somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাবেক যুগাযুগ মন্এী দেশপ্রেমিক সৈয়দ আবুল হোসেন শুরনে

৩০ শে আগস্ট, ২০১৪ দুপুর ২:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সৈয়দ আবুল হোসেনের পদত্যাগের পর তাঁকে দেওয়া বিদায়ী মানপত্রের নমুনটি পুনরায় পোষ্ট করা হল দেশপ্রেমিক সৈয়দ আবুল হোসেন শুরনে

হে মান্যবর মন্ত্রী,
আপনাকে পেয়ে দেশ-জাতি আশায় বুক বেঁধেছিল। কোথাকার পদ্মা সেতু বাঁধার আশায় সেই বুক ভেঙে খান খান সৈয়দ সৈয়দ চৌধুরী চৌধুরী হয়ে গেল। পদত্যাগের আগে আপনি কি জনতার কথা ভাবলেন না একটি বারও? আপনার বুকে জনসেবার যে ঢেউ বইছিল, তা কি পদ্মা সেতুর কারণে থমকে দাঁড়াল? আমরা মানতে পারছি না মান্যবর মন্ত্রী। আমরা কাঁদতে শুরু করলাম, কাঁদতেই থাকব আপনাকে ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত।
হে সদা হাস্যোজ্জ্বল,
কথায় বলে, যে হাসতে জানে তার কোনো দুঃখ থাকে না। আপনি নিজে হেসেছেন মন্ত্রী হয়েও। আপনার কোনো দুঃখ ছিল না, আর আপনার মন্ত্রিত্বে আমরা যারা জনতা ছিলাম, তাই আমাদেরও দঃখ ছিল না, আপনার হাসির গুণেই। আপনি যখন হেসে হেসে গণমাধ্যমে কথা বলতেন, মনে হতো—এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি...।
হে মহাপ্রাণ,
আপনি যদি মন্ত্রী না হতেন, তবে এই দেশ, এই বঙ্গদেশ একটি ইতিহাস থেকে বঞ্চিত হতো। আপনি মন্ত্রী হয়েছিলেন বলেই এখন ইতিহাসের ছাত্ররা পড়ার সুযোগ পাবে... এই দেশে আবুল নামে একদা এক মন্ত্রী ছিল, যাকে বারবার বলা সত্ত্বেও গদিচ্যুত করা যায়নি... যার মানসম্মান এতটাই প্রবল যে, বানের জলেও তা ধুয়ে যায় না, যাকে অপমান করার চেষ্টা মানে নিজেই অপমানিত হওয়া...।
হে দেশ হিতৈষী,
বাল্যকালে একটি প্রবাদ শিখেছিলাম, ‘পথ নয়, পথিকই পথের সৃষ্টি করে’। আহা, আপনার আমলে সড়কের বেহাল দশা দেখে সেই প্রবাদের সত্যতা বারবার উচ্চারিত হয়েছে। কারণ, গাড়িঘোড়ায় চড়ে পথিক হওয়া যায় না, তাই আপনি নতুন নতুন পথ সৃষ্টির জন্য মানুষকে পায়ে হেঁটে শত শত মাইল পথ পাড়ি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন, ঈদে অনেকেই পায়ে হেঁটে ঘরে ফিরেছে। আপনার মতো মন্ত্রী বারবার চাই এই বাংলায়।
হে শ্রদ্ধাস্পদ মন্ত্রী,
স্বাধীনতার ৪০ বছরে আপনার মতো মন্ত্রী আর আসেনি, ভবিষ্যতে আসবে বলেও সন্দেহ আছে। আপনি যোগাযোগমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর সড়ক-মহাসড়কগুলোতে মাছ চাষের যে প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন, তা কতটা পরিবেশবান্ধবী, জনগণ এখন টের পাচ্ছে। বাজারে মাছের আকাল, গত পয়লা বৈশাখে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছিল না হাজার টাকা দিয়েও, কিন্তু আপনার সেই সড়কে মৎস্য চাষ প্রকল্প সফল হলে ইলিশে ভরে যেত বাঙালির গোলা থেকে গলা—সবই। আপনাকে ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে, আমরা ক্ষুব্ধ।
হে মহাত্মন,
আপনাকে মন্ত্রী বানানোর জন্য বিদেশ-বিভুঁইয়ে একবার নাকি দৌড় প্রতিযোগিতা হয়েছিল, যে প্রতিযোগিতায় আপনিই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। আপনার মতো এমন দৌড়বিদ কি এই পৃথিবীতে আর পাওয়া যাবে? যাবে না। ওসাইন বোল্ট পৃথিবীর দ্রুততম মানব, কিন্তু সে তো মন্ত্রী হতে পারেনি। আপনি পেরেছেন, তাই আপনার প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।
হে চিরঞ্জীব,
আপনার বিদায়বেলায় কী ভাষায় লিখে আপনাকে সম্মানিত করা যায়, তা বুঝতে পারছি না, বোঝা সম্ভবও নয়। আপনার বিদায়ে আসলে সব ভাষা লুপ্ত-বিলুপ্ত হয়ে গেছে। নতুন করে ভাষা আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত আর আপনার জন্য বিশেষ কিছু লেখাও যাচ্ছে না, তাই এখানেই শেষ করছি। আপনার জীবন হোক পদ্মার পলিমাটির মতো উর্বর, আপনার হূদয়পদ্মায় সেতু দরকার নাই, সাঁকোই যথেষ্ট, সুখে থাকুন।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:২৯


এখন পর্যন্ত প্রকাশিত এক্সিট পোল অনুযায়ী, কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন ৬১টি নিশ্চিত করতে পারেনি।
নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট, প্রায় ৫১–৫২ আসন।
গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট: প্রায় ৪৯–৫১ আসন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এক সেকেন্ডের নেই ভরসা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩


সংসারের শত দায়িত্ব কাঁধে। ধাপে ধাপে সব পালন করতে হবে। মোটরসাইকেল নিয়ে ভালো মনে রাস্তায় নামলেন রাইড শেয়ার করবেন বলে। হঠাৎ একটা প্রাইভেট কারের সাথে ধাক্কা লাগল। আপনি রাস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসমাপ্ত নীহারিকা - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭



বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে দেখলে মানুষের প্রথম যে কথাটা মনে হতো, তা হলো—ছেলেটার নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে।
কালো জিনস। কালো টি-শার্ট। টি-শার্টে কখনো Behemoth, কখনো Slayer, কখনো Cannibal Corpse। কানে হেডফোন। চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×