বিএনপি ও জামায়াত দুই দলই অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে যথাক্রমে ২১৮ ও ৭৩ আসন পেয়েছে। নতুন রেকর্ড সৃষ্টির জন্য তাদেরকে অভিনন্দন। (১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬-এর বিতর্কিত নির্বাচনে বিএনপি ২৭৮ আসন পেয়েছিল)।
এখনো অফিশিয়াল রেজাল্ট ঘোষিত হয় নি। ৭১টিভিতে প্রদর্শিত ফলাফল অনুযায়ী (১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৫ ঘটিকা) বিএনপি জোট ২১৮, জামায়াত জোট-৭৩, স্বতন্ত্র ও অন্যান্যরা ০৮ আসন পেয়েছে। মোট ২৯৯। একটি আসনে নির্বাচন হয় নি।
হেরে গেলেই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে, সূক্ষ্ম কারচুপি হয়েছে, এসব বলার বাজে অভ্যাস থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা উচিত। বাংলাদেশের ইতিহাসে ৯১ ও ২০২৬ নির্বাচন অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এর চাইতে অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন অনুষ্ঠান শুধু স্বপ্নেই কল্পনা করা যেতে পারে। এর জন্য সবার আগে কৃতিত্ব পাওয়ার অধিকারী হলেন জনগণ, এরপর রাজনৈতিক দলগুলো। নিজেরা সুশৃঙ্খল থাকলে আইন প্রয়োগের প্রয়োজন পড়ে না।
আওয়ামী লীগ বিহীন খালি মাঠে বিএনপির পাওয়ার কথা ২৭০-এর বেশি আসন। তারা কেন অতগুলো আসন পেতে ব্যর্থ হলো, সেগুলো বিশ্লেষণ করে ভুল শোধরানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ২১৮ আসন পেয়ে তারা এখন সরকার গঠন করতে যাচ্ছে, তাদেরকে ভাবতে হবে তারা দেশের ও জনগণের সেবক। জনগণের পালস বুঝে কাজ করতে হবে। একটা সরকার কীভাবে ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠে, জনগণ কীভাবে তাদের পতন ঘটায়, এই উদাহরণ জনগণের মগজে ও মনে এখন জ্বলজ্বল করছে। জনগণের সেবক হয়ে জনগণকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা, কথায় কথায় আমি এটা করেছি, ওটা করেছি, বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিব, গ্যাস দিব না, এসব কথা বললে আপনারা যত উন্নয়নই করুন না, জনগণ আপনাদেরকে নামিয়ে দিতে কার্পণ্য করবে না। জনগণ এখন আগের চাইতে অনেক অনেক গুণ বেশি প্রতিবাদী, সচেতন ও বিপ্লবী মনোভাবাপন্ন। জনগণকে না ক্ষেপিয়ে, নিজেরা দুর্নীতি থেকে মুক্ত থেকে দেশ ও জনগণের সেবার মনোভাব নিয়ে সরকার পরিচালনা করলে বিএনপির সাফল্য অনিবার্য ও আগামীতে আসন অবশ্যই বাড়বে।
জামায়াত জোট এমন একটা আবহ তৈরি করেছিল যে তারাই ভূমিধ্বস বিজয় অর্জন করতে যাচ্ছে। তাদের প্রোপাগান্ডা ক্যাম্পেইন আমাদের মতো সাধারণ জনগণের মনে অনেক বিরক্তির উদ্রেক করেছে। এমনকি ফলাফল ঘোষণার সময়ও এমন এমন অদ্ভুত ও উদ্ভট ফলাফল তারা প্রচার করেছে, যা কোনো টিভি চ্যানেলের ফলাফলের সাথেই সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না, বরং তা ছিল সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী। তাদের এই প্রচারণা যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল এবং ওগুলো যে বানোয়াট ছিল, তা সহজেই অনুমেয়। ইলেকশন ক্যাম্পেইনের সময় অনেকের আচরণ অনেক উদ্ধত ও অহংকারী মনে হয়েছে। ফলে, জনগণ তাদের পক্ষে ঝুঁকে পড়লেও শেষ পর্যন্ত তাদের প্রোপাগান্ডা ক্যাম্পেইন ও আচরণ দেখে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আরো একটা কারণ আছে বলে আমার মনে হয়েছে। জামায়াত ছিল বিএনপির সাথে জোটবদ্ধ একটা দল, যারা দীর্ঘদিন একত্রে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। কিন্তু নির্বাচনী প্রচারণায় তারা হঠাৎ করে বিএনপির বিরুদ্ধে কুৎসা রটনায় ব্যস্ত হয়ে পড়লো, যা খুব বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। তবু তাদের এই ৭৩ আসন নিয়েই মহাখুশি হওয়া উচিত বলে মনে করি। কীভাবে একটা শক্তিশালী বিরোধী দল হিসাবে দেশ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা যায়, তাদের এখন সে দিকে মনোযোগী হওয়া জরুরি।
মনে রাখতে হবে, ১৯৭১-কে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। নিজের জন্মকে যেমন অস্বীকার করার উপায় নেই, বাংলাদেশের জন্মকেও ভুলভাল ইতিহাস দিয়ে মুছে ফেলার চেষ্টা করাও জনগণ মেনে নিবে না। এটা আমাদের সবাইকেই বুঝতে হবে। জামায়াত তাদের ৭১-এর ভূমিকা তো ধরে রেখেছেই, অধিকন্তু তারা ৭১-এর ইতিহাসই পালটে দিয়ে নতুন ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা করেছিল। কিন্তু এদেশের মানুষ ৭১-এর চেতনা সারাজীবনই বুকে ধারণ করবে। জনগণ এজন্য জামায়াতের ন্যারেটিভ প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমদের পর ড: মুহাম্মদ ইউনূসকে এই অবিস্মরণীয় কৃতিত্বের জন্য ইতিহাস মনে রাখবে।
সেনাবাহিনীসহ সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিজেদের সেরাটাই উপহার দিয়েছেন। তাদেরকে প্রাণঢালা অভিনন্দন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

