আমি এই গল্পটি কিছুদিন আগে এখানকার পত্রিকায় পড়েছিলাম। গল্পটি হঠাৎ আমার ভাল লাগল। গল্পটি আজকে আমি এখানে লিখব। আশা করি আপনাদের ভাল লাগবে।
অনেকদিন আগের কথা। ছোট একটা শহরে এক ধনী বৃদ্ধ এবং তার ছেলে বিশাল বাড়িতে বাস করতেন। ছেলেটি পেশায় সৈনিক ছিল। বাবা-ছেলে দুজনেরই শখ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চিত্রকর্ম সংগ্রহ করা। তাদের পুরা বাড়ি ছিল পিকাসো,ভ্যান গগ,হেনরী রুঁসো এবং আরও বিখ্যাত শিল্পীদের চিত্রকর্মে ভরা। একসময় দেশে যুদ্ধ শুরু হল এবং ছেলে যুদ্ধে চলে গেল। এক বছর পর বৃদ্ধের সাথে দেখা করতে একজন আসল। সে বলতে লাগল "আপনার ছেলে এবং আমি একসাথে যুদ্ধে গিয়েছিলাম। যুদ্ধে আমাকে বাঁচাতে গিয়ে আপনার ছেলের মৃতু্য হয়। আমি আহত ছিলাম তাই ঠিক সময়ে আপনাকে খবর দিতে পারিনি। আমাকে মাফ করবেন। আমি কোনদিন এই ঋণ শোধ করতে পারব না।" তারপর সে বলতে লাগল "আমি জানি আপনি ছবি সংগ্রহ করেন। আমি আপনার জন্য একটি ছবি এঁকেছি। আপনি নিলে আমার ভাল লাগবে।" এই কথা বলে সে একটি ছবি বের করল। বৃদ্ধ দেখলেন ছবিটি আর কারও না তারই ছেলের ছবি। খুবই কাঁচা হাতে আঁকা ছবি। তার মত সংগ্রহকারীর কাছে এই ছবি বড়ই বেমানান। কিন্তু বৃদ্ধ পরম মমতায় ছবিটি জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলেন এবং বারবার সৈনিকটিকে ধন্যবাদ দিতে লাগলেন তার ছেলের শেষ খবর এবং ছবিটির জন্য।
কয়েকবছর পর বৃদ্ধ মারা গেলেন। এবার তার ছবিগুলো নিলামে তোলা হল। নর্িিদষ্ট দিনে দূর দূরান্ত থেকে অনেক গণমান্য ব্যক্তিরা আসলেন। নির্দিষ্ট সময়ে নিলাম শুরু হল। নিলামদার প্রথমে বৃদ্ধের ছেলের সেই ছবিটি নিলামে তুলল। সবাই অবাক হয়ে বলাবলি শুরু করল এত বাজে ছবি কার এবং কে এঁকেছে। বলা বাহুল্য কেও জানত না এটা বৃদ্ধের ছেলের ছবি। নিলামদার জানতে চাইল কে কত দাম দিতে চায়। কেও দাম বলে না। নিলামদার আবার জানতে চাইল। একই অবস্থা। আবার জানতে চাইলে এবার একজন বলে উঠল "আমরা আসল ছবি দেখতে চাই। এইসব ফালতু জিনিস না।" নিলামদার আবারও জানতে চেল। এইবার পিছে থেকে একজন বলল "10 পেনী"। যে এই কথা বলল সে বৃদ্ধের বাগানের মালী ছিল। সে বৃদ্ধের ছেলেকে জন্ম থেকে দেখে এসেছে তাই তার প্রতি মালীর একটা প্রবল স্নেহ ছিল। কিন্তু ছবি কেনার জন্য এর থেকে বেশি খরচ করার সামথর্্য ছিল না। নিলামদার জানতে চাইল কেও এর থেকে বেশি দিতে চায় কিনা। এদিকে তারা সবাই অপেক্ষা করতে করতে বিরক্ত। সবাই বলে উঠল ছবিটা মালীকে দিয়ে দিতে। মালী ছবি পেয়ে গেল। এবার সবাই বলে উঠল আসল ছবি আনতে। তখন নিলামদার জানাল নিলাম শেষ। সবাই যখন অবাক হয়ে কারণ জানতে চাইল তখন সে জানাল বৃদ্ধের ইচ্ছা অনুযায়ী যে ছেলের ছবি কিনবে সে বৃদ্ধের সমসত কিছুর মালিক হবে এবং তার ইচ্ছাতেই এই বিষয় গোপন রাখা হয়। বিষন্ন হয়ে সবাই চলে যায় এবং মালী অতি যত্নে সবকিছুর দেখাশোনা করতে লাগল।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


