‘জিজিয়া’ – ইসলামী রাষ্ট্রে বসবাসকারী অমুসলিমদের জন্য এমন এক ব্যবস্থা যা তাদের জান, মাল, ইজ্জত আব্রুর নিরাপত্তা করে। এই ব্যবস্থা এতটাই সুন্দর যে, যে কেউ নিরপেক্ষভাবে জিজিয়া সম্পর্কে জানবে সেই এতে মুগ্ধ না হয়ে পারবে না। জিজিয়া নিয়ে ইংরেজ ঐতিহাসিকদের মিথ্যাচারে পা দিয়ে অনেকেই এটা খুব খারাপ ব্যবস্থা এবং অমুসলিমদের উপর অত্যাচার বলে মেনে নিয়েছেন। গোয়েবলস বলেছেন, ‘একটা মিথ্যা কথা যদি বহুজনের কাছে বহুবার বলা যায় তাহলে সেটাই সত্যে পরিণত হয়ে যায়’। আর ঠিক তাই হয়েছে ভারত তথা পাশ্চাত্যের দেশ গুলোতে।
জিজিয়া আসলে কী? জিজিয়া ইসলামী রাষ্ট্রের এক প্রকারের কর যা অমুসলিমদের দিতে হয়। কারণ, রাষ্ট্রে যে কোন বিপদ বা শত্রুর আক্রমণ, যুদ্ধ হলে মুসলিমদের জন্য তা জিহাদ। জিহাদে অংশগ্রহণ করা সকল সক্ষম মুসলমান নর-নারীর জন্য অত্যাবশ্যকীয়। কিন্তু বিধর্মীদের জন্য জিহাদ আবশ্যকীয় নয়, পরিবর্তে তারা রাষ্ট্রকে একটি কর দেবে যার নাম “জিজিয়া”। জিজিয়া’র শব্দগত অর্থ সামরিক কর্তব্য থেকে অব্যাহতিজনিত কর। এই কর দেওয়ার ফলে তারাও সেই নিরাপত্তা পাবে যা মুসলিমরা পায়। অর্থাৎ রাষ্ট্র মুসলিমদের পাশাপাশি জিম্মি অমুসলিমদেরও প্রাণ, সম্পদ, উপাসনালয়, ইজ্জত রক্ষা করবে। শুধু তাই নয়, মুসলিমদের যাকাত, ফেতরা, ফসলের ওশর, সদ্বকাহ ইত্যাদি দিয়ে হয় যা তাদের দিতে হবেনা। আর জিজিয়া ছিল খুবই সামান্য একটা কর। উমার রা. ধনীদের ক্ষেত্রে বার্ষিক আটচল্লিশ দেরহাম বা বারো টাকা, মধ্যবিত্তদের জন্য চব্বিশ দেরহাম বা ছ’টাকা এবং গরীবদের জন্য বারো দেরহাম বা তিনটাকা নির্ধারণ করেছিলেন’(জিজিয়া প্রসঙ্গে; পৃ – ৩৬)। অনেক সময় অনেককেই তা মাফ করে দেওয়া হতো।
ঐতিহাসীক টি. ডব্লিউ. আর্নল্ড লিখেছেন, ‘ইসলামী সাম্রাজ্যে অমুসলিম প্রজাবৃন্দ মুসলিমদের রক্ষণাবেক্ষণ থেকে জিজিয়া কর প্রদান করত। আর এভাবে তারা সামরিক খেদমত ও তৎপরতা থেকে অব্যাহতি লাভ করত। অমুসলিম প্রজাবৃন্দ যদি সৈন্যবাহিনীতে যোগদান করত তাহলে তাদের জন্যও জিজিয়া কর রহিত করা হতো। পক্ষান্তরে মিশরীয় মুসলিম কৃষকদের যখন সৈন্য বিভাগে যোগদান থেকে নিষ্কৃতি দেওয়া হল তখন কিন্তু তাদের উপর খ্রীষ্টান অধিবাসীদের মতোই এই কর ধার্য করা হয়েছিল’ । [The Preaching of Islam; P-63]
কাউন্ট হেনরি বলেছেন, ‘ইসলামের নীতি ছিল এই যে, যারা ইসলাম ধর্ম গ্রহন করত, তাদের ধন-প্রাণ এবং স্নমানের হেফাজত করা হতো। কিন্তু যারা নিজেদের পৈত্রিক ধর্মে থাকতে চাইত তাদের উপর জিজিয়া নামে এক মামুলি কর চাপিয়ে এরুপ ব্যবহার করা হতো, যেরুপ মুসলিমদের প্রতি করা উচিত। আর ধর্মীয় ব্যাপারেও তাদের ওপর কোন বলপ্রয়োগ করা হতো না’। [আওরঙ্গজেবঃ ধর্মনিরপেক্ষতা ও ইসলাম; ১৭০ পৃষ্ঠা]
এরপরেও যদি কেউ না বুঝে তাহলে আরো সহজ করে সুস্পষ্টভাবে বলছি, পাশ্চাত্যের সরকার গুলো বা মুসলিমরা সংখ্যালঘু এমন দেশের সরকাররা যদি মুসলিমদের উপর জিজিয়ার মতো সামান্য কোন ট্যাক্স লাগু করে মুসলিমদের সম্পত্তি, প্রাণ, মসজিদ-মাদ্রাসা, ইজ্জত আব্রুর নিরাপত্তা করে তবে আমাদের কোনই আপত্তি থাকার কথা নয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



