
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে যেসমস্ত বেসামরিক বাহিনী মাঠে ছিল তন্মধ্যে টাঙ্গাইলের "কাদেরিয়া বাহিনী" ছিল সর্বাধিক শক্তিশালী এবং সক্রিয়। কাদেরিয়া বাহিনীর প্রধান এবং প্রতিষ্ঠাতা। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি ছিলেন একজন ছাত্র, স্কুলে পড়াকালে তার সামরিক প্রশিক্ষন ছিল এবং যুদ্ধ শুরু হওয়া মাত্র তিনি যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন।
যুদ্ধের একপর্যায়ে তিনি পলায়নরত কিছু পাকিস্তানী মিলিটারীদের ধাওয়া করতে গিয়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। কিন্তু অদম্য কাদের সিদ্দীকি একবারের জন্যেও পিছু হটেননি! তিনি সেই অবস্থায় প্রায় ৪০জন মিলিটারিকে কুপোকাত করেন। এবং পরবর্তিতে তার সহযোদ্ধারা তাকে চিকিতসার জন্যে নিয়ে যায়।
মুক্তিযুদ্ধে মহান অবদানের জন্য তাকে দেয়া হয় "বীর উত্তম" খেতাব। এছাড়াও জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতি ছিল তার অগাধ সম্মান। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর তিনি আরেকবার যুদ্ধ করতে চেয়েছিলেন হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তিনি এতটাই মর্মাহত হয়ে পড়েছিলেন যে তিনি ১৯৭৭ সালে স্বেচ্ছায় নির্বাসনে চলে আসেন। পরবর্তিতে অবশ্য দেশে ফিরে এসে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
বঙ্গবন্ধুর পর নামের মর্যাদায় যার নামটি মনে আসে তিনি আমাদের বঙ্গবীর কাদের সিদ্দীকি সাহেব। মুক্তিযুদ্ধে তার অদম্য সাহসিকতা বিরল উপাখ্যান সৃষ্টি করে। তিনি ১৯৭১ সালে ভারতীয় বাহিনীর সাহায্য ব্যতিরেকে ঢাকা আক্রমনের ছক কষেন! এরকম সাহসিকতার সম্মান আমরা কিভাবে ফিরিয়ে দিচ্ছি?
উপ-নির্বাচনে তার প্রার্থিতা নিয়ে জল ঘোলা করার মাধ্যমে।
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কথিত শক্তি গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার উনাকে উদ্দেশ্য করে এক সমাবেশে বলেছিলেন একটি ডায়লগ ব্যাবহার করেন, 'রাজাকার চিরদিনের রাজাকার, মুক্তিযোদ্ধা চিরদিনের মুক্তিযোদ্ধা নয়!' এ ধরনের মন্তব্যের জন্যই কি তিনি প্রাণ হাতে নিয়ে দেশের জন্য লড়েছিলেন?
এছাড়া বর্তমান সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা সময় অসময়ে তাকে নিয়ে কত কথা বলেছেন তা ইয়ত্তার বাইরে। টাঙ্গাইল-৮ আসনের এমপি একদা জনসমাবেশে উনার বিচার দাবি করেছিলেন!
তাকে নিয়ে সবচেয়ে বড় বিতর্ক হয়, উনি নাকি বলেছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়া! এটা উনার ভাষায় ই বলি, এক কোটি বার মিথ্যা। ( বঙ্গবন্ধুর পক্ষে জিয়া স্বাধীনতার ঘোষনা করেন
উনার বিচার নাকি দরকার এই দেশের মাটিতে!
সত্যি, এই দেশকে স্বাধীন করার জন্য যারা নিজের জীবন বাজি রেখেছিলেন তাদের প্রত্যেকের বিচার হওয়া উচিৎ! কারন আমরা জাতি হিসেবে বেঈমান!
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




