somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ও কী ও বন্ধু কাজল ভ্রমরা রে || এ গানটা শুনতে হবে নিরালা দুপুরে, নির্জন গাছের ছায়ায় বসে; অথবা নিশুতি রাতে একা একা || একটা এক্সপেরিমেন্টাল সিঙিং, সেই সাথে প্রখ্যাত শিল্পীদের গাওয়া এ গানের বিভিন্ন ভার্সন

২০ শে জুলাই, ২০২২ রাত ১:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ও কী ও বন্ধু কাজল ভ্রমরা রে

এ গানটা শুনতে হবে নিরালা দুপুরে, নির্জন গাছের ছায়ায় বসে; অথবা নিশুতি রাতে একা একা। এটা আমার একটা এক্সপেরিমেন্টাল সিঙিং বা সুরের রেন্ডিশন। এ পোস্টে সেই সাথে থাকছে প্রখ্যাত শিল্পীদের গাওয়া এ গানের বিভিন্ন ভার্সন।

ও কী ও বন্ধু কাজল ভ্রমরা রে
কোনদিন আসিবেন বন্ধু,
কয়া যাও, কয়া যাও রে

কথা ও সুর : জসীমউদ্‌দীন
রেন্ডিশন : সোনাবীজ

ধীর লয়ের গান বা রাগপ্রধান গান আমার অধিক পছন্দের। যে-কোনো গান আমি যখন আপন মনে গাইতে থাকি, ওগুলোকে খুব টেনে টেনে গাইতে আমার ভালো লাগে। সেই ধীর লয়ের মধ্য দিয়ে আমি এক অন্য ভুবনে চলে যাই, সেখানে সুরের লহরী যেন ধীর ঢেউয়ের ছন্দ তুলছে, আর পুরোটা পৃথিবী সেই তালে তালে দুলছে।

এর আগে আমি এ গানটা ধীর লয়ে খালি গলায় টেনে টেনে গেয়েছিলাম। সেই ধীর লয়ে গাওয়া গানের উপর মিউজিক যোগ করেছি- যেটা শুনতে পারেন - এই লিংকে ক্লিক করে, আর নীচেও ক্লিক করে দেখতে পারেন মিউজিক ভিডিওটি।




খালি গলায় গাওয়া গানটি কেউ শুনতে চাইলে ক্লিক করুন এই লিংকে অথবা/এবং এই লিংকে

খুব ধীর লয়ে গাওয়া গান মূলত একটা এক্সপেরিমেন্টাল সিঙিং। মিউজিশিয়ানগণ, বিশেষ করে অভিজ্ঞ মিউজিশিয়ানরা প্রায়শ প্রচলিত গানের সুরে ভেরিয়েশন এনে গানগুলোকে নতুন করে কম্পোজ ও উপস্থাপন করে থাকেন। এতে গানগুলো বেশিরভাগ সময়ই অধিক উপভোগ্য ও আকর্ষণীয় হয়ে থাকে।

আমার গাওয়া এ গানটার সুরেও আমি একটুখানি ভেরিয়েশন আনার চেষ্টা করেছি, গানের ভাষায় যাকে রেন্ডিশন বলা হয়। ফুয়াদ, বালাম, হাবিব, এবং খুব সম্ভবত সুমনও রেন্ডিশনে প্রচুর গান করেছেন (ফিউশনসহ)।

অনেক রেন্ডিশন এত ফেমাস হয়েছে যে, মূল সুরটা হয়ত আজ আর কেউ জানেন না, এবং এমনও হয়েছে যে মূল সুরের চাইতে রেন্ডিশন অনেক বেশি শ্রুতিমধুর ও আকর্ষণীয় হয়েছে। রুনা লায়লার গাওয়া দামাদাম মাস্তকালান্দার গানটা হলো এর জ্বলন্ত উদাহরণ। পাকিস্তানের কোনো এক উর্দু সিনেমার (Jabroo) টাইটেল সং হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছিল সেই গান, পরে সেটা আবার অন্য সিনেমায় রেন্ডিশন করা হয় (Dillan Dey Soudey) এবং রুনা লায়লার কণ্ঠে আমরা শুনি সর্বেশষ ভার্সন। নূর জাহান আর রুনা লায়লা, এ দুজনের কণ্ঠেই গানটা বেশি পপুলারিটি পেয়েছে; তবে বাংলাদেশ ও ভারতে অবশ্য রুনা লায়লাই এগিয়ে আছেন।

ও কী ও বন্ধু - অনেক জনপ্রিয় একটা গান। আব্বাসউদ্দীন আহমদ থেকে শুরু করে তার মেয়ে ফেরদৌসী রহমান, রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিন, রথীন্দ্রনাথ রায়, স্বাগত দে সহ অনেক বিখ্যাত শিল্পী এ গানটা গেয়েছেন। অনেক ছায়াছবিতেই এটা গাওয়া হয়েছে।

'রঙ্গীন রাখাল বন্ধু' ছায়াছবিতে এ গানটা ব্যবহৃত হয়েছে, যেখানে কণ্ঠ দিয়েছেন রুনা লায়লা। আমি এ পোস্টে যে-গানগুলো শেয়ার করেছি, প্রতিটা গানই অনন্য। তবে এ গানের যতগুলো ভার্সন শুনেছি, তার মধ্যে রুনা লায়লার গাওয়াটাই আমার কাছে সবচাইতে সেরা মনে হয়েছে। ভালো লেগেছে রথীন্দ্রনাথ রায়ের গায়কীও। আমার গাওয়া এ গানের মূল সুরে রুনা লায়লার গায়কী অনুসরণ করেছি। উল্লেখ্য, উপরে যাদের নাম উল্লেখ করেছি, প্রত্যকের গায়কীতেই সুরের সামান্য তারতম্য আছে, সেটা হলো ব্যক্তির নিজস্ব প্রকাশভঙ্গীর কারণে, যা কেউ ইচ্ছে করলেই অন্যের সাথে ১০০ ভাগ মিল রেখে গাইতে পারেন না, প্লাস, সবারই থাকে কিছু স্বকীয়তা। কিন্তু রেন্ডিশন বা ভেরিয়েশন হলো গানের মূল সুরের কোনো কোনো স্থানে সামান্য চেঞ্জ করে দেয়া।

এ গানের শুরু (মুখ) ও ১ম অন্তরায় প্রথমে মূল সুর ও পরে ভেরিয়েশন সুরে গাওয়া হয়েছে। কেউ এ গান আগে শুনলে সহজেই বুঝতে পারবেন ভেরিয়েশন কোন জায়গায় করা হয়েছে।

যদি কেউ এই ভেরিয়েশনসহ গাইতে চান, তারা প্লিজ নীচের ইন্সট্রাকশন ফলো করুন।

ও কী ও বন্ধু কাজল ভ্রমরা রে
কোন দিন আসিবেন বন্ধু কয়া যাও কয়া যাও রে - মূল সুর
কোন দিন আসিবেন বন্ধু কয়া যাও কয়া যাও রে - ভেরিয়েশন/রেন্ডিশন

যদি বন্ধু যাবার চাও
ঘাড়ের গামছা থুইয়া যাও রে - মূল সুর
যদি বন্ধু যাবার চাও
ঘাড়ের গামছা থুইয়া যাও রে - ভেরিয়েশন/রেন্ডিশন
বন্ধু কাজল ভ্রমরারে
কোন দিন আসিবেন বন্ধু কয়া যাও কয়া যাও রে - মূল সুর
কোন দিন আসিবেন বন্ধু কয়া যাও কয়া যাও রে - ভেরিয়েশন/রেন্ডিশন

বটবৃক্ষের ছায়া যেমন রে
মোর বন্ধুর মায়া তেমন রে।
বন্ধু কাজল ভ্রমরা রে
কোন দিন আসিবেন বন্ধু কয়া যাও কয়া যাও রে - মূল সুর
কোন দিন আসিবেন বন্ধু কয়া যাও কয়া যাও রে - ভেরিয়েশন/রেন্ডিশন

কথা ও সুর : জসীমউদ্‌দীন
সুরের রেন্ডিশন/ভেরিয়েশন : সোনাবীজ

তবে, অনেকে গাইতে গেলে মনে হতে পারে, তিনি দেখি পুরা গানটাই রেন্ডিশন করে ফেলেছেন :) এটা রেন্ডিশন, নাকি অন্য কিছু, তা বোঝা যাবে তার গায়কীর মিষ্টতা বা শুষ্কতা থেকে। অর্থাৎ, আপনি ঠিকই ধরে ফেলবেন, এটা রেন্ডিশন, নাকি হাম্বারবের ভ্যাঁ ভ্যাঁ :)

রেন্ডিশনের মূল লক্ষ, গানটার মিষ্টতা ও আকর্ষণ আরো বাড়ানো। আপনি রেন্ডিশন করতে যেয়ে গানটার বারোটার বাজিয়ে দিলে ওটা শুরুতেই ফ্লপ করবে, প্লাস শ্রোতা, দর্শক, মূল শিল্পী, সুরকার, গীতিকার আপনার উপর প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হবেন।

রেন্ডিশন অফিশিয়ালি প্রচার বা প্রকাশ করতে গেলে অবশ্যই মূল সুরকার, শিল্পী, প্রমুখের কাছ থেকে অনুমোদন নেয়া উচিত বলে ধারণা করছি (এ ব্যাপারে অথেনটিক কিছু জানা নেই)।

এ গানের যে রেন্ডিশন এখানে দেখানো হলো, তার কপিরাইট আমার। যে-কেউ এটা প্রচার করতে পারেন, তবে রেন্ডিশনে আমার নাম উল্লেখ আবশ্যিক হবে।

এবার এ গানের আরো কয়েকটা মিউজিক ভিডিও দেখুন।


আব্বাসউদ্দীন আহমদ


রথীন্দ্রনাথ রায়


ও কী ও বন্ধু কাজল ভোমরা রে - ফেরদৌসী রহমান, ছায়াছবি 'নোলক'




রুনা লায়লা, ছায়াছবি 'রঙ্গীন রাখাল বন্ধু'




সাবিনা ইয়াসমিন, ছায়াছবি 'রাখাল রাজা (ভারত)




স্বাগত দে




মোস্তফা জামান আব্বাসীর কণ্ঠে এ গানটা বিশেষভাবে ভালো লাগলো। কোনো একদিন রেডিওতে তার খালি গলায় গাওয়া একটা ফোক গান শুনেছিলাম। গানের কলি ও সুর সবই ভুলে গেছি, কিন্তু সেই আবহ এখনো অম্লান। এবং আমি ঠিক জানি না, এই যে আমি এত ধীর লয়ে টেনে টেনে খালি গলায় গান গাইতে গাইতে নিমগ্ন হয়ে যাই, হয়ত তার গানটা শোনার পর থেকেই আমি আমার অজান্তে এরকম গায়কীতে অনুরক্ত হয়ে পড়ি।

মোস্তফা জামান আব্বাসী

সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুলাই, ২০২২ রাত ১:৪৮
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×