
শরীফা দেহগত পুরুষ, কিন্তু মানসিকভাবে নারী। ইসলাম দেহগত পুরুষকে পুরুষ বিবেচনা করে। এমনকি তৃতীয় লিঙ্গের যার দেহে পুরুষভাব বেশী ইসলাম তাকে পুরুষ বিবেচনা করে। আবার দেহগত নারীকে ইসলাম নারী বিবেচনা করে। এমনকি তৃতীয় লিঙ্গের যার দেহে নারীভাব বেশী ইসলাম তাকে নারী বিবেচনা করে। সুতরাং ইসলামের বিধান অনুযায়ী শরিফের নিজেকে শরীফা পরিচয় প্রদান ইসলাম সম্মত হয়নি।
হাদীস অনুযায়ী শেষ জামানায় নতুন নতুন রোগ ও এর চিকিৎসার প্রচলন হবে। দেহের উল্টা মানসিকতাকে একটা রোগ বিবেচনা করে এর চিকিৎসার মাধ্যমে দেহমন এক করা ইসলাম পরিপন্থী নয়। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তির নতুন দেহ অনুযায়ী তার প্রতি ইসলামের বিধান বলবৎ হবে। তারমানে শরীফ যদি দেহগত দিক থেকে শরীফা হয়ে যেতে পারে তবে সে তার পিতার সম্পতি তার ভাইদের সমান পাবে না, বরং সে তার পিতার সম্পত্তি তার বোনদের সমান পাবে।
ইসলাম কারো ইচ্ছা অনুযায়ী জীবন যাপন অনুমোদন করে না। কেউ যদি বিবাহ ছাড়া লিভ টুগেদার করে তবে ইসলাম তার এ কাজের অনুমোদন দিবে না। ইসলাম এর বিধানের কারণে কারো নিকট কৈফিয়ত দিবে না। ইসলাম যেমন আছে কেউ তেমন ইসলাম পালন করলে সে মুসলিম হিসাবে বিবেচিত হবে। অমুসলিমের মত জীবন যাপন করে কেউ নিজেকে মুসলিম দাবী করলেও ইসলামে তার এ দাবীর স্বীকৃতি মিলবে না।
আমাদের রাষ্ট্র হলো ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র। সে হিসাবে আমাদের রাষ্ট্র কোন নীতিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে তা ইসলামের আলোচ্য বিষয় নয়। আমাদেরকে বুঝতে হবে আমাদের রাষ্ট্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র হলেও এটা মুসলিম রাষ্ট্র নয়। কারণ আমাদের রাষ্ট্রের নাম মুসলিম প্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র নয়, বরং এটা গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র। কাজেই আমাদের রাষ্ট্রের কোন পাঠ্য পুস্তকের পাতা এর কোন নাগরিকের ছিঁড়ে ফেলা রাষ্ট্রীয় সৌজন্য পরিপন্থী।
আমাদের নাগরিকগণের অধিকাংশ নিজেদেরকে মুসলিম মনে করে, কিন্তু এদের ইসলামের জ্ঞান সামান্য। শরীফার মত এরা মানসিক মুসলিম হলেও আচরণে মুসলিম নয়। যারা মানসিক এবং আচরণে মুসলিম আমাদের দেশে তাদের সংখ্যা খুব বেশী নয়। ট্রান্স জেন্ডারের মত আমরা ট্রান্স মুসলিমের দেশ।এখানে নামে রাজীব নূর ও সোনাগাজী মুসলিম হলেও এরা মানসিক মুসলিম নয়। মানসিক দিক থেকে এরা হলো ধর্মহীন। সুতরাং ধর্ম বিষয়ে এদের মতামত গৃহিত হবে না।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জানুয়ারি, ২০২৪ রাত ১০:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


