somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুজানা, তুমি কোথায় আছো?

২০ শে মে, ২০২৫ রাত ১২:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এলোমেলো পায়ে উদাসীন যাচ্ছিলাম হেঁটে, একটু এগোলেই করিমদের বাসা। দুপুরের ছায়াঢাকা পথে কী জানি কী ভাবছিলাম, মন তো ছিল না এই মনে। আমিও ছিলাম না সে-পথে, হঠাৎ 'টুং' শব্দে রিকশার ঘণ্টা বাজলো, সম্বিতে চেয়ে দেখি রাজকীয় ভঙ্গিমায় বসে আছো তুমি, চোখেমুখে বিরাট বিস্ময় – কী করে অমন সময়ে ওখানে আমি! তখনো বাতাসে বৃষ্টির গন্ধ, আকাশে মেঘেরা উড়ছে দিগ্বিদিক, পথের বুক জুড়ে ছায়াদের নাচানাচি।



‘কেমন আছেন?’ মোহনীয় কিন্নর স্বরে জানতে চেয়ে গাঢ় চোখে তাকিয়ে থাকলে চোখে।

আজও আমি সেই চোখ দেখি, আজও দেখি তেমনি তাকিয়ে আছো তুমি। আমিও স্থির তাকিয়ে তোমার চোখেই একই বিন্দুতে, নিস্পলক। অথচ কতযুগ পেরিয়ে গেল মাঝখানে!

আমি জানি না, কী তোমার বলার ছিল, কিংবা আদৌ কিছু বলার ছিল কিনা। সত্যি বলতে কী, আজও আমি সুনিশ্চিত জানি না, আমাদের মধ্যে প্রেম ছিল কিনা। কেন আমি প্রতিটা নিবিড় বেলায় তোমাকে আজও ভাবি, জানি না; তুমিও এমন করেই আমাকে ভাবো কি কখনো? কিংবা কখনো জানতে চেয়েছ কি, কোথায় আছি, আছি কিনা বেঁচে?

সুজানা, আমাকে মার্জনা করো, আমি তোমার নামটাও ভুলে গেছি, তুমি জানো - 'সুজানা' তোমার নাম নয়, তোমাকে মানুষ ডাকতো ভুল নামে; আর দেখো, কত নিষ্ঠুর তুমি, কত নিষ্ঠুর তব ভালোবাসা, আমার অন্তরে তোমার নামটিও রাখো নি।

সুজানা, এই পৃথিবী ভরে আছে প্রেম-না-পাওয়া, প্রেম-হারানো প্রেমিকদের হাহাকার আর দীর্ঘশ্বাসে। এই পৃথিবীর আলো-জল-বাতাস জুড়ে কান্নার্ত বিষণ্ণতা। চারদিকে উড়ে যায় বক্ষ-বিদীর্ণ করা সকরুণ সুর। অলস দুপুরে, ক্লান্ত বিকেলে, সন্ধ্যায়, গভীর নিশীথে বিরহী প্রেমিকেরা সার বেঁধে বসে পড়ে পাড়ভাঙা নদীর তীরে অবশ দেহ বিছিয়ে, চরাচরের বুক চিরে দূরে, অনেক অনেক দূরে ছড়িয়ে পড়ে তাদের বুকফাটা কান্নার সুর। কী করুণ সেই সুর, আমি একেবারে মিশে যাই, হারিয়ে যাই সেই বিরহী সংঘের সভ্যদের রোদন-ভরা সুরের গহিনে।

ও সুজানা, তুমি এখন কোথায় আছো
এই পৃথিবীর কোন প্রান্তে
কোন লোকালয় কোন নগরে
আমি তা কিছু জানি না
আমি কিছুই জানি না

আজও দেখি শূন্যে ভেসে সামনে এসে দাঁড়ালে
হাত বাড়িয়ে ছুঁয়ে দিলে তুমি আমাকে
এরপর ঘুমিয়ে গিয়েছি, কতটা বছর, জানি না
আমি জানি না
আমি কিছুই জানি না
ও সুজানা

তুমি যে তারপর কোথায় হারিয়ে গেলে
পাই নি খুঁজে ঠিকানা তোমার
আমি আজও দাঁড়িয়ে আছি সেখানে
হয়ত একদিন আসবে ফিরে
হাত বাড়িয়ে আমাকে ছুঁয়ে দেবে

ও সুজানা
ও সুজানা, তুমি এখন কোথায় আছো
এই পৃথিবীর কোন প্রান্তে
তুমি এখন কোথায় আছো
এই পৃথিবীতে, নাকি অন্য কোথাও
আমি তা কিছু জানি না
আমি কিছুই জানি না
ও সুজানা
ও সুজানা …

মুখ রচনা ও মুখ-এর সুর সৃষ্টির তারিখ :২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩
অন্তরা রচনা ও অন্তরার সুর সৃষ্টির তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪

কথা, সুর ও মূল কণ্ঠ : খলিল মাহ্‌মুদ
এ-আই কভার : সোনারু

গানের লিংক : প্লিজ এখানে ক্লিক করুন - ও সুজানা, তুমি এখন কোথায় আছো?

অথবা নীচের লিংকে ক্লিক করুন।



আমার কণ্ঠে মূল গানটি : প্লিজ এখানে ক্লিক করুন - ও সুজানা, তুমি এখন কোথায় আছো?

অথবা নীচের লিংকে ক্লিক করুন।



ফুটনোট :

আমার স্কুলজীবনের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু আবুল কালাম শের খান, এসএসসি পরীক্ষার সময় যার সাথে আমি এক রুমে থাকতাম, যে জুঁই-সম্পর্কিত ঘটনাবলি পূর্বাপর জানতো, ২২ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে আমার বাসায় এসেছিল। সম্ভবত ২০০৭ সালের পর এই প্রথম ওর সাথে দেখা। অন্তর থেকে অনেক কথা অগ্নিলাভার মতো টগবগিয়ে উঠে এলো, এতদিনের জমানো কথাগুলো খইয়ের মতো ফুটছিল দুজনের মুখে। কথায় কথায় হঠাৎ শের খান উচ্চারণ করলো ‘রানু’। আরো দু’বার – ‘রানু’। ‘রানু’। আমি জিজ্ঞাসা করি, রানু কে? শের খান অবাক হয়ে উলটো প্রশ্ন করে, ‘তুই ভুলে গেছিস?’ কয়েকটা সেকেন্ড, তারপর টাশ করে স্মৃতিতে তুমুল ভাস্বর হয়ে উঠলো নামটি। এ নামটি আমি কত খুঁজেছি, অর্থাৎ, এ নামটি আমি কত সহস্রভার, কতভাবে মনে করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু মনে করতে পারি নি। শেষ বার কবে এ ‘রানু’ নামটি আমার মনের কুঠরিতে স্থিত ছিল, তারপর কবে তা হারিয়ে গিয়েছিল, আমি বিলকুল টের পাই নি। ২০০৩/৪ সালে আমি ‘অন্তরবাসিনী’ লিখতে শুরু করি; ‘অন্তরবাসিনী’ উপন্যাসের মূল চরিত্র বা নায়িকাটিই হলো রানু। কিন্তু ঐ সময়ে আমি এ নাম মনে করতে পারি নি। লজ্জার কারণে করিম বা আর কাউকে জিজ্ঞাসাও করি নি। অবশ্য, অন্য কারো মনে যে এ ঘটনা গেঁথে থাকতে পারে, তাও আমি ভাবি নি তখন। আর, দৈবাৎ যদি ‘রানু’ নামটি মনে পড়তোও, নিশ্চিতভাবেই উপন্যাসে এ প্রকৃত নামটি দেয়া হতো না।

রানুকে নিয়ে আমি উপন্যাস লিখেছি ঠিকই, যদিও রানুই গল্পের মূল চরিত্র, কিন্তু বাস্তবে রানুর প্রতি আমার কোনো প্রেম গড়ে ওঠে নি। ঐ ঘটনাটাকে একটা গল্পের প্লট হিসাবেই ব্যবহার করেছি মাত্র।

ওর প্রতি আমার কোনো মোহ বা টান জন্মায় নি বলেই ওর কোনো খোঁজখবরও নেয়া হয় নি কোনোদিন। পথে যেতে যেতে কত মানুষকে পাশ কাটিয়ে যাই, কতজন চলে যায় পাশ দিয়ে, দিন শেষে কারো কথাই মনে থাকে না। রানু হয়ত এমনই একজন পথচারিণী ছিল।

শের খান জানালো, রানু আর বেঁচে নেই। কয়েক বছর আগে মারা গেছে। ক্যান্সার হয়েছিল। আমি ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারি নি, আমার এ গল্পটির মতোই রানু পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেছে।

ফুটনোট লেখার তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৪

ফুটনোটের মূল লিংক : একদিন আমার 'অন্তরবাসিনী' উপন্যাসের নায়িকাকে দেখতে গেলাম

আগের পোস্ট : সুজানা, তুমি এখন কোথায়?

সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মে, ২০২৫ রাত ১২:৩৬
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নিনাশ গ্রহাণুপুঞ্জের অধিবাসী - সাইন্স ফিকশন

লিখেছেন আরাফাত৫২৯, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:১০




১/
বিজ্ঞান একাডেমির প্রধাণ মহামতি গ্রাহাম উনার অফিসের বিশাল জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। সময়টা প্রায় শেষ বিকেল। সন্ধ্যার রক্তিম আভা দূর আকাশে দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে পুরো আকাশটাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৪

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মসজিদে ইমামতি করা, আযান দেয়া, কুরআন শিক্ষাদান করা কিংবা সাধারণভাবে দ্বীন প্রচারের কাজে বিনিময়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তরের ইতিহাস অন্য কিছুর সঙ্গে মিলবে না, সত্যিই?

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৮


স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, একাত্তর কখনো অন্য কোনো ইতিহাসের সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বাধীনতা বলতে আপনি কি বুঝেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:০৩


২০২৩ সালের কথা। আমরা কয়েকজন মিলে অনলাইনে একজন ইংরেজি স্যারের কাছে কোর্সে ভর্তি হয়েছিলাম। একদিন ক্লাস চলছে, স্যার হঠাৎ বই থেকে মুখ তুলে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা ছোটবেলায় যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৪

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:১৪



বিশেষ দিন গুলো শাহেদ জামালের জন্য কষ্টকর।
যেমন ইদের দিন শাহেদ কোথায় যাবে? কার কাছে যাবে? তার তো কেউ নেই। এমনকি বন্ধুবান্ধবও নেই। তার এমন'ই পোড়া কপাল মেসেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×