somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের গল্প

০১ লা নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথমেই বলে নেই আমি বিবাহিত, সুতরাং বিয়ের পরেও পূর্বের প্রেম কাহিনী ব্যাক্তিগত জীবনে ঝামেলা বাধাইতে পারে। তাই এই ঘটনা নিয়ে যাতে করে চেগাচেগি না হয় তাই এইখানে শেয়ার করা। তখন সবেমাত্র বি এস সির শেষ পরীক্ষা দিয়েছি, মোটামুটি বেকার ই বলা যায়। তো একদিন দেখলাম পরিচিত এক ছোট বোন এর ফেসবুকের আই ডি সাজেশনে আইছে। বয়স মোটামুটি ২৩ এর মত হলেও তার প্রতি ক্যামন জানি আকর্ষণ অনুভব করলাম। এদিন সেদিক চিন্তা না করে রিকোয়েস্ট পাঠাইলাম। ছোট বোন নিরাশ করলনা, আমাকে সাদরে ফ্রেন্ড হিসেবে গ্রহণ করল। ওইদিন থেকেই আমার মনে ভেতরের আকুপাকু জনিত কারনে অনেকক্ষণ চ্যাট করলাম। তার ও ওইসময় অনেক ফাকা টাইম ছিল, তাই আমার বেকারত্বের টাইমে তার সাথে ক্রমাগত দিন রাত চ্যাট্টিং শুরু হল। কি খাইল, কি করতেছে, এইসব টিপিক্যাল কথা বার্তা আর কি। এরপর তাকে নিয়ে আমি ঘরতে যেতে চাই কিনা, এইটা সেইটা, ক্রিকেটের গল্প, এসব করতে করতে দুজন দুজনের প্রেমে পরে গেলাম। প্রেম হউয়ার গল্পটা আসলেই আহামরি এক্সসেপশনাল কিছুই না, ওই যেইভাবে হয় আর কি।

তারপরের গল্প টা একটু অন্যরকম হতে পারে, তাই বলা আর কি। আমি ঢাকা আর সে গোপালগঞ্জ এ থাকার কারনে আমাদের প্রথম দেখা হতে প্রায় ২ মাসের মত লেগে গেল, আমার এখন মনে আছে তার সেই পার্পল কালারের ফতুয়াতার কথা যেটা সেদিন সে পরে এসেছিল, অসম্ভব সুন্দর লাগছিল তারে। আমি প্রথম যখন তার হাত ধরলাম তখন ক্যামন জানি কলিজা ঠাণ্ডা হয়ে গেল। একটু রিকশায় করে ঘুরলাম আমরা, তারপর খেলাম আরও কত কি। এই আরও কত কির মধ্যে হালকা অশ্লীল জিনিসপাতিও ছিল। ওইবার আমি টানা ৩ দিন থাকলাম, দেখা করলাম। আমি যেহেতু বেকার, আশার সময় সে আমার হাতে ৭০০ টাকা গুজে দিল, আমি সেটা নিলাম ও, কারণ বেকারদের লজ্জা করতে নেই। বেকার অবস্থায় আমি আরও একবার দেখা করলাম তার সাথে এবং ওইবার আমি খাওয়ার টাকা মানেজ করতে না পএরে সিঙ্গারা দিয়েও লাঞ্চ করলাম। এসব কথা আজকে একটা কারনে মনে পরছে তাই বলা, কারণটা একটু পরেই বলব।

আমাদের প্রথম ভ্যালেন্টাইন ডে, পহেলা বৈশাখ, প্রথম খেলা দেখা স্টেডিয়ামে, প্রথম ঢাকার হাওয়া বাতাস খাওয়া দুজনে, বাইকে ঢাকার অলি গলি চষে বেরান আরও কত কি। এইভাবে খুব ভাল সময় কাটছিল আমাদের। বিষয়টাকে আমরা আমাদের পরিবারকেও জানাইলাম, কিন্তু দুই পরিবার ই প্রথমে রাজি হইতেছিল না কারণ আমার প্রেমিকা ওইসময় অনেক ছোট ছিল, সেটা আমার এবং তার দুই পরিবারের ই আপত্তি ছিল। অনেক চরাই উতরাই পার হয়ে আমরা এনগেজমেন্ট পর্যন্ত গেলাম, আমাদের এনগেজমেন্ট হল ২০১৬ এর মার্চ এ। আমাদের একটা বাজে স্বভাব ছিল, আমাদের কহব ঝগড়া লাগত, অন্তত প্রতি সপ্তাহে একবার। অনেকটা এরকম ছিল যে ঝগড়া না করলে ক্যামন জানি লাগত আমার। আমার মনে হয় তার ও একইরকম লাগত। যাইহোক আমাদের মধ্যে মরমান্তিকভাবে ২০১৮ সালে ব্রেকাপ হয়ে গেল, অনেকটা সময় দুজন দুজনের থেকে দুরে সরে গেলাম।

আজকে আমাদের আনিভারসারি, তাই এত কথা বলা। ছয় বছর আগের এরকম একটা দিনে আমরা দুইজন দুইজনকে সম্মতি দিয়েছিলাম। দুয়া করই সে যেন তার স্বামী সংসার নিয়ে ভাল থাকে। আসলে তার সেই স্বামীটা আমি নিজেই, তার সাথে আমার ব্রেকাপ হলেও আমাদের দুই পরিবারে সম্মতিতে আমরা বিয়ে করি এই বছরের জানুয়ারী তে। আমরা এখন প্রচুর ঝগড়া করি, ইভেন এখন তার সাথে আমার ঝগড়া চলে, কিন্তু সত্যি কথা অনেক ভাল আছি। মাজেহ মাজেহ মনে হয় সে পাশে থাকলে আমি নরকে যেতেও রাজি আছি, তার মত মানুষকে পাশে পাইলে আমার আর কিছু লাগে না। আমি তার সাথে সহস্র বছর ঝগড়া করতে চাই, আর অনেক ভালবাসতে চাই।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:৪৩
৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শরীফ থেকে শরীফা ইস্যু কেন চাঙা হচ্ছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:১৭


দেশে ট্রান্সজেন্ডার ও সমকামী ইস্যু নিয়ে জল ঘোলা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমকামী ইস্যুতে একের পর এক বহিষ্কারের ঘটনার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্প - অভাগীর সুর ব্যঞ্জনা – পর্ব ১ -

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


শহরটা রাতে কখনও পুরো ঘুমোয় না। কেউ প্রেমে জাগে, কেউ স্বপ্নে, কেউ অপরাধবোধে।আর কেউ কেউ জেগে থাকে অভাবে। তিনতলার ছোট্ট ভাড়া-বাড়িটির জানালার পাশে বসে শিরীন হারমোনিয়ামের রিডে আঙুল রাখল।

বাইরে তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মদিনে তাহাদের জন্য শুভকামনা। আমার জন্মদিনের স্মৃতি...

লিখেছেন করুণাধারা, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬



একেকটা জন্মদিন পার করা মানে জীবন বইয়ের একেকটা পৃষ্ঠা পড়ে ফেলা, কয়েক বছর পরপর সেই বইয়ের একেক অধ্যায় শেষ হয়! বইটা ট্রাজেডি না কমেডি, একেবারে শেষ পর্যন্ত না পৌঁছালে তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুপ - একদম চুপ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



আমরা শুধু চুপ থাকবো -
আমাদের কথা বলার মুখ নেই
আমাদের দেখার মতো চোখ নেই
আমাদের শোনার মতো কান নেই
মনে হয়, মনে হয় -
আমাদের হাত-পাও নেই।

আমাদের বিবেক নেই
আমাদের চিন্তা-চেতনাও নেই
আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২





হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

...................................................................
মানচিত্রের আঁকাবাঁকা রেখায় তারে পাবেনা,
সে নদী তো চেনা কোনো ঠিকানায় যাবে না।
তার কোনো কূল নেই, নেই কোনো ঘাট,
সে বয়ে চলে একা, বুক জুড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×