্রামানিক, ২৫ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৬


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

আলহামদুলিল্লাহ্, নতুন মসজিদের কাজ আজ থেকে শুরু হলো। আজ সকাল দশটায় গ্রামের কয়েকজন ধর্মপ্রাণ উদ‍্যোগী মানুষ নিজ উদ‍্যোগেই মাটি কেটে দিয়েছে।

আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর পূর্বে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসাহাসি থেকে সাফল্যের ইতিহাস: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৫২



এক সময় অনেক সমালোচনার মুখে ছিল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ (সাবেক বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১)। তখন অনেকেই বলেছিল, এত টাকা খরচ করে এসব করে কোনো লাভ হবে না। কিন্তু আজ ধীরে ধীরে সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×