
১৯৯২ এ যখন এই মসজিদ ভাঙ্গা হয় তখনকার কথাও আমার মনে আছে। মাত্র ৪ বছর বয়সের ছিলাম। অথচ আব্বু রেডিওতে সংবাদ ছাড়লে আমাদের ঘরের পরিবেশে এক কষ্টকর সুর সৃষ্টি হত। মসজিদ ভেঙ্গে ফেলছে সভ্যতার মহান গুরু ইন্ডিয়া!!
এরপর বয়স বেড়েছে, যতবার এ মসজিদ নিয়ে কথা উঠেছে চুপ করে শুধু শুনেছি। বলার মত ভাষা আমি অর্জন করিনি। এত কষ্ট আমার মাঝে ছিলো এই মসজিদ নিয়ে...! একদিন বিবিসি রেডিও একটি প্রতিবেদন প্রচার করল। সেখানে বাবরি ভাঙ্গার সময় যে স্থানীয় ভাবে নেতৃত্ব দিয়েছে তার ভাষ্য প্রচার হয়েছে। সংবাদের শুরুতেই একটা ব্যাতীক্রম ঘটনা বলা হয়। বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার পর ঐ এলাকায় প্রত্যহ ভয়াবহ আওয়াজ হত, যা শুধু ভাংচুরকারীরা ও হিন্দুরাই শুনতে পায়। কিন্তু মুসলিমরা এ ব্যাপারে কিছুই বলতে পারেননা! স্থানীয় লোকদের কথাগুলো প্রচার করা হয়েছিল। স্থানীয় যে নেতার নেতৃত্বের স্থানীয়রা মসজিদ ভেঙ্গেছিলো সে বলেছিলো সে এখন মুসলিম হয়ে গেছে। ঠিক সেদিন থেকে আমার মন থেকে বাবরি মসজিদের কষ্ট লাঘব হয়েছিলো।
আল্লাহ ইন্ডিয়ান ভূমিকে তার দ্বীনের খেদমতের জন্য কবুল করেছেন বলেই আজ গোটা ইন্ডিয়ান উপমহাদেশে এত মুসলিম! অথচ এই গায়ে বহমান রক্তধারা সৃষ্টিকারী পূর্বপুরুষেরা কত প্রজন্ম যে মুশরিকী জীবন কাটিয়েছেন!- আল্লাহ জানে!!! হয়তো কেয়ামতে আমার রক্ত প্রবাহকদের সাথে স্বাক্ষাত হবে। হয়তো ইমানের বদৌলতে আমরা সাম্প্রতিক প্রজন্মগুলো ডান পার্শে অবস্থান করব। অন্যদিকে আমাদের কত পূর্বপ্রজন্ম, পরম রক্তের বন্ধন পূর্বপুরুষ, শিরকের কারনে বাম পাশে থাকবেন!! প্রথম মানব আদম আঃ থেকে কত বার প্রজন্ম গুলো ইমান-শিরিক-ইমান-শিরিক অবস্থার পরম্পরা পার করেছে হিসেব নেই!
এই রত্ন ইমানের এই যে বিপুল পাওয়া! এ প্রাপ্তির যথাযথ হক তখনই আদায় হবে, যখন এই হিন্দুস্তানী উপমহাদেশে ইমানকে প্রতিষ্ঠা করার শপথ নিতে পারব। নচেৎ নিজেদের সৌভাগ্যকে অপমান করা হবে। আরো বহু বনি আদম আজও দাওয়াতে দ্বীন থেকে মাহরুম। তাঁদের হক রয়েছে আমাদের ইমানী বুঝের ওপর। আমরা সে হক আদায় না করলে অবশ্যই আটকে যাব!
আল্লাহ ইমান নিয়ে মৃত্যুর সৌভাগ্য দান কর।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৪:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





