বাংলাদেশ একটি স্বল্প আয়ের উন্নয়নশীল দেশ। বর্তমানে গ্যাস সংকটের কারনে আমাদের পাওয়ার সেক্টরেরও দৈন্য দশা। অকারনে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে বিলাশবহুল পন্য আমদানী আর বিদ্যুত-গ্যাসের অপচয়ে গোটা দেশ যে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে মুখ থুবড়ে পড়বে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু এদেশের এক শ্রেনীর মানুষের সে চিন্তা আছে বলে মনে হয় না। অযথা আমদানী আর বিদ্যুত অপচয়ের সর্বশেষ সংযোজন – অফিস ও বাসা বাড়ীতে ওয়াটার-কুলার বা হট এন্ড কোল্ড ডিসপেনসারের আগমন।
বিগত বেশ কয়েক বছরে কর্পোরেট অফিস ও আবাসিক এলাকাগুলোতে বিভিন্ন কোম্পানীর জার-পানি সহজ লভ্যতার কারনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। (দূষিত ওয়াসার পানিও খুব বড় একটা কারন।) কোম্পানীগুলো তাদের গ্রাহকের কাছে তাদের ব্যবসায়ীক পলিসি অনুযায়ী চীন/তাইওয়ানের দামি ওয়াটার কুলার ডিসপেনসার সরবরাহ করে। এই ডিসপেনসারগুলোর সুবিধা (!) হলো এগুলো থেকে একই সময়ে ঠান্ডা ও গরম পানি (কম করে হলেও) পাওয়া যায়। কিন্তু এগুলো অপারেট করতে প্রচুর বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। এবং এ মেশিন গুলো খুব বেশিই বিদ্যুত কনজিউম করে। মাঝারি ধরনের ইলেক্ট্রিক ডিসপেনসার গুলোর Energy Consumption প্রায় 1.5KW.h/24 h (rated input heating > 500 W)। এগুলোর দাম পরে ৩,০০০ – ৬,০০০ টাকা। আর কম্প্রেশর ডিসপেনসারের কনজামশন ও দাম (৮,০০০ টাকার – ২০,০০০ টাকা) আরও বেশি। আর এসব মেশিন খুব বেশি দিন সার্ভিস দিতে পারে না। বছর খানেকের মাথায় একটা অকেজো বাক্সের মত পরে থাকে।
ঢাকার বেশিরভাগ অফিস শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। সেখানে বোতলে বা জারে রাখা পানি এমনিতেই ঠান্ডা থাকে। আবার বাসা বাড়িতে ফ্রিজ, গ্যাসের চুলা থাকা সত্ত্বেও এই জিনিষের কি আদৌ কোন প্রয়োজন আছে? যেখানে শুধু মাত্র একটি নরমাল ডিসপেনসার (বিদ্যুতের দরকার হয় না) দিয়ে জার-পানি ব্যবহার করা যায়, সেখানে আমাদের এই বিলাশীতার পক্ষে কোন যুক্তি দেখি না? আমার মনে হয় সরকারের উচিত এই সব ফালতু পন্যের আমদানী নিষিদ্ধ করা। আমরা সবই বুঝতে পানি- কিন্তু দেরিতে। যার ফলে শুধু পিছনেই পড়ে যাই বার বার।
পরিশেষে ব্লগ বাসির কাছে অনুরোধ, আপনার থেকেই সচেতনতা শুরু হোক। যাদের বাসা/অফিসে এইসব বাড়তি জিনিষ আছে তারে যেন কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে বলি। আমরা না হয় একটু কম ঠান্ডা পানিই পান করলাম। কি দরকার অপচয়ের?
ছবিঃ ছোট মাপের একটি ইলেক্ট্রিক ডিসপেনসার ও জার-পানি।
আলোচিত ব্লগ
স্পিরিট শোন বাই আমেরিকান এয়ারলাইন্স-এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত!

যে আয়না আর প্রতিচ্ছবি রাখে না

আমাদের ভালোবাসা ছিল এক গোপন সন্ধ্যার মতো,
জোনাকিরা তখন শব্দহীন কবিতা হয়ে বসত সিঁথির পাশে,
হাত ধরলেই হৃদয় জেগে উঠত,
বুকের ভেতর গুনগুন করত অনন্ত প্রতিশ্রুতির গান।
তুমি তখন আমার দেহে নয়,
আমার সত্তার স্পর্শে... ...বাকিটুকু পড়ুন
গল্পঃ আমাদের খারাপ দিনের পর

করোনার সময় নানান উত্থান পতন ছিল আমাদের, আব্বা মা ছোটবোন সহ আমি নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় মরে যেতে যেতে বেঁচে গিয়েছিলাম শেষ মুহূর্তে, বেঁচে গিয়েছিল আমাদের ছোট্ট সোনার... ...বাকিটুকু পড়ুন
ডোগান- এক রহস্যময় জাতি

আফ্রিকার মালি এর হৃদয়ে, খাড়া পাথুরে পাহাড় আর নির্জন উপত্যকার মাঝে বাস করে এক বিস্ময়কর জনগোষ্ঠী ডোগান। বান্দিয়াগারা এস্কার্পমেন্ট অঞ্চলের গা ঘেঁষে তাদের বসতি । এরা যেন সময় কে... ...বাকিটুকু পড়ুন
আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১৩)

সূরাঃ ১৩ রাদ, ১১ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১। মানুষের জন্য তার সম্মুখে ও পশ্চাতে একের পর এক প্রহরী থাকে। উহারা আল্লাহর আদেশে তার রক্ষণাবেক্ষণ করে। আর আল্লাহ কোন সম্প্রদায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।