somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি গল্প

২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ দুপুর ২:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি এই গল্পটি কিছুদিন আগে এখানকার পত্রিকায় পড়েছিলাম। গল্পটি হঠাৎ আমার ভাল লাগল। গল্পটি আজকে আমি এখানে লিখব। আশা করি আপনাদের ভাল লাগবে।

অনেকদিন আগের কথা। ছোট একটা শহরে এক ধনী বৃদ্ধ এবং তার ছেলে বিশাল বাড়িতে বাস করতেন। ছেলেটি পেশায় সৈনিক ছিল। বাবা-ছেলে দুজনেরই শখ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চিত্রকর্ম সংগ্রহ করা। তাদের পুরা বাড়ি ছিল পিকাসো,ভ্যান গগ,হেনরী রুঁসো এবং আরও বিখ্যাত শিল্পীদের চিত্রকর্মে ভরা। একসময় দেশে যুদ্ধ শুরু হল এবং ছেলে যুদ্ধে চলে গেল। এক বছর পর বৃদ্ধের সাথে দেখা করতে একজন আসল। সে বলতে লাগল "আপনার ছেলে এবং আমি একসাথে যুদ্ধে গিয়েছিলাম। যুদ্ধে আমাকে বাঁচাতে গিয়ে আপনার ছেলের মৃতু্য হয়। আমি আহত ছিলাম তাই ঠিক সময়ে আপনাকে খবর দিতে পারিনি। আমাকে মাফ করবেন। আমি কোনদিন এই ঋণ শোধ করতে পারব না।" তারপর সে বলতে লাগল "আমি জানি আপনি ছবি সংগ্রহ করেন। আমি আপনার জন্য একটি ছবি এঁকেছি। আপনি নিলে আমার ভাল লাগবে।" এই কথা বলে সে একটি ছবি বের করল। বৃদ্ধ দেখলেন ছবিটি আর কারও না তারই ছেলের ছবি। খুবই কাঁচা হাতে আঁকা ছবি। তার মত সংগ্রহকারীর কাছে এই ছবি বড়ই বেমানান। কিন্তু বৃদ্ধ পরম মমতায় ছবিটি জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলেন এবং বারবার সৈনিকটিকে ধন্যবাদ দিতে লাগলেন তার ছেলের শেষ খবর এবং ছবিটির জন্য।

কয়েকবছর পর বৃদ্ধ মারা গেলেন। এবার তার ছবিগুলো নিলামে তোলা হল। নর্িিদষ্ট দিনে দূর দূরান্ত থেকে অনেক গণমান্য ব্যক্তিরা আসলেন। নির্দিষ্ট সময়ে নিলাম শুরু হল। নিলামদার প্রথমে বৃদ্ধের ছেলের সেই ছবিটি নিলামে তুলল। সবাই অবাক হয়ে বলাবলি শুরু করল এত বাজে ছবি কার এবং কে এঁকেছে। বলা বাহুল্য কেও জানত না এটা বৃদ্ধের ছেলের ছবি। নিলামদার জানতে চাইল কে কত দাম দিতে চায়। কেও দাম বলে না। নিলামদার আবার জানতে চাইল। একই অবস্থা। আবার জানতে চাইলে এবার একজন বলে উঠল "আমরা আসল ছবি দেখতে চাই। এইসব ফালতু জিনিস না।" নিলামদার আবারও জানতে চেল। এইবার পিছে থেকে একজন বলল "10 পেনী"। যে এই কথা বলল সে বৃদ্ধের বাগানের মালী ছিল। সে বৃদ্ধের ছেলেকে জন্ম থেকে দেখে এসেছে তাই তার প্রতি মালীর একটা প্রবল স্নেহ ছিল। কিন্তু ছবি কেনার জন্য এর থেকে বেশি খরচ করার সামথর্্য ছিল না। নিলামদার জানতে চাইল কেও এর থেকে বেশি দিতে চায় কিনা। এদিকে তারা সবাই অপেক্ষা করতে করতে বিরক্ত। সবাই বলে উঠল ছবিটা মালীকে দিয়ে দিতে। মালী ছবি পেয়ে গেল। এবার সবাই বলে উঠল আসল ছবি আনতে। তখন নিলামদার জানাল নিলাম শেষ। সবাই যখন অবাক হয়ে কারণ জানতে চাইল তখন সে জানাল বৃদ্ধের ইচ্ছা অনুযায়ী যে ছেলের ছবি কিনবে সে বৃদ্ধের সমসত কিছুর মালিক হবে এবং তার ইচ্ছাতেই এই বিষয় গোপন রাখা হয়। বিষন্ন হয়ে সবাই চলে যায় এবং মালী অতি যত্নে সবকিছুর দেখাশোনা করতে লাগল।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×