somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইহা গনতন্ত্র সমাচার

১০ ই জুন, ২০১৪ রাত ৩:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক ভদ্রলোকের কথা কল্পনা করুন যিনি শহরে চাকুরী করেন। গ্রামে তার কয়েক বিঘা জমি আছে। বছরে পাচ হাজার টাকা দেওয়ার শর্তে ভদ্রলোক সেই জমিগুলো একজন গরীব চাষাকে দিয়েছেন চাষ করার জন্য। ভদ্রলোক শহরে এতটাই ব্যাস্ত থাকেন যে, বছরে একবারও গ্রামে সশরীরে হাজীর হওয়া তার পক্ষে সম্ভব হয়না। বছরান্তরে চাষা নিজে শহরে এসে পাওনা টাকাটা পরিশোধ করে যায়। সবকিছু ঠিকঠাকই ছিল হঠাৎ ঘটে বিপত্তি। কয়েক বছর চাষাকে টাকা পরিশোধ করতে আসতে দেখা যায়না। ঘটনা কি জানার জন্য শত অপারগতা সত্বেও বাধ্য হয়ে ভদ্রলোককে গ্রামমুখো হতেই হল। গ্রামে যাওয়ার পরই তিনি বুঝতে পারলেন আসল ঘটনা কি। এতদিনে চাষা জমিটা দখল করার প্রায় সব রাস্তা পাকা করে ফেলেছে কেবল দলিল নেই এই যা। বছরে যে পাচ হাজার টাকা ভদ্রলোকের জন্য বরাদ্দ ছিল সেটা খরচ করেছে গ্রামের লোকদের পিছনে। তার জমিতে যা চাষ হয় গ্রামের কয়েকঘর লোক তা থেকে পর্যাপ্ত পরিমান পায়। কিন্তু বেচারা শহুরে লোকটা জমির মালিক হওয়া সত্বেও সব কিছু থেকে বঞ্চিত থেকে যায়। ভদ্রলোক চাষার নিকট পাওনা টাকা চাইতেই সে চেচিয়ে বলে
কিসের টাকা ?
গ্রামের অন্য সবার সাথে কথা বলেও সুবিধা হলনা। তাদের একই কথা
বেচারা গরীব মানুষটা তো শান্তিতেই করে কর্মে খাচ্ছে কেন বাপু তুমি এখন এসে ফিতনা ফাসাদ সৃষ্টি করছো ?
এহেনো করুন পরিস্থিতিতে ভদ্রলোকের অতল সমুদ্রে তলিয়ে যাওয়ার মত অবস্থা হল। হঠাৎ দেখা গেল একজন বয়স্ক সম্মানিত ব্যাক্তি সেই পথ দিয়েই দ্রুত পায়ে কোথাও যাচ্ছেন। তাকে দেখেই উপস্থিত সবাই তড়ি ঘড়ি করে উচু স্বরে সালাম দেয়। ভাব সাব দেখে মনে হল তিনি এগ্রামের সর্বমান্য ব্যক্তি। ভদ্রলোক শেষ চেষ্টা হিসাবে তাকেই সব কিছু খুলে বললেন। সর্বমান্য ব্যাক্তিটি গনতন্ত্রমনা ছিলেন। সব শুনে তিনি কিছুক্ষন নিরব থাকলেন। আশপাশেও পিন পতন নিরবতা বিরাজমান ছিল। বোঝাই যাচ্ছে আগন্তুক যে রায় দেবেন তাই গ্রহন যোগ্য হবে। বেশ কিছুক্ষন চিন্তা গবেষনা করে গ্রাম্য ভদ্রলোকটি মুখ তুলে চিবিয়ে চিবিয়ে বললেন
-এ গ্রামের বেশিরভাগ লোক যার পক্ষে রায় দেয় জমিটি তারই হস্তগত হবে।
এধরনের বিচার শুনে শহুরে ভদ্রলোকটি তো আকাশ থেকে পড়লেন। চোখ কপালে তুলে বললেন,
আমার নিকট তো দলিল প্রমান রয়েছে ভোটাভুটি করতে যাবো কেন
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুন, ২০১৪ রাত ৩:৩৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

লুচ্চামি আর যৌন হতাশা এক বিষয় না।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২


সম্প্রতি জামায়াতের এক লুচ্চা এমপি-র অন্তত দুইজন তরুণী নিয়ে কট খাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তিনি তরুণী নিয়ে হোটেল, কোচিং সেন্টারে রুম ডেট করতেন। নেটিজেনরা তার এই লুচ্চামি এমনভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুমি আমার আধো আধো সকাল হবে?

লিখেছেন এম ডি মুসা, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:০৬

তুমি আমার আধো আধো সকাল হবে?
-মোঃ মুসা (গাঙচিল)

তুমি আমার আধো আধো সকাল হবে?
ঘর কাপলের জোড়া শালিক!
শেষ শিশিরের নরম আলো
তোমার মনে মুখটা একটু ধুইতে দেবে?

তুমি আমার নৌকা বিহীন নদী হবে?
বৈঠা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রপতির বিদায়ঘণ্টা: রাজনীতি ও নৈতিকতা

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১৩



বাংলাদেশের রাজনীতি অঙ্গনে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের
পদত্যাগ কেবল একজন ব্যক্তি বা কোন একটি বিশেষ পদের পরিবর্তন নয় বরং এটি দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির ডায়েরি: শৈশবের মাছ ধরা, বৃষ্টির দিনে কইয়ের পদযাত্রা আর হারিয়ে যাওয়া সেই দিনগুলো!

লিখেছেন ওয়াদুদ সোহেল মোল্লা, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৫৯


সামহয়্যার ইন ব্লগের সবাইকে শুভেচ্ছা। শহরের যান্ত্রিক জীবনে যখন হাঁপিয়ে উঠি, তখন স্মৃতির জানালা গলে উঁকি দেয় ফেলে আসা শৈশব। আমার ছোটবেলার সবচেয়ে বড় নেশা আর শখ ছিল—মাছ ধরা! ছিপ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেনাবাহিনী যখন দেশপ্রেম দেখাতে ব্যর্থ ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৫০



গণঅধিকার পরিষদ ছেড়ে আসা বিএনপি নেতা রাশেদ খান বলেছেন, ‘ক্যান্টনমেন্টের স্পষ্ট ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পর নাহিদ ইসলাম এক দফার ঘোষণা করেছিলেন।’ জুলাই বিক্ষোভ নিয়ে শুক্রবার নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×