somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি এখন ইরান নিয়ে ভাবছি না

০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সূরাঃ ৪৮ ফাতহ, ২৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৯। মোহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল; তাঁর সহচরগণ কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল; আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনায় তুমি তাদেরকে রুকু ও সিজদায় অবনত দেখবে।তাদের লক্ষণ তাদের মুখমন্ডলে সিজদার প্রভাব পরিস্ফুট থাকবে: তওরাতে তাদের বর্ণনা এরূপ এবং ইঞ্জিলেও তাদের বর্ণনা এরূপই। তাদের দৃষ্টান্ত একটি চারা গাছ, যা থেকে নির্গত হয় নতুন পাতা, অতঃপর ইহা শক্ত ও পুষ্ট হয় এবং পরে কান্ডের উপর দাঁড়ায় দৃঢ়ভাবে যা চাষীদের জন্য আনন্দ দায়ক। এভাবে মুমিনদের সমৃদ্ধি দ্বারা আল্লাহ কাফিরদের অন্তর্জালা সৃষ্টি করেন। যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আল্লাহ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের।

* আল্লাহ যাদেরকে মহাপুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের একপক্ষ তাঁদের তিরস্কার করে। আর ইরানের অন্য একপক্ষ আল্লাহর কথা বিশ্বাস করে না। আল্লাহ যাঁদেরকে মহাপুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন আমি তাঁদের প্রশংসা করি। আর আমি আল্লাহর কথা বিশ্বাস করি। এ শ্রেণীর লোক ইরানে খুব কম। এ জন্য আমি ইরান নিয়ে ভাবছি না। ইরান আমেরিকার দখলে গেলে যে সব দেশের সমস্যা তারা ইরান নিয়ে ভাবুক।

সূরাঃ ৯ তাওবা, ৪০ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪০। যদি তোমরা তাঁকে সাহায্য না কর, তবে আল্লাহতো তাঁকে সাহায্য করেছিলেন যখন কাফিরগণ তাঁকে ধাওয়া করেছিল (হত্যা করার জন্য), আর তিনি ছিলেন দু’জনের মধ্যে দ্বিতীয় জন। যখন তাঁরা উভয়ে গুহার মধ্যে ছিলেন, তিনি তখন তাঁর সঙ্গিকে বলেছিলেন, তুমি বিষণ্ন হয়ো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।অতঃপর তাঁর উপর আল্লাহ তাঁর প্রশান্তি নাজিল করেন এবং তাঁকে শক্তিশালী করেন এমন সৈন্যবাহিনী দ্বারা যা তোমরা দেখনি।আর তিনি কাফেরদের কথা তুচ্ছ করে দেন।আর আল্লাহর কথাই সুউচ্চ। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী সুবিজ্ঞ।

# সূরাঃ ৯ তাওবা, ৪০ নং আয়াতের তাফসির তাফসিরে ইবনে কাছির
৪০। আল্লাহ তা’আলা জিহাদ পরিত্যাগকারীদেরকে সম্বোধন করে বলেছেন, তোমরা যদি আমার মহান রাসূলের (সা.) সাহায্য সহযোগিতা ছেড়ে দাও তবে জেনে রেখ যে, আমি কারো মুখাপেক্ষী নই। আমি নিজে তাঁর সহায়ক ও পৃষ্ঠপোষক। ঐ সময়ের কথা তোমরা স্মরণ কর যখন হিজরতের সময় কাফেররা আমার রাসূলকে (সা.) হত্যা করা বা বন্দী করা বা দেশান্তর করার চক্রান্ত করেছিল। তখন তিনি প্রিয় সহচর আবু বকরকে (রা.) সঙ্গে নিয়ে গোপনে মক্কা থেকে বেরিয়ে যান। সেই সময় তাঁর সাহায্যকারী কে ছিল? তিনদিন পর্যন্ত তাঁরা সাওর পর্বতের গুহায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য এই যে, তাঁদের ধাওয়াকারীরা তাঁদেরকে না পেয়ে যখন নিরাশ হয়ে ফিরে যাবেন, তখন তাঁরা মদীনার পথ ধরবেন।ক্ষণে ক্ষণে আবু বকর (রা.) ভীত বিহবল হয়ে উঠেন যে, না জানি কেউ হয়ত জানতে পেরে রাসূলকে (সা.) কষ্ট দিবে। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁকে সান্তনা দিয়ে বললেন, হে আবু বকর! দু’জনের কথা চিন্তা করছ কেন? তৃতীয় জন যে আল্লাহ রয়েছেন।

সূরাঃ ৯ তাওবা, ১১৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১৯। হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সাদেকীনদের (সত্যবাদী) সাথে থাক।

সূরাঃ ৪ নিসার ৭৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
৭৫। তোমাদের কি হলো, তোমারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করছো না? অথচ নারী-পুরুষের এবং শিশুদের মধ্যে যারা দূর্বল তারা বলে, হে আমাদের রব আমাদেরকে অত্যাচারী অধিবাসীদের এ নগর থেকে বের করে দিন। আর আপনার কাছ থেকে আমাদের জন্য ওলী (অভিভাবক) এবং আপনার কাছ থেকে আমাদের জন্য সাহায্যকারী পাঠান।

সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ১ নং আয়াতের অনুবাদ-
১।প্রশংসা আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর, যিনি বার্তাবাহক করেন মালাইকাকে (ফেরেশতা) যারা দুই-দুই, তিন-তিন অথবা চার-চার পাখা বিশিষ্ট। তিনি তাঁর সৃষ্টিতে যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্ব শক্তিমান।

সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ২৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৬। বল হে সার্বভৈৗম শক্তির (রাজত্বের) মালিক আল্লাহ! তুমি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা (রাজত্ব) প্রদান কর এবং যার থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা (রাজত্ব) কেড়ে নাও। তুমি যাকে ইচ্ছা ইজ্জত দান কর, আর যাকে ইচ্ছা বেইজ্জতি কর।তোমার হাতেই মঙ্গল।নিশ্চয়ই তুমি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

* আল্লাহর তিনজনের তালিকার প্রথম জন হযরত আবু বকর (রা.), দ্বিতীয় জন মহানবি (সা.) এবং তৃতীয় জন আল্লাহ নিজে। নীচ থেকে মর্যাদা সাজালে আল্লাহ ও রাসূলের (সা.) পর সবচেয়ে বেশী মর্যাদা হযরত আবু বকরের (রা.)। মিরাজের ঘটনায় রাসূল (সা.) হযরত আবু বকরকে (রা.) সিদ্দিক বা সত্যবাদী বলেছেন। সেজন্য মুমিনগণ হযরত আবু বকরের (রা.) সাথেই থাকবেন। কিন্তু ইরানী শিয়া ও নাস্তিক হযরত আবু বকরের (রা.) সাথে নাই। শিয়ারা হযরত আবু বকরকে (রা.) লানত দেয়। যে লানতের স্থান নয় তাকে লানত দিলে লানত, লানত প্রদানকারীর দিকে ফিরে। ইরানীরা সেই সূত্রে পড়ে গেলে লানত থেকে তাদেরকে কে রক্ষা করবে? মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশ সমূহ বিপদগ্রস্থ্যদের সাহায্যে যথাযথ দায়িত্ব পালন করে না। সুতরাং তাদেরকে রক্ষা করাও আল্লাহ তাঁর দায়িত্ব মনে করেন না। ইরানীদের সাহায্যে আল্লাহ পাঁচ হাজার ফেরেশতা পাঠালে অন্য কোন শক্তি তাদের ক্ষতি করতে পারার কথা নয়। আল্লাহ যদি ইরানের ক্ষমতা ইসরায়েলের হাতে ছেড়ে দেন তাতে কার কি করার থাকবে। ইসরাইলী হলো ইহুদী। ইরানী বাসিন্দাদের মধ্যে তারাও আছে। তো তাদের জাতভাইদেরকে আল্লাহ ক্ষমতা দিলে কার কি বলার থাকতে পারে? ইরানী শিয়ারা মহানবির (সা.) স্ত্রী হযরত আয়েশাকেও (রা.) তিরস্কার করে? তারা তাদের কন্যার নাম আয়েশা রাখে না। তাদের স্পর্ধা কতটুকু? এরপর তারা নিজেদেরকে রক্ষা করতে পারলে করবে। তাদের ভাবনা অন্য মুসলিমদের ব্যক্তিগত ভাবনার বিষয় নয়। তবে তাদের দেশে ইসরাইল ঘাটি গাঁড়লে যেসব মুসলিম দেশের সমস্যা হতে পারে সেসব মুসলিমদেশ তাদের ভাবনা ভাববে। আমাদের দেশ হলো কচু পাতায় জমা শিশিরের মত। আমরা না হয় ঘটনা ঘটার পর ভাবব আমরা কি করতে পারি। একাত্তরে আমরা এমনটাই করে ছিলাম। তারপর আমরা এখন একটি দেশ। আবার কোন ঘটনা ঘটলে তখন না হয় দেখা যাবে আমাদের দেশ থাকে নাকি বিলুপ্ত হয়। দু’শ বছর ইংল্যান্ড আমাদের দেশ শাসন করেছে। পাকিস্তান আমাদের দেশ শাসন করেছে চব্বিশ বছর। এখন আমরা স্বাধীন। বিষয়টা ভালো লাগার। আমাদের ভালো লাগা আমাদেরকেই বজায় রাখতে হবে। কারণ আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ আগে মুসলিম না হয়ে আগে বাংলাদেশী। সেজন্য আমাদের দেশকে রক্ষা করার দায় আল্লাহর নয়।

সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:১৮
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইরান যুদ্ধ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৩ রা মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:০৬



ইরানের মাটি পানি ও আবহাওয়া কৃষি উৎপাদনের জন্য খুবই অনুকূল পরিবেশ। বাংলাদেশের তুলনায় ইরানের সমতল ভূমি কম তারপরও ইরানে গম উচ্চ ফলন হয়। ভোজ্য তৈল জাত শষ্য উচ্চ ফলন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধোলাই-৭১

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ০৩ রা মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:২২



মধ্যপ্রাচ্যে আছি। দেশে ফেরার টিকেট কাটা ছিল ২ তারিখে। এর মধ্যেই শুরু হয়ে গেলো যুদ্ধের দামামা।আমি আরবি বুঝিনা। এয়ারপোর্টে কাউকে ইংরেজিতে কিছু জিজ্ঞেস করলে বলে ''খালাস খালাস'' মাফি মাফি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জিহাদের ডাক দিলে কাজ হবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:১৩


সম্প্রতি শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ কামাল আল-হাইদারির পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে 'জিহাদের' ডাক দেওয়া হয়েছে। ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ধর্মীয় কর্তৃত্ব রক্ষার দোহাই দিয়ে এই আহ্বান জানানো হলেও,... ...বাকিটুকু পড়ুন

হা হা রিয়্যাক্ট না করে কেউ যাবেন না

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:২৪



এই লোকটা বছরের পর বছর ধরে প্রকাশ্যে আমেরিকা ও ইসরাইলের ধ্বংস চেয়ে আসছে, তাদের যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই হত্যা করার মত ভয়ঙ্কর হুমকি দিয়ে আসছে; অথচ যুদ্ধ শুরুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

“সূয্যি মামা জাগার আগে উঠবো আমি জেগে” (দিনলিপি, ছবিব্লগ)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৫


রোদের মাঝে একাকী দাঁড়িয়ে....
ঢাকা
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বেলা ১২৩৩

"সূয্যি মামা জাগার আগে উঠবো আমি জেগে" -- নিজ শিশুর মুখে একথা শুনে মানব শিশুর মায়েরা সাধারণতঃ কপট রাগত স্বরে এমন প্রতিক্রিয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×