somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হাজার হাজার লাশ নিজ চক্ষু দিয়া দেখছি: একজন প্রত্যক্ষদর্শী।

১৫ ই মে, ২০১৩ সকাল ৯:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যারা বলে সেদিন মতিঝিলে গণহত্যা হয় নাই। তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, আপনারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। আমি নিজে তার স্বাক্ষী। নোয়াখালীর এক মাদ্রাসা থেকে আমি এবং আর আমার জমজ ভাইসহ আরো অনেকে ঢাকা অবরোধের উদ্দেশ্যে আসি। প্রথমে আমরা যাত্রাবাড়ীতে অবস্থান করলেও পরবর্তীতে আমরা মতিঝিলে অবস্থান করি। পরে শুনি কারা যেন বায়তুল মোকাররমে আগুন দিছে পবিত্র কোরআন শরীফ পোড়াইছে। ইচ্ছা থাকলেও সেদিকে যাইতে পারি নাই। কারণ আমাদের দুই ভাইয়ের লিডার সেদিকে আমাদের নিয়া যায় নাই। যাই হোক কথা ছিল সন্ধ্যায় চলে যাব। কিন্তু যাই নাই। শাহাদাতের তোকমা গায়ে লাগাইয়া একে বারে জান্নাতের বাসিন্দা হওয়ার আশায় আমরা বসে ছিলাম। আল্লামা শফি হুজুর না আসাতে আমরা সারা রাত থাকার প্লান করলাম। পরবর্তীতে শুনলাম আওয়ামীলীগের পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি আমাদের উৎখাত করার জন্য মতিঝিলে আসতেছে। আমাদের লিডারসহ অনেক লিডার সিদ্ধান্ত নিল তারা শহীদ হয়ে বাকীদের রক্ষা করবে তাই সামনের কাতারেই দাড়ালো। আমি ও আমার জমজ ভাই তার সাথেই ছিলাম। রাত তখন প্রায় তিনটা বাজে ঠিক এমন সময় পুলিশ বাহিনী হাজির প্রথমে বৃষ্টির মতো টিয়ার শেল আর সাউন্ড গ্রেনেড মারতে থাকল। আমাদের লিডারসহ সব লিডার আমাদের ফালাইয়া উসাইন বোল্টের মতো দৌড় দিয়া পলাইল। আরা আমরা দুই ভাই সহ লক্ষ লক্ষ মাটিতে পড়ে রইল। সেটা গুনে শেষ করা যাবে না। আমার খালি একটু জ্ঞান আছে। আমার ভাই আমার পাশেই পড়ে ছিল। কেউ বলে ১১ জন, কেউ বলে ২২ জন, আবার কেউ বলে ৫০ জন। কিন্তু আমি নিজ চোখে দেখেছি, সেদিন আমার মতো পড়ে থাকার সংখ্যা কম করে হলেও ১ লক্ষ হবে। কিছুক্ষণ পড়ে দেখি আসছে সিটি কর্পোরেশনের ময়লার গাড়ি। গণহারে সেই গাড়িতে আমার সহযাত্রীদের কেচে কেচে উঠানো হচ্ছে। এমন সময় এক টোকাই ছেলে আমাকে এবং আমার ভাইকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। সে তার বাসায় নিয়ে প্রথমে আমাদেরকে গোসল করায়। তারপর নিজেই আমাদের প্রাথমিক চিকিৎসা করল।

সবচাইতে দু:খের বিষয় কি জানেন? সেই বদ টোকাইটা আমাদের দুই ভাইকে ভাঙ্গারির দোকানে বেইচা দিল। কেন? আমরা জুতা বইলা আমাদের কোন পাদুকাধিকার নাই? সেদিন লক্ষ লক্ষ জুতা পায়ে দিয়া ওই হেফাজতের মুন্সীরা মতিঝিল আইছিল। আর শালারা টিয়ার শেলের শব্দ শুইনা আমাদের ফালাইয়া থুইয়া দৌড় দিয়া পলাইল। আমরা ওই সকল মুন্সীর ফাঁসি চাই। যারা জুতাদের জীবন লইয়া ছিনি মিনি খেলে। এই বাংলায় তাদের কোন স্থান নাই।

উপরেরটা হইল একটি জুতার শাপলা চত্ত্বরের কাহিনী।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাসূলের (সা.) অনুসারি হবেন শুধুমাত্র সাহাবা (রা.), অন্যরা এবং ওলামা ওলামার অনুসারি হবেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৪০




সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে (ওলামা) আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।

সূরা:... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×