জীবনে আমি প্রথম সমুদ্রের এত কাছাকাছি গিয়েছিলাম। এখনও চিন্তা করলে ছুটে যেতে ইচ্ছা করে।এত সুন্দর.......
নির্দিষ্ট দিন রাত 11:45-এ আমরা গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। বাইরে ঘুটঘুটে অন্ধকার কিন্তু আমি মনে হল এই অন্ধকারের মধ্যে সব কিছু দেখতে পাচ্ছি। বাসের সবাই প্রায় ঘুম। বলতে ভুলে গেছি আমরা 5 জন বাংলাদেশী এবং বাকিরা বিভিন্ন দেশের। University থেকে আমরা সব International Student রা এই সফরের সাথী। আগের কথায় ফিরে যাই। সবাই প্রায় ঘুমায় আর আমি একা জেগে থাকি। আমি বুঝি না এই সময় সবাই ঘুমায় কেন??? মাঝে মাঝে বাস কিছু জায়গায় থামে সবাই ইচ্ছা মত খাবার কিনে, আবার বাস চললে ঘুম। তবে একজনের কথা না বললেই না। এক ইরানী ছেলে। বাসের মধ্যে সে Physicsএর বই গভীর মনে পড়ছে। তার জন্য পাশের মানুষ ঘুমাতে পারছে না। পাশের জন লাইট বন্ধ করতে চাইলে উত্তর দেয় সামনের Semester-এর পড়া আগায় রাখতে হবে। তাই লাইট বন্ধ না করতে। যাই হোক সকাল 9 টার সময় ফেরীঘাটে পৌঁছলাম। ফেরী দিয়ে যেতে যেতে একদিকে কিছু জেলেপাড়া আর অন্যদিকে অপূর্ব সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য। আমার বার বার মনে হচ্ছিল পড়াশুনা আর করব না, আমি জেলে হয়ে যাব। সকাল 10টার দিকে আমরা কটেজে পৌঁছলাম। সবাই কোন রকম একটু খাওয়া দাওয়া করে দেঁৗড় সমুেদ্রর কাছে। সবাই পানিতে যেভাবে দাপাদাপি করছে দেখে আমার প্রচন্ড ইচ্ছা করছে পানিতে নামতে। কিন্তু সাঁতার জানি না এই ভয়ে পানিতে নামি না। কিন্তু এক সময়ে আর না পেরে পানিতে নেমে গেলাম। আমি শুধু এইটুকু বলতে পারি আমি পুরা বাচ্চাদের মত পানিতে খেলা করছিলাম। দুপুরে অনেক কষ্টে সবাই আমাকে নিয়ে খাবার খেতে নিয়ে গেল। খাবারের পর আমরা স্পীডবোট করে Island Hopping-এ বের হলাম। এত সুন্দর প্রকৃতি!!!এত অদ্ভুত সুন্দর কেন???এরপর আমাদের দ্্বীপে ফিরে আসার পর আমি আবার পানির রাজ্যে....
রাতের বেলা Barbecue Party-র আয়োজন। এত এত খাবার চারিদিকে। খাবার পর আমি রুমে এসে ঘুম। তারপরের দিন আমরা চলে আসব। সকাল 10টার মধ্যে চেক আউট করার কথা। কিন্তু তা করতে করতে দুপুর 1টা বেজে গেল কারণ সবাই আবার সমুদ্র গোসল করতে গিয়েছিল। যখন আমরা রওনা দিলাম মনটা প্রচন্ড খারাপ হয়ে গিয়েছিল। যেতে ইচ্ছা করছিল না এক ফোঁটাও।
এখনও খারাপ লাগছে। আর লিখব না.......
বি.দ্র.- Pangkor-এর এক ছোট্ট অংশের ছবি।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মার্চ, ২০০৬ দুপুর ১:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


