somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইসলামের চার মূলনীতি

২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সূরা: ৯ তাওবা, ১২২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২২। আর মু’মিনদের এটাও উচিৎ নয় যে (জিহাদের জন্য) সবাই একত্রে বের হয়ে পড়বে। সুতরাং এমন কেন করা হয় না যে, তাদের প্রত্যেক বড় দল হতে এক একটি ছোট দল (জিহাদে) বের হয় যাতে অবশিষ্ট লোক ফিকাহ (দীনের গভীর জ্ঞান) অর্জন করতে থাকে। আর যাতে তারা নিজ কওমকে ভয় প্রদর্শন করে, যাতে তারা সাবধান হয়।

সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতাম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে তাঁর পথ হতে বিচ্ছিন্ন করবে। এভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিলেন যেন তোমরা সাবধান হও।

সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ৪৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৩। পৃথিবীতে অহংকার প্রকাশ এবং কূট ষড়যন্ত্রের কারণে (অকল্যাণ)।কূট ষড়যন্ত্র এর আহলকে(এর সাথে সংযুক্ত সকল ব্যক্তি) পরিবেষ্ঠন করে। তবে কি এরা অপেক্ষা করছে পূর্ববর্তীদের সুন্নতের? কিন্তু তুমি আল্লাহর সুন্নাতে কখনও কোন পরিবর্তন পাবে না এবং আল্লাহর সুন্নতে কোন ব্যতিক্রমও দেখবে না।

সূরাঃ ২, বাকারা। ১০৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৬। আমরা কোন আয়াত মানসুখ বা রহিত করলে অথবা ভুলে যেতে দিলে তা’হতে উত্তম বা তার সমতুল্য কোন আয়াত আমরা প্রদান করে থাকি।তুমি কি জান না যে আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্ব শক্তিমান।

সূরা: ৪৫ জাছিয়া, ৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬। এগুলি আল্লাহর আয়াত, যা আমি তোমার নিকট যথাযথভাবে তিলাওয়াত করছি। সুতরাং আল্লাহর এবং তাঁর আয়াতের পরিবর্তে তারা কোন হাদিসে বিশ্বাস করবে?

সূরাঃ ৪ নিসা, আয়াত নং ১১৫ এর অনুবাদ-
১১৫। কারো নিকট সৎপথ প্রকাশ হওয়ার পর সে যদি রাসুলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মু’মিনদের পথ ব্যতিত অন্যপথ অনুসরন করে, তবে সে যে দিকে ফিরে যায় সে দিকেই তাকে ফিরিয়ে দেব এবং জাহান্নামে তাকে দগ্ধ করব, আর উহা কত মন্দ আবাস।

* ইসলামের প্রথম মূলনীতি হলো অভিন্ন ফিকাহ। এটি আল্লাহর সুন্নাত।কোরআন এর উৎস।এর পরিবর্তে আয়াত মানসুখ এবং হাদিস বাতিল। এটি না মানার পরিণাম জাহান্নাম।

সূরাঃ ৩৩ আহযাব, ২১ নং আয়াতের অনুবাদ-
২১। তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও আখিরাতকে ভয় করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য রাসুলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে (উসউয়ায়ে হাসানা) উত্তম আদর্শ।

সূরাঃ ৬৮ কালাম, ৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪। তুমি অবশ্যই মহান চরিত্রে (খুলুকিন আজিম) অধিষ্ঠিত।

সূরাঃ ৫৩ নাজম, ৩ নং ও ৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩। আর সে মনগড়া কথা বলে না।
৪। এটাতো ওহি যা তার প্রতি ওহি হিসেবেই পাঠানো হয়।

সূরাঃ ২৮ কাসাস, ৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
৭। আমরা মুসার মায়ের নিকট ওহী পাঠালাম তাকে দুধপান করাতে। যখন তুমি তার বিষয়ে কোন আশংকা করবে তখন তাকে দরিয়ায় নিক্ষেপ করবে। আর ভয় করবে না ও দুঃখ করবে না।আমি অবশ্যই তাকে তোমার নিকট ফিরিয়ে দেব।আর তাকে রাসুলদের একজন করব।

সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে (ওলামা) আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।

* ইসলামের দ্বিতীয় মূলনীতি উসউয়ায়ে হাসানা ও খুলুকিন আজিম। এর উৎস রাসূল (সা.)। রাসূল উসউয়ায়ে হাসানা ও খুলুকিন আজিম প্রাপ্ত হয়েছেন ওহী থেকে। আর ওহী দু’প্রকার ১। মাতলু (কোরআন) ২। গাইরে মাতলু (জীব্রাঈলের হাদিস)। এর চলমান উৎস ওলামা এবং স্থিতি উৎস হাদিস।

সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৩। তোমরা একত্রে আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে ধর! আর বিচ্ছিন্ন হবে না। তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর।যখন তোমরা শত্রু ছিলে তখন তিনি তোমাদের অন্তরে প্রীতি সঞ্চার করেছেন, ফলে তাঁর দয়ায় তোমরা পরস্পর ভাই হয়ে গেলে।তোমরাতো অগ্নি কুন্ডের প্রান্তে ছিলে, আল্লাহ উহা হতে তোমাদেরকে রক্ষা করেছেন। এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর নিদর্শনসমূহ স্পষ্টভাবে বিবৃতকরেন যাতে তোমরা সৎপথ পেতে পার।

সূরাঃ ১০১ কারিয়া, ৬ নং ও ৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬। তখন যার পাল্লা ভারী হবে
৭। সেতো লাভ করবে সন্তোষ জনক জীবন।

সূরাঃ ৪ নিসা, আয়াত নং ১১৫ এর অনুবাদ-
১১৫। কারো নিকট সৎপথ প্রকাশ হওয়ার পর সে যদি রাসুলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মু’মিনদের পথ ব্যতিত অন্যপথ অনুসরন করে, তবে সে যে দিকে ফিরে যায় সে দিকেই তাকে ফিরিয়ে দেব এবং জাহান্নামে তাকে দগ্ধ করব, আর উহা কত মন্দ আবাস।

সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে। তাদের জন্য মহাশাস্তি রয়েছে।

* ইসলামের তৃতীয় মূলনীতি হলো মুমিনের পাল্লাভারি জামায়াতের আমল। মতভেদ নিরসনে এটি প্রযোজ্য। এটি অমান্য করার পরিনাম জাহান্নাম। এটিকে ইজমা বলা হয়।
সূরাঃ ৫৫ রাহমান, ১ নং থেকে ৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
১। আর রাহমান (পরম মেহেরবান)।
২। তিনিই শিক্ষা দিয়েছেন কোরআন।
৩। তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন।
৪। তিনিই তাকে শিখিয়েছেন বাইয়ান (ভাব প্রকাশ করতে)।

সূরাঃ ৪৯ হুজরাত, ১২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২। হে মুমিনগণ! তোমরা অধিকাংশ অনুমান হতে দূরে থাক; কারণ অনুমান কোন কোন ক্ষেত্রে পাপ এবং তোমরা একে অন্যের গোপনীয় বিষয় সন্ধান করবে না এবং একে অপরের গিবত (পশ্চাতে নিন্দা) করবে না। তোমোদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভাইয়ের গোশ্ত খাওয়া পছন্দ করবে? তোমরা তো এটা অপছন্দ কর। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর; আল্লাহ তাওবা গ্রহণকারী পরম দয়ালূ।

সূরাঃ ১০ ইউনুস, ৬২ থেকে ৬৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬২। সাবধান! আল্লাহর আওলিয়াদের কোন ভয় নেই।আর তারা দুঃখিতও হবে না।
৬৩। যারা ঈমান আনে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে
৬৪। তাদের জন্য আছে সুসংবাদ দুনিয়া ও আখিরাতে। আল্লাহর বাণীতে কোন পরিবর্তন নাই। উহাই মহাসাফল্য।

সূরাঃ ২ বাকারা, ২ থেকে ৫ আয়াতের অনুবাদ-
২। ঐ কিতাব; যাতে কোন সন্দেহ নেই, যা হেদায়েত মোত্তাকীদের জন্য।
৩।যারা অদৃশ্যে ঈমান আনে।আর সালাত কায়েম করে।তাদেরকে আমরা যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে ব্যায় করে।
৪। আর তোমার প্রতি যা নাজিল হয়েছে ও তোমার পূর্বে যা নাজিল হয়েছে তাতে যারা ঈমান আনে। আর আখিরাতে যারা নিশ্চিত বিশ্বাসী।
৫। তারাই তাদের প্রতিপালকের হেদায়েতে রয়েছে। আর তারাই সফলকাম।

* ইসলামের চতুর্থ মূলনীতি হলো বাইয়ান। এটির ক্ষেত্রে অধিকাংশ অনুমান, অন্যের গোপনীয় বিষয় সন্ধান ও গীবত থেকে দূরে থাকতে হয়। এর উৎস আউলিয়া। যারা তাকওয়া অবলম্বনকারী মুমিন বা মুত্তাকী। যারা গাইবে (অদৃশ্যে) ঈমান রাখে, সালাত কায়েম করে, যাকাত প্রদান করে এবং আখিরাতে যাদের নিশ্চিত বিশ্বাস আছে। এরা হিদায়াত প্রাপ্ত বিধায় এদের বাইয়ান ইসলামের চতুর্থ মূলনীতি।এটিকে কিয়াছ বলা হয়।এটি জান্নাতি লোকদের বাইয়ান।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:৩৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইউনুসনামা-১

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:১১

কী করার কথা ছিল তার, আর কী করেছেন তিনি!



প্রফেসর মুঃ ইউনুস!

জুলাই গণঅভ্যূত্থানে হাসিনার পতনের পর ফ্যাসিবাদ বিরোধী সকল শক্তির ভিতর ঐক্য ধরে রাখা এবং তাদের সবাইকে নিয়ে কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই যোদ্ধাদের হয়রানি বন্ধ হোক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:১৩


এই দেশে বিপ্লব করা খুবই কঠিন । কিন্তু বিপ্লব করার পর শান্তিতে থাকা আরোও কঠিন। কারণ রাষ্ট্র বিপ্লবীদের কদর বোঝে না। তাই আমরা আজকে দাবি জানাতে এসেছি :... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানের বেপারী খালকেটে নৌকা আনলে ধান লুট হতে পারে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৩৬



জুলাই যোদ্ধা নৌকা ডুবিয়ে ভেলায় চড়িয়ে ধান ভাসিয়েছে।এখন ধানের মালিক খালকেটে নৌকা আনলে নৌকার মাঝি নৌকায় করে ধান লুট করে নিয়ে যেতে পারে।প্রসঙ্গঃ সজিব ওয়াজেদ জয় একত্রিশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামী মরমী সাধনা সুফীবাদ নিয়ে একটি ধারাবাহিক লেখা***** ১ম পর্ব : এক মহিয়সি সুফী সাধিকা নারী রাবিয়া বসরী (রহ.)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৩৩


রাবিয়া বসরী (রহ,) কে নিয়ে আলোচনার পুর্বে সুফিবাদ কী এবং সুফিবাদের ইতিহাস নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা করে নেয়া হল। (এখানে উল্লেখ্য এ পোস্টে দেয়া রাবিয়া বসরী(র,) সম্পৃক্ত সবগুলি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সহজ সরল জীবনযাপন করা ভীষণ জরুরী

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৪২



কমনসেন্স বাড়ানো কিচ্ছু নেই।
এটা বয়সের সাথে সাথে অটোমেটিক বাড়তে থাকবে। জন্মের পর থেকেই মানুষ শিখতে থাকে। আমি এটুকু বয়সে এসে বুঝতে পেরেছি, মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×