somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-২০)

২১ শে মে, ২০২৬ ভোর ৬:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সূরাঃ ২০ তা-হা, ৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
৫। দয়াময় আরশে সমাসীন আছেন।

* দয়াময় আরশে সমাসীন আছেন। অন্য আয়াত অনুযায়ী তিনি সবার সাথে আছেন। সবাই আরশে নাই। সুতরাং দয়াময় আরশের সাথে সাথে সবার সাথে অন্যত্রও আছেন। সুতরাং যারা বলে দয়াময় শুধুমাত্র আরশে আছেন তারা মিথ্যা কথা বলে। কারণ দয়াময় আরশে সমাসীন আছেন। এটা সত্য, কিন্তু তিনি শুধুমাত্র আরশে সমাসীন আছেন। এটা সত্য নয়। দয়াময় শুধুমাত্র আরশে সমাসীন আছেন।দয়াময় সেটা বলেননি।শুধুমাত্র যোগ করে দয়াময়ের শুধুমাত্র আরশে থাকার কথা বলা দয়াময় সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলা হয়। সবাই আরশে না থেকে সবাই সর্বত্র থাকে। সেজন্য সবার সাথে দয়াময় সর্বত্র থাকেন। আরশ সর্বত্রের বাইরে নয়। সেজন্য দয়াময় সর্বত্র থাকেন। এটা বললে দয়াময় সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলা হয় না।দয়াময় টয়লেটে থাকেন কি? কেউ টয়লেটে প্রবেশ করতে দয়াময়কে টয়লেটের বাইরে রেখে যায় কি? দয়াময় থেকে এমন সংবাদ নাই। দয়াময় থেকে সংবাদ আছে তিনি সবার সাথে থাকেন। সুতরাং দয়াময় সবার সাথে টয়লেটেও থাকেন। দয়াময় যাদের সাথে থাকেন তিনি কখনই তাদের সঙ্গ ত্যাগ করেন না। আর সেজন্যই তিনি দয়াময়।যিনি কখনো সাথে থাকেন এবং কখনো সাথে থাকেন না তাঁকে কি দয়াময় বলা যায়? সুতরাং দয়াময় সম্পর্কে মিথ্যা বলা সালাফী সঠিক নয়, বরং দয়াময় সম্পর্কে সত্যবলা হানাফী সঠিক। হানাপী বলে দয়াময় সর্বত্র আছেন।

সূরাঃ ২০ তা-হা, ২৫ নং আয়াত হতে ৩২ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৫। মূসা বলল, হে আমার রব! আমার বক্ষ প্রসস্ত করে দিন।
২৬। আমার কাজকে সহজ করে দিন।
২৭। আমার জিহবার জড়তা দূর করে দিন।
২৮। যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।
২৯। আমার জন্য করে দিন একজন উজির আমার আহল থেকে।
৩০। আমার ভাই হারুন।
৩১। তার দ্বারা আমার শক্তি সুদৃঢ় করুন।
৩২। আর তাকে আমার কাজে অংশিদার করুন।

সূরাঃ ২০ তা-হা, ৯০ নং আয়াত হতে ৯৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
৯০। হারুন তাদেরকে পূর্বেই বলেছিলো, হে আমার কওম (সম্প্রদায়) এটা দারাতো শুধু তোমাদেরকে পরীক্ষায় ফেলা হয়েছে। তোমাদের রব দয়াময়, সুতরাং তোমরা আমার অনুসরন কর এবং আমার আদেশ মেনে চল।
৯১। তারা বলেছিলো, আমাদের নিকট মূসা ফিরে না আসা পর্যন্ত আমরা এর পুজা হতে কিছুতেই বিরত হব না।
৯৩। মূসা বলল, হে হারুন, তুমি যখন দেখলে তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে তখন কিসে তোমাকে নিবৃত করলো?
৯৪। আমার অনুসরন হতে? তাহলে কি তুমি আমার আদেশ অমান্য করলে?
৯৪। হারূন বলল, হে আমার সহোদর! আমার দাড়ি ও চুল ধরবে না। আমি আশংকা করেছিলাম যে তুমি বলবে, তুমি বনি ইসরাঈলদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করেছো ও আমার বাক্য পালনে যত্নবান হওনি।

* রাসূলের (সা.) আহাল থেকে তাঁর উজির ছিলেন হযরত আলী (রা.)। তাঁর দ্বারা আল্লাহ রাসূলের (সা.) শক্তি সুদৃঢ় করেছেন। কিন্তু হযরত হারুনের মতই তিনি রাসূলের (সা.) উম্মতের ঐক্য ধরে রাখতে পারেননি। তাঁর কারণে রাসূলের (সা.) উম্মত শিয়া-সুন্নী বিভাজনে বিভক্ত হয়েছে।কিন্তু রাসূলের (সা.) আহলের সদস্য তাঁর চাচা আব্বাস (রা.) রাসূলের (সা.) উজির না থাকলেও তাঁর কারণে মুসলিমদের মাঝে বিভেদ তৈরী হয়নি। হযরত আব্বাসের (রা.) ছেলে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) শৈশবেই জ্ঞান প্রাপ্ত হয়েছেন। তিনি ছিলেন মোফাসেসেরে কোরআন। তাঁর আহাল আবুল আব্বাস অজনপ্রিয় উমাইয়া শাসনের অবশান ঘটিয়ে আব্বাসীয় শাসন প্রতিষ্ঠিত করেন।আব্বাসীয় ও তাঁদের হানাফী অনুসারী মুসলিমবিশ্ব শাসন করেছে প্রায় বারশত বছর। এখনো হানাফী তুর্কী, আফগান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ মুসলিমদের শক্তিকেন্দ্র। তুর্কী বীর, আফগান সুদৃঢ়, পাকিস্তান আনবিক শক্তি কেন্দ্র এবং বাংলাদেশী হলো গেরিলা যোদ্ধা। দুই তৃতয়িাংশ মুসলিম হানাফী। মুসলিমদের বেশীর ভাগ এলাকা, জনসংখ্যা ও দেশ হানাফীদের। অন্যরা হানাফীদের সাথে বিভেদ তৈরী করা ছাড়া ভালো কোন কাজে লাগে না। রাসূলের (সা.) উজিরের শিয়া বহু শিয়ায় বিভক্ত। এরা মুসলিমদের অন্যতম বিভেদ সৃষ্টিকারী অভিশপ্ত গুষ্ঠি।সুতরাং এখন রাসূলের (সা.) উজিরের শিয়া বাদ দিয়ে হানাফীতে মুসলিমদের ঐক্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

সূরাঃ ২০ তা-হা, ১১৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১৫। আমি তো ইতিপূর্বে আদমের প্রতি নির্দেশ দান করেছিলাম।কিন্তু সে ভুলে গিয়েছিল; আমি তাকে সংকল্পে দৃঢ় পাইনি।
সূরাঃ ২০ তা-হা, ১১৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১৭। অতঃপর আমি বললাম, হে আদম! নিশ্চয়ই এ তোমার ও তোমার স্ত্রীর শত্রু, সুতরাং সে যেন কিছুতেই তোমাদেরকে জান্নাত হতে বের করে না দেয়, দিলে তোমরা দুঃখ-কষ্ট পাবে।

সূরাঃ ২০ তা-হা, ১২০ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২০। অতঃপর শয়তান তাকে কুমন্ত্রণা দিল, সে বলল, হে আদম! আমি কি তোমাকে বলে দেব অনন্ত জীবন প্রদ বৃক্ষের কথা ও অক্ষয় রাজ্যের কথা?

* চল্লিশের কম বয়সি হযরত আদমকে (আ.) আল্লাহ সংকল্পে দৃঢ় পাইনি। তিনি আল্লাহর কথার গুরুত্ব না দিয়ে তিনি শয়তানের কথার গুরুত্ব দিয়েছেন। তাতে তিনি অনেক দুঃখ-কষ্ট পেয়েছেন। রাসূলের (সা.) চল্লিশের কম বয়সি উজির হযরত আলী (রা.) উম্মতের মাওলা হয়ে অভিন্ন ফিকাহ সংকলন করে প্রচার না করে তিনি রাসূলের (সা.) সহচর হযরত ওসমানের (রা.) খুনির মাওলা হয়েছেন। তারপর তিন দল মুসলিম তাঁর সাথে যুদ্ধ করে। একদল তাঁকে কাফের ফতোয়া দিয়ে হত্যা করে। জীবনে তিনি অনেক দুঃখ-কষ্ট পেয়েছেন। এখনো তাঁর আহলে বাইতের মধ্যে হত্যাকান্ড চালু আছে। ইদানিং তাঁর আহলে বাইত আলী খামেনী নিহত হয়েছেন। পক্ষান্তরে রাসূল (সা.) ও তাঁর উজিরের চাচা হযরত আব্বাস (রা.) উম্মতের জনপ্রিয় ব্যক্তি। তাঁর আহলে বাইত ও তাঁদের অনুসারী হানাফীদেরকে আল্লাহ তাঁর রহমত ও বরকতে মুড়িয়ে দিয়েছেন। আল্লাহর রহমত ও বরকত যখন যে দিকে থাকে মুসলিমদেরকে তখন ছায়ার মত সে দিকে থাকতে হয়। তবেই তারা আল্লাহর রহমত ও বরকত পায়। তার জন্য তারা এখন হানাফীদের সাথে থাকবে। তাহলে তারা অমুসলিমদের মোকাবেলায় নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে পারবে-ইনশাআল্লাহ। আমেরিকা-ইসরায়েলের দোসর সালাফী নেতৃত্বে মুসলিমদের ভালো কিছু হওয়ার সম্ভাবনা নাই। মুসলিমদের অন্য গুষ্ঠিগুলো হয় অমুসলিমদের সাথে আছে, নয়তো তারা অচেতন অবস্থায় আছে। তাদের কারো দ্বারা মুসলিমদের ভালো কিছু হওয়ার সম্ভাবনা নাই। মুসলিমদের জন্য লাভ জনক হানাফী এবং শুধুই হানাফী। এটাই তাদের সবচেয়ে ভালো ঠিকানা।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে মে, ২০২৬ ভোর ৬:৩০
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Ai দিয়ে তৈরি করা কিছু বাংলাদেশী টাকার নমুনা নোট

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ২০ শে মে, ২০২৬ দুপুর ২:২২


হঠাত করেই কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে Ai দিয়ে তৈরি করা কিছু বাংলাদেশী টাকার নমুনা নোট বার বার সামনে আসতে শুরু করে। তাদের কিছু কিছু নমুনা খুবই সুন্দর, কিছু কিছু আবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

যু্ক্তিসংগত ব্যাখ্যা চাই-১

লিখেছেন অপলক , ২০ শে মে, ২০২৬ রাত ৯:২৪




আমরা সবাই জানি ইসলাম ধর্মে, আত্মহত্যাকারীর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। সহীহ বুখারীতে এসেছে, আল্লাহ তা'আলা বলেন, "আমার বান্দা নিজের জীবনের ব্যাপারে আমার আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে, তাই আমি তার ওপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোল্লাতন্ত্র ও নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের সমাধান নয়, বরং তা বৃদ্ধির একটি কারণ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২১ শে মে, ২০২৬ সকাল ৮:৪২


সাত বছর বয়সের ছোট্ট শিশু রামিসাকে ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যার ঘটনার সমাধান হিসেবে, মোল্লাতন্ত্রের মুখপাত্র আহমাদুল্লাহ হুজুর পুরাতন এক ফতোয়া নিয়ে হাজির হয়েছেন। এইসব নৃশঃসতার মাত্রা কমিয়ে আনার একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেজন্মা

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২১ শে মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪১


হু বেজন্মা কথা শুনার পর
আমি বিরক্ত মনে করতাম
কিন্তু বেজন্মা কথাটা সত্যই
স্রোতের মতো প্রমান হচ্ছে-
খুন ধর্ষণ করার পশুত্বকে
বলে ওঠে বেজন্মা ক্যান্সার;
ক্যান্সারের শেষপরিণতি মৃত্যু
তেমনী বেজন্মার হোক মৃত্যু-
চাই না এই বেজন্মাদের বাসস্থান
আসুন রুখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র কেন রামিসাদের রক্ষা করতে ব্যর্থ?

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ২১ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:১০


সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে যে গভীর ও দমবন্ধ করা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা কোনো কাল্পনিক ভীতি বা বিচ্ছিন্ন অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×