জাফর ইকবালকে আমি প্রথম দেখি ২০০৫ সালের বইমেলায়।
আশ্চর্য একটা মানুষ! সবাইকে অটোগ্রাফ দিচ্ছেন দেদারসে।
কেউ ফটোগ্রাফ চাইলেও সঙ্গেসঙ্গে হাসিমুখে পোজ।
আমার মনে একটা প্রশ্ন জমেছে, মানুষটার কী কখনোই মন
খারাপ থাকেনা?
নাকি মন খারাপের ভাবটা অনেকসময় আড়াল করে ফেলে
নির্মল হাসি দিয়ে?
জাফর ইকবাল এবং ইয়াসমিন ম্যাডামের সাথে সেই সময়ই
প্রথম ছবি তুলেছিলাম। এখনো সেই ছবি আমার কাছে আছে।
বইমেলায় প্রতিবছরই দেখি তাকে। অটোগ্রাফ নিয়েছি
অনেক কিন্তু আর কখনো সাথে
দাঁড়িয়ে ছবি তোলা হয়নি।
জাফর ইকবালের কিশোর উপন্যাসগুলো পড়লেই অন্যরকম
শিহরণ জাগে মনে! বলতে দ্বিধা নেই, চোখ দিয়ে টপটপ করে
পানি গড়াতো আবেগের তাড়নায়।
দিপু নাম্বার টু আমাদের শৈশবের সাথে প্রবলভাবে মিশে
আছে।
হাকারবিন আমাদের কৈশরেরই একটা চরিত্রের অংশ!
আমি তপু, বা আমার বন্ধু রাশেদের মতো গল্প জাফর ইকবাল
ছাড়া আর কারো পক্ষে লেখা সম্ভব না।
জাফর ইকবাললের বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিল। পুলিশ
ক্যাম্প থেকে অস্ত্র নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়েছিলেন।
একসময় পাকিস্তানি ও রাজাকারদের হাতে শহীদ হন।
রাজাকারদের সাথে জাফর ইকবাল হাত মেলান না। যদি কেউ
রাজাকার না জেনে হাত মিলিয়ে ফেলেন, তাহলে হাত ধুয়ে
ফেলেন। তার বইতেই পড়েছি, এটা রাজাকারদের প্রতি তার
একধরণের ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ। রাজাকারদের দোসরদের হাতে
শুধু একটাই অস্ত্র আছে। যাকে তাদের ভাল্লাগবেনা,
তাদেরকেই নাস্তিক মুরতাদ বলে কল্লা ফালানোর ধান্দায়
থাকে।
জাফর ইকবালকেও তারা নাস্তিক বলে বহুবার মৃত্যু পরোয়ানা
জারি করেছিল। কিছুই করতে পারেনি।
এখন সরকারি এমপি তাকে চাবুকপেটা করার ঘোষণা দেয়।
তাকে নাস্তিক ফতোয়া দিয়ে মৌলবাদীদের চাপাতির
নিচে ফেলে দিয়ে তার মৃত্যুকেও জায়েজ করতে চায়। জাফর
ইকবালকে আক্রমণ করা হলেও প্রশাসন বরাবরের মতোই নিশ্চুপ
অবস্থান নিবে। তারা চায় না, ধর্মান্ধ
উগ্রবাদীদের শাস্তি দিতে। তাহলে ধর্মান্ধ জাতি আবার
সহিংসতা চালাবে এই বলে যে, ধার্মিকদের ধরে ধরে
ফ্যাসিবাদী সরকার শাস্তি দিচ্ছে।
কত সহজেই ধূর্ত ধর্মান্ধরা বনে যায় নিরীহ ধার্মিক!
কারো কিচ্ছু যায় আসে না; শুধু আমি জানি জাফর ইকবালকে
হারালে, হারিয়ে যাবে আমার তুমুল শৈশব, চেতনায় তিল তিল
করে গড়ে ওঠা নমনীয়তার বীজ।
অন্নেক ভালোবাসি তোমাকে জাফর ইকবাল।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



