
তৃতীয় লিঙ্গের যার মধ্যে দেখতে পুরুষভাব বেশী সে পুরুষ হিসাবে বিবেচিত হবে এবং যার মধ্যে দেখতে নারী ভাব বেশী সে নারী হিসাবে বিবেচিত হবে। যে পুরুষ হিসাবে বিবেচিত হবে তার নাম ও পোশাক পুরুষের হবে। যে নারী হিসাবে বিবেচিত হবে তার নাম পোশাক নারীর হবে। নামাজের ইমামতি পুরুষের জন্য বরাদ্ধ বিধায় তারা নামাজের ইমাম হবে না। কারণ তারা পুরুষের মত হলেও পুরুষ নয়। এছাড়া অন্য কোন কাজে তাদেরকে অযোগ্য ভাবার মূলত কোন কারণ নাই। তৃতীয় লিঙ্গের যারা নারী বিবেচিত তাদেরকে কোন পুরুষের বিয়ে করায় নিষেধাজ্ঞা নেই। তৃতীয় লিঙ্গের যারা পুরুষ বিবেচিত তাদেরকে কোন নারীর বিয়ে করায় কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। তৃতীয় লিঙ্গের যারা পুরুষ বিবেচিত এবং যারা নারী বিবেচিত তাদের পরস্পরের বিয়েতে নিষেধাজ্ঞা নেই। কিন্তু পুরুষে ও পুরুষে বিয়েতে নিষেধাজ্ঞা আছে। নারীতে ও নারীতে বিয়েতে নিষেধাজ্ঞা আছে। সুতরাং তৃতীয় লিঙ্গের যারা পুরুষ বিবেচিত তাদের পরস্পরের বিয়েতে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। আবার তৃতীয় যারা নারী বিবেচিত তাদের পরস্পরে বিয়েতে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। তৃতীয় লিঙ্গের দেহে বয়ঃপ্রাপ্তির চিহ্ন ফুটে উঠলে তাদেরকে বয়ঃপ্রাপ্ত ধরা হবে। যেমন গোঁপ-দাড়ী এবং স্তন হবে তাদের বয়ঃপ্রাপ্তির চিহ্ন।আয়-রোজগার করে স্বনির্ভর হওয়া বিষয়ে তাদের ক্ষেত্রে ইসলামে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই।
তৃতীয় লিঙ্গের কেউ চিকিৎসার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ নারী-পুরুষ হতে চাইলে ইসলাম তাদের এমন ইচ্ছায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে না। চিকিৎসার মাধ্যমে তৃতীয় লিঙ্গের কেউ পূর্ণাঙ্গ পুরুষ হয়ে গেলে সে অবশ্যই নামাজের ইমামতি করার সুযোগ পাবে। নারীদের যারা পুরুষ হয়ে যাবে তারাও নামাজের ইমামতি করার সুযোগ পাবে। দেহ মনের বিপরীত হলে চিকিৎসায় দেহ-মন একরকম করার ক্ষেত্রেও ইসলামে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। যেহেতু তৃতীয় লিঙ্গের লোকেরাও মানুষ সেহেতু মানুষের কোন অধিকার থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করার বিধান ইসলামে নেই। যারা তাদেরকে অধিকার বঞ্চিত রাখতে তৎপর তাদের মূলত ইসলামের যথেষ্ট জ্ঞান নেই।
তৃতীয় লিঙ্গের কেউ যদি মানব মঙ্গলের সক্ষমতা সম্পন্ন হয় তবে ইসলাম তাদের সে যোগ্যতার বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কথা বলে না। তাদের একঘরে করে রাখার সংস্কৃতি মূলত ইসলামী সংস্কৃতি নয়। কেউ জোর করে এটা ইসলামের ঘাড়ে চাপাতে চেষ্টা করলে সেটা তার জাহেলিয়াত হিসাবে গণ্য হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০২৪ রাত ৮:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


