somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শাফিউর রহমান ফারাবী
ইয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাংলাদেশের প্রান্ত হতে আপনাকে হাজার সালাম! ইয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার পিতা মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক

যয়নব রাযিয়াল্লাহু আনহার সাথে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিয়ে প্রসঙ্গে কিছু কথা

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ১০:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি অনেকদিন ধরেই দেখছি যে যয়নবের সাথে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিয়ে নিয়ে অনেক নাস্তিক/তথাকথিত মুক্তমনারা নেট জগতে ঘৃণার বানী ছড়াচ্ছে। আর শার্ট প্যান্ট পরিহিত সাধারন যুবকরা সীরাত [ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবনী কে সীরাত বলা হয় ] সম্পর্কে ভাল করে পড়াশুনা না থাকার কারনে দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে বিভ্রান্ত হচ্ছে। তাই ভাবলাম এই বিষয় নিয়া একটা ব্লগ লিখি।

প্রথমেই বলে রাখা ভাল যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ৩ জন ছেলেই শৈশব কালে মারা গিয়েছিল। আর
যায়েদ ছিল আমাদের নবীর দাস। যায়েদ শৈশব কালে জাহেলিয়াত যুগে ঘটনাচক্রে দাস হিসাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে নীত হন। পরবর্তীতে যায়েদের পিতা, চাচা যায়েদ কে মুক্তিপণের মাধ্যমে মুক্ত করতে চাইলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যায়েদের পিতা কে বলেন মুক্তিপণ লাগবে না। আমি বিনা মুক্তিপণেই যায়েদ কে স্বাধীন করে দিলাম। কিন্তু যায়েদ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে ছেড়ে আর তার পরিবারের কাছে যায় নি। যায়েদ তার শৈশব ও যৌবণকাল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছেই কাটায়। এবং নবুয়তের প্রথম যুগেই যায়েদ মুসলমান হয়ে যায়। তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যায়েদ কে খুব ভালবাসতেন। জাহেলিয়াতের যুগে যায়েদ কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালক পুত্রের মর্যাদা দিয়েছিলেন এবং যায়েদ কে ডাকা হত যায়েদ ইবনে মুহাম্মদ। যায়েদের সাথে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর আপন ফুফাত বোন যয়নব কে বিয়ে দিয়েছিলেন।

কিন্তু পালক পুত্র কন্যা নেয়া ইসলামী শরীয়তে যখন হারাম হয় এবং পালক পুত্র কে কখনোই নিজের পুত্র বলে ডাকা যাবে না এই ওহী যখন নাযিল হয় তখন যায়েদ শুধু একজন মুক্ত দাসের মর্যাদা পায়। অর্থ্যাত্‍ যায়েদের স্ত্রী যয়নব কখনই আমাদের নবীর পুত্র বধু ছিল না বরং সে ছিল একজন দাসের স্ত্রী। তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনই তাঁর পুত্র বধু কে বিয়ে করেননি বরং তাঁর দাস যায়েদের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী যয়নব কে বিয়ে করেছিলেন।

উল্লেখ্য যে যয়নব ছিল আমাদের নবীর আপন ফুফাত বোন। বিয়ের পরে যায়েদের সাথে যয়নবের বনিবনা হয়নি। তাই স্বাভাবিক ভাবেই তাদের মাঝে তালাক হয়। পরবর্তীতে যয়নবের একান্ত ইচ্ছায় এবং পালক পুত্র নিজের পুত্র নয় শুধু এটা বুঝানোর জন্যই আল্লাহ সুবহানাতায়ালার নির্দেশে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যয়নব কে বিয়ে করেছিলেন। মূলত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর আপন ফুফাত বোন যয়নব কে বিয়ে করেছিলেন। যে যয়নবের বিয়ে নিয়ে এত কথা সেই যয়নবের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে বিয়ের সময় উনার বয়স ছিল ৩৭ বছর।

জাহেলিয়াত যুগের অনেক প্রথাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের দ্বারা প্রথম রহিত করেছিলেন। যেমন খুনের বদলে খুন এই রীতি টা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রহিত করেছিলেন উনার বংশের ইবন রবীয়া ইবন হারিছের রক্তের বদলা বাতিল ঘোষনা করে, সুদ প্রথা প্রথম বাতিল ঘোষনা করেছিলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দাদা আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের সুদের দাবী মাফ করে ঠিক তেমনি পালক পুত্র সম্পর্কে যেইসকল অনৈসলামি আক্বীদা ছিল আরব সমাজে তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যয়নব কে বিয়ে করার মাধ্যমে দূর করেছিলেন। জাহেলিয়াতের যুগে পালক পুত্র সম্পত্তির অংশীধার হত এবং পালক পুত্র কে নিজের পুত্র হিসাবেই গন্য করা হত। কিন্তু এখন ইসলামি আইনে পালক পুত্র কন্যা বলতে কিছু নাই। পালক পুত্র কন্যার মাধ্যমে পর্দা প্রথা নষ্ট হয়। তবে মাহরুম অর্থ্যাত্‍ যাদের সাথে বিয়ে হারাম তাদের কে দত্তক/পালক নেয়া যাবে। যেমন আয়েশা রাযিআল্লাহু আনহা তাঁর আপন ভাইয়ের ছেলেকে দত্তক নিয়েছিলেন।

ইসলামী আক্বীদা সংশোধনের জন্য আরো পড়তে পারেন
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বহু বিবাহ প্রসঙ্গে ইসলাম বিদ্বেষীদের সমালোচনার জবাব
বনী কুরায়জা গোত্রের সকল পুরুষ ইহুদি হত্যা করা প্রসঙ্গে একটি পর্যালোচনা
ইসলামি শরীয়াহ কি কখনই দাস দাসী প্রথাকে সমর্থন করেছিল
স্টালিনের নৃশংসতার স্বীকার এক বাঙ্গালী বিপ্লবী
মাওসেতুং এর সময় চীনা মুসলমানদের দূর্দশতার কথা শুনুন

সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১২ সকাল ১১:২৩
৪১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:০১

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

ছবি, সংগৃহিত।

সারসংক্ষেপ

রমজানের রোজা ইসলামের অন্যতম মৌলিক ইবাদত। সাধারণ মুসলিম সমাজে রোজা ভঙ্গের ধারণা প্রধানত পানাহার ও যৌন সংসর্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অথচ কুরআন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভ্রমণব্লগ: আলোছায়ার ঝলকে এক অপার্থিব যাত্রা”

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬

মালয়েশিয়া আমার বেশ পছন্দের একটি দেশ। আমার জীবনের একটি অংশের হাজারো স্মৃতি এই দেশে। একটা সময় ছিল যখন এই দেশ ছিল আমার সেকেন্ড হোম।‌ এখন ও আমার আত্নীয়-স্বজন, ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধবের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Will you remember me in ten years!

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ

লিখেছেন বিপ্লব০০৭, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৭



মানুষ আসলে কী?

Sophies Verden কেতাবে নরওয়েজিয়ান ইয়স্তেন গার্ডার (Jostein Gaarder) এক বিশাল বয়ান পেশ করেছেন ছোট্ট মেয়ে সোফির জীবনের গল্প বলতে বলতে। নীতি-নৈতিকতা, জীবন-জগৎ, সৃষ্টি নিয়ে সোফির ধারণা ছিলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোনো হে রাষ্ট্র শোনো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০২


নিশ্চল শহরে আজ ক্ষুধারা হাঁটে পায়ে পায়ে
ফুটপাথে শুয়ে রয় ক্ষুদার্ত মুখ।
চালের বস্তার সেলাই হয়নি ছেড়া,
রুটির দোকানে আগুন ওঠেনি জ্বলে।
ক্ষুদার্ত আধার জাপটে ধরে আষ্টেপৃষ্টে।

আমার চোখ লাল, ভেবো না নেশায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×