somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জনৈকা সুশ্রী গায়িকার প্রতি

২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আনিলাম
অপরিচিতের নাম
ধরণিতে,
পরিচিত জনতার সরণিতে।






এর আগে আমি এক সুশ্রী অভিনেত্রীর প্রেমে পড়েছিলাম
যাঁর কবিতাগুলো তাঁর রূপের চেয়েও অধিক হৃদয়ভেদী ছিল।
তাঁকে প্রেম প্রকাশের আগেই তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন- প্রেম তাঁর
নেশা নয় উঠতি কবিদের মতো। তিনি বলেছিলেন- ‘কবিতা লিখুন।’
কবিতা লিখতে লিখতে আমি অন্ধ ও অসাড় হয়ে বহুকাল মুখ থুবড়ে পড়ে
ছিলাম কোনো এক অরণ্যের রুক্ষ সরণিতে। দূর থেকে পবিত্র ধ্বনির
মতো ভেসে আসে তোমার অমৃত কণ্ঠসুর- ‘মনমাঝি নাইয়া- ’
চমকে সম্বিৎ ফিরে পেলে নিজেকে আবিষ্কার করি তীব্র ছুটে যেতে
তোমার সুরের উৎসে। তুমি ধীর রাগে গাইছিলে- ‘ভবনদীর কুল...’

হে সুন্দরী গায়িকা, রহস্যময়ী কবিতা-কন্যা, তুমি তো কবিতা
বোঝো না, বোঝো না কবিকে; তুমি যখন গাও, শহরের বাগান
যখন মূর্ছনায় বুঁদ হয় তোমার পায়ের ছন্দে, দুপুরের অলস পৌরুষে
তখন সচকিত জেগে ওঠে ঝড়। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে তোমাকে খুঁজি-
তোমার ফ্যানপেইজ- নিত্যরঙিন শাড়ি ও সাজনে তোমাকে
ভিন্ন ভিন্ন রূপে খুঁজি- কাশবন, নদীচর- শহীদ মিনার- তোমার
সুনির্মল চোখ আমাকে কাঁদায়, গভীর দৃষ্টিতে আমি ডুবে যাই-
হায়- তোমাকে নিয়ে আজও কোনো কবি কবিতা লিখেন নি,
কোনো গান লেখা হয় নি তোমাকে নিয়ে- অথচ একদিন আচানক
অকল্যান্ড ভ্রমণে বের হয়ে প্রেমিকের পাশে বসে বিয়ের কাজটি
সেরে ফেললে- তুমি তখন আনন্দে উদ্বেলিত- তখন বাংলাদেশের
জীর্ণ কুটিরে জনৈক কবির রক্তাক্ত হৃৎপিণ্ড মৃত্যুযন্ত্রণায় ছটফট করছিল

তোমাকে মানুষ জানতো না। কেউ কেউ জানতো। আজ জানবে অনেকে।

তোমার এই রূপ যেদিন থাকবে না, সুশ্রী অভিনেত্রীও যেভাবে
বিগত-যৌবনা হয়েছেন- সেদিন আমারও চোখ থাকবে না তোমার
শাড়ির ভাঁজ আর শরীরের রহস্য পরতে পরতে পরখ করার।
কিন্তু জেনে রাখো- সেদিন তোমার একটি বাসনা খুব তীব্র হবে-
কোনো এক কবি সেই বহুকাল আগের মতো প্রতিটা অলস দুপুরে
তোমাকে খুঁজে খুঁজে যেন বিধূর সন্ন্যাসী হয়। সেদিনও ‘তোমার’
কবিতারা বেঁচে থাকবে- আর বিষণ্ণ ফুলের মতো আমার সমাধিতে
লুটিয়ে পড়ে নিরন্তর নিভৃতে কাঁদবে- নীরবে কেবলই কাঁদতে থাকবে।

২৮ এপ্রিল ২০১৪






কোনোদিন যদি মনে হয়
মিছেই নষ্ট করেছি সময়
গানের পেছনে,
তোমার গনগনে
রূপের উত্তাপে ধ্বংস করেছি নিজেকে;
যদি মনে হয়-
এসব বালখিল্য কবিতারা কবির জন্য নয়
তবুও অগ্নিভূক পোকাদের মতো
ঝাঁপ দেব তোমার আগুনে।
যদিবা অগণন খ্যাতির ভিতরে
কোনো একদিন ‘তোমার’ কবিতারা কলঙ্কিত তারা হয়ে
এঁকে দেয় দুর্লঙ্ঘ্য ক্ষত-
তবুও তোমাকেই চাই- তোমার প্রেমেতে কবিতার অমরত্ব।
তবু তুমি ধরে রেখো সুর, রূপের দ্রোহ
তোমাতে আমার সন্ন্যাস, তোমাতেই ধ্যানের সমারোহ।

২৯ এপ্রিল ২০১৪




অমিত সম্ভাবনাময়ী এ সুকণ্ঠী ও সুশ্রী গায়িকার নাম সিঁথি সাহা। আমি অবাক হচ্ছি এ কারণে যে এরকম ট্যালেন্টেড একজন গায়িকাকে আমরা খুব কম মানুষই চিনি- এমনও হতে পারে যে আমাদের এই ব্লগ বা আমার ফেইসবুক ফ্রেন্ডদের মধ্যে হয়তো অনেকেই তাঁর নাম আজ প্রথম বারের মতো জানলেন। আমি অবশ্য এর আগে সিঁথি সাহাকে নিয়ে এই ব্লগে তিনটা পোস্ট পাবলিশ করেছিলাম, এবং ফেইসবুকেও বেশ কয়েকবার তাঁকে নিয়ে স্টেটাস দিয়েছি। তাঁর জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে ‘কল্পনা’, ‘অলস দুপুর’, ‘প্রার্থনা’, ‘পহেলা বৈশাখ’, ‘বৈঠা’, ‘তুমি প্রথম তুমি শেষ’, ‘ভেবে ভেবে’, ‘না বলো না’, ‘পূর্ণতা’, ইত্যাদি অন্যতম। আমার জানা মতে এ পর্যন্ত তাঁর দুটো একক এ্যালবাম বের হয়েছে। ‘প্রজাপতি’ ছায়াছবিতে তাঁর ‘টাকা’ গানটি আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে। তাঁর কণ্ঠ দরাজ ও শক্তিশালী।


' frameborder='0'>


কল্পনা




এলো এলো বৈশাখ




প্রার্থনা




বৈঠা – মনমাঝি নাইয়া




তোমার দেয়া শেষ কথা মনে পড়ে যায়




সিঁথি সাহাকে নিয়ে আমার আগের পোস্ট ও ফেইসবুক স্টেটাস সমূহ

সিঁথির সাহার 'বৈঠা'র খোঁজে; অতঃপর আরো কিছু গান
২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১২ ভোর ৫:৩৪

সিঁথি সাহার গাওয়া একটি গান - বৈঠা নে তোর মনমাঝি নাইয়া
২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৪৯

সিঁথি ও আনানের গান
১১ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩১

সিঁথি সাহার কণ্ঠে নূরী পাগলার গান : মনমাঝি নাইয়া ফেইসবুক
16 September 2010 at 02:11

সিঁথি সাহার কণ্ঠে নূরী পাগলার গান : মনমাঝি নাইয়া
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১১:৩২


সিঁথি সাহার ফেইসবুক ফ্যানপেইজ


পুরোনো পোস্ট, ০৩ মে ২০১৪
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সবাইকে একসঙ্গে লড়তে হবে এর কোনো বিকল্প নেই।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৩৫

সবাইকে একসঙ্গে লড়তে হবে এর কোনো বিকল্প নেই।
যারা ভাবছেন ঘরে বসে থাকলেই সবকিছু আপনাআপনি হয়ে যাবে, তারা ভুল ভাবছেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই।... ...বাকিটুকু পড়ুন

Out of the frying pan into the fire- কড়াই থেকে অগ্নিকুণ্ডে!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:৫২



Out of the frying pan into the fire- কড়াই থেকে অগ্নিকুণ্ডে!

ইংরেজি প্রবাদ “Out of the frying pan into the fire”- অর্থাৎ এক বিপদ থেকে বাঁচতে গিয়ে আরও বড় বিপদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

চিঠির সঙ্গে আমার এক অন্যরকম সম্পর্ক

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:৫৩



চিঠির সঙ্গে আমার এক অন্যরকম সম্পর্ক

উনি আমাদের ভবেরচর পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার। অত্যন্ত ভালো মনের একজন মানুষ। তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয়টা শুধু পোস্ট অফিসের প্রয়োজনের কারণে নয়; বরং দীর্ঘদিনের এক আন্তরিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীরব আত্মপক্ষ।

লিখেছেন রাজা সরকার, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০

নীরব আত্মপক্ষ।

স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র আন্দোলনের মাসুল বাঙালি হিন্দুকে গুণে গুণে দিতে হয়েছিল ব্রিটিশকে । বাকিটা মুসলিম লীগ ও নেহেরুইয়ান কংগ্রেস মিলে যা করার করে গেছে। এবং পরবর্তীকাল থেকে মুসলিম... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই সমাজ- ৭২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৩



দেশের সরকার অযোগ্য অদক্ষ হলে, জনগনের শান্তি থাকে না।
দেশের জনগন সারাদিন কাম কাজ করে। অফিসে নানান রকম যন্ত্রনা পোহায়। নানান জক্কি ঝামেলা পোহাতে হয়। অফিসে থাকে না... ...বাকিটুকু পড়ুন

×