শর্মীর "স্পোর্টস এবং আমি" পোস্টটি দেখে আমারও লোভ হল আমার খেলার জীবন এবং পছন্দের খেলা নিয়ে লেখার।
স্কুলে থাকতে আমার সবচেয়ে পছন্দের খেলা ছিল বেসবল। মনে আছে শুধু অপেক্ষা করতাম কবে বৃহস্পতিবার আসবে আর আমারা বেসবল খেলব। আমি মোটু ছিলাম (এত না আবার!!!) এবং ভাল খেলতাম (দুঃখিত নিজের ঢোল নিজে পিটানোর জন্য) দেখে আমাকে আকরাম খান এবং অর্জুনা রানাতুঙ্গা ডাকা হত। আমার টিচার অবাক হয়ে যেতেন আমি এত জোরে দৌড়াই কিভাবে!!! একবার এই দৌড়ানের জন্য খেলার সময় বান্ধবীকে বাঁচাতে যেয়ে খেজুর গাছের সাথে ধড়াম করে বাড়ি খেয়ে উড়ে ছিটকায় পড়লাম (তার পরের ঘটনা না বলাটাই ভালো) এবং এরপর আমাকে খেলার জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করায় কান্না দিয়ে টিচারকে ব্ল্যাকমেল করে খেলতে নেমে ফাইনালে উঠি এবং ঐবার আমরা বেসবলে চ্যাম্পিয়ান হই। শুধু খেজুর গাছ না বেসবলের জন্য আমি কত যে আছাড় খেয়ে নিজের হাত- পা কাটা থেকে শুরু করে জামা কাপড় নষ্ট করেছি তার কোন ঠিক ঠিকানা নেই।
আমাদের স্কুলে ভলিবল খেলানো হত এবং আমি কেন যেন এই খেলাটি ঠিকমত বুঝতাম না। কিন্তু তারপরও আমি এই খেলা খেলতাম এবং প্রতিবার চিন্তা করতাম "এই শেষ, আর ভলিবল খেলব না। এরপর শুধুই বেসবল খেলব।" কিন্তু....
আমাদের বিশাল স্কুলের পিছে বিশাল গীর্জা ছিল। অবশ্য গীর্জা আর স্কুলের মাঝে একটি রাস্তা ছিল। এইটা বলার কারণ হচ্ছে, প্রতিবার যখনই আমি ভলিবল খেলতে যেতাম শুধুমাত্র সার্ভ করার সময় বলটা পিছে গীর্জার ভিতরে কবরস্থানে চলে যেত। টিচার প্রত্যকবার এই সময় বলতেন বলটা যদি আমি সামনে সার্ভ করতাম তাহলে দল জিততে পারত, আমি ভাল ভলিবল খেলোয়ার হতাম এবং এত জোরে সার্ভ করার জন্য স্কুলে একটা রেকর্ড হত। আফসোস আমি আমার এই জীবনে শুধুমাত্র একবার সামনে সার্ভ করতে পেরেছিলাম।
এখন অবশ্য আর খেলা হয় না। খেলা দেখাও হয় না। আমার বাবা প্রচন্ড খেলা দেখতেন। ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস হলে আর আমরা টিভি দেখতে পারতাম না। এই সুবাদে অবশ্য ক্রিকেট আমার প্রিয় খেলা হয়ে যায়। শুধুমাত্র বিশ্বকাপের সময় ফুটবল দেখি। আর টেনিস হাজার চেষ্টা করেও বাবা আমাকে বুঝাতে পারেননি।
আর মনে হয় লেখা উচিৎ হবে না কারণ অনেক বড় হয়ে যাচ্ছে আর আলসেমি লাগছে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


