somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মার্কো পোলো
সামু তে সময়ক্ষেপণ করি, অতি জানাশোনার ভিড়ে নিজের স্বল্পকায় জ্ঞান আজিকে সার্থক বলিয়া বোধোদয় হইতেছে। পড়াশুনা আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর, ঢাবি।

"আমি আইন জানি না" এটা কোন অজুহাত নয়

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ দুপুর ২:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আইন জগতে একটি বহুল প্রচলিত ম্যাক্সিম হলো ল্যাটিন ভাষায় Ignorantia juris non excusat. কেউ একটি ভুল করে এসে অজুহাত দিতে পারবেনা যে ওহ আমি তো জানতাম না যে আমি যা করেছি তা আইনে নিষিদ্ধ।

সংসদ বা অথরিটি তথা সরকার যে আইন করবে, তা জনগণের জানা থাকা উচিত। সরকার আইন প্রনয়ণ করে যাবে আর তা জেনে নেওয়ার ও সেই আইনমতে চলার দায়িত্ব জনতার। সরকারের প্রতিটি নাগরিকের কানের কাছে এসে বলা বাস্তবসম্মত নয় যে অমুক আইন হয়েছে, এখন থেকে অমুক কাজটি করা যাবেনা।

তাছাড়া, কেউ যদি সংশ্লিষ্ট আইন জানা থাকার পরও দাবী করে বসে যে সে আইনটি সম্পর্কে জানতোনা তাহলে কি হবে?
সে-ক্ষেত্রে হয়তো বার্ডেন অব প্রুফ সোজা গিয়ে পড়বে ক্লেইম্যান্ট আসামী/বিবাদীর উপরঃ তুমিই প্রমান কর যে তুমি আইনটা জানতেনা! আর এই অজুহাতকে প্রশ্রয় দিলে জনতা তো আইন জানতেও আগ্রহী হবেনা। এসব-ই ট্রাডিশনাল এ্যাপ্রোচ। কিন্তু আজকাল এই এ্যাপ্রোচের যথেষ্ট সমালোচনা হচ্ছে। আসুন দেখি, এই এ্যাপ্রোচের বিপরীতে আধুনিক আইনবিদগণ কি ভাবছেন।

আমরা যে due process এর কথা জানি, তার অন্যতম একটি প্রিন্সিপল হল Principle of fair warning, অর্থাৎ আইনে কি নিষেধ করা হলো না হলো তা জনতাকে অবশ্যই যুক্তিসঙ্গতভাবে সতর্ক করতে হবে। সরকার অনেকসময় অনেক কঠোর শাস্তির বিধান-সম্বলিত আইন করে রেখে দিতে পারে, যা জনতা না-ও জানতে পারে। এখন সেই জনতার কেউ যদি সেই আইনের আওতায় চলে আসে ও আইন না জানার অজুহাত দেখায়, আর আদালত যদি তাকে ‘নো এক্সকিউজ’ বলে সাজা দিয়ে দেয়, তাহলে কি তার প্রতি অবিচার হবে না? সরকারকে অবশ্যই যথেষ্ঠ পরিমানে আইনটির প্রচার প্রচারণা চালানো উচিত। শুধু গেজেটে প্রকাশ করা কি যথেষ্ট?

এ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ল’তেও আমরা পড়েছি, কারও বিরুদ্ধে কোন এ্যাকশন নিতে গেলে পূর্বে তাকে যুক্তিসঙ্গত সময় দিয়ে নোটিশ করতে হয়, জানাতে হয়, সতর্ক করতে হয়।

একটা আইন কেউ জানতো কি জানতো না তা নির্ণয় করা অবশ্য একটি জটিল ব্যাপার। এজন্য নানান মেকানিজম নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা হচ্ছে। যেমন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যে এলাকায় বাস করে সে এলাকার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ (যাদের শিক্ষাদীক্ষা ও বুদ্ধির একটি স্ট্যান্ডার্ড রয়েছে) আইনটি জানে/জানতো কিনা।

আমাদের দেশের অবস্থা একটু চিন্তা করা যাক। দেশের অধিকাংশ লোক এখনও সুশিক্ষিত নয়। রাষ্ট্র বা সরকারসমূহ জনতার শিক্ষার যথেষ্ঠ বন্দোবস্ত করেনি, করেছে কি?
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র এক্ষেত্রে সবসময় ‘চেষ্টা’ করে থাকে। তারমধ্যে আমাদের আইনগুলোর ভাষা হলো ইংরেজী। ইদানীং কিছু আইন বাংলায় হচ্ছে। কৃষক শ্রমিক জনতা এই আইনের কতটুকুই বা বুঝবে?

এমনিতেই কিন্তু আইনের ভাষা (সঙ্গত কারণে) বেশ জটিল। একটা আইন শুধু গেজেটে প্রোমালগেট করাই কি যথেষ্ট?
শিক্ষিত লোকজনও কি স্বাভাবিকভাবে খোঁজখবর রাখে, কোন আইনটা পাশ করলো সংসদ?

আবার, এই আইনগুলো জনতা কোথায় কিভাবে পাবে বা পড়তে পারবে তা কি তারা জানে? তাদের কি সেই সক্ষমতা আছে?

ইন্টারনেটে, ধরা যাক, আইনগুলো পাওয়া যায়। দেশের সাধারণ মানুষ কি ইন্টারনেট থেকে আইন উদ্ধার করে তার পাঠোদ্ধার করতে সক্ষম?

সক্ষম নয় বলে তার দায় কতটুকু তাদের উপরে চাপানো যায়? এখানে একটি বড় ফাঁক থেকে যাচ্ছে, নয় কি?

আবার প্রতিটি আইনের বিধি বিধান জনগণের সামনে যথেষ্ট সহজ ও স্পষ্টভাবে উপস্থাপিত হওয়া বাঞ্চনীয়। Void-for-vagueness doctrine নামে আমেরিকায় বিচারিক সিদ্ধান্ত তথা কমন ল’ হতে উদ্ভাবিত একটি ডকট্রিন আছে যার মূল কথা হলোঃ
“men of common intelligence cannot be required to guess at the meaning of [a criminal] enactment.”

একটা আইনের অর্থ সাধারণ-বুদ্ধির একজন মানুষ বুঝবে – তা কি আশা করা ঠিক? শুধুমাত্র আইন অস্পষ্ট থাকায় অনেক আসামীকে মার্কিন আদালত খালাস দিয়ে দিয়েছে। এক্ষেত্রে আমেরিকার ল্যান্ডমার্ক মামলাটি হলো Lambert v. California, 355 U.S. 225 (1957) যেখানে সূপ্রীম কোর্ট ঘোষণা করেন, অস্পষ্ট আইনের আওতায় কাউকে সাজা দেওয়া অসাংবিধানিক।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ দুপুর ২:০৯
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×