জবাবদিহিতা মূলক গঠন প্রণালী দ্বারা চালিত সংসদে বাজেটের "করারোপ", রাজস্ব সংগ্রহের উৎস, প্রতিটি উৎস হতে নির্ধারিত টার্গেট কে চ্যালেঞ্জ করা হবে, সরকার এবং সরকার বিরোধী উভয় শিবির থেকেই যাতে করারোপ এর মাত্রা সাধারন নাগরিকের উপর জুলুম হয়ে না যায়। করারোপ এর উৎস অন্যায্য কিংবা অদূরদর্শী না হয়ে পড়ে। এই ধারা একদিকে নাগরিক কে আর্থিক সুরক্ষা দেয়, অন্যদিকে বিশেষ শিল্প বা উৎপাদন খাতের বিকাশ ত্বরান্বিত করে।
একটি সুশাসিত সমাজে নাগরিকের আর্থিক নিরাপত্তা কিংবা এতদসংক্রান্ত খাতের নিরাপত্তা আদালতের মাধ্যমেও নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকে। এর বাইরে রয়েছে সামাজিক এবং নাগরিক সংঘঠন এর পর্যবেক্ষণ। সর্বোপরি ব্যক্তি নাগরিকের (সাবজেক্ট ম্যাটার এক্সপার্ট, অর্থনীতিবিদ, সমাজ বিজ্ঞানী, নাগরিক আধিকার সচেতন বুদ্ধিজীবী এবং সাধারন নাগরিক) মত প্রকাশের ধারা।
সংসদ, আদালত, সামাজিক অর্থনৈতিক সংঘঠন এবং ব্যক্তি নাগরিক এই চার ধাপে বাজেট এবং বাজেটের করারোপ কে স্ক্রুটনাইজড করা হবার পরেই তা সংসদে গৃহীত হবে এটাই সংসদীয় রীতি হওয়া বাঞ্জনীয়। শুধুমাত্র তখনই করারোপ কে বৈধ বলা যাবে।
করারোপ নাগরিকের উপর আর্থিক পেনাল্টি যদি তাকে সংবিধান স্বীকৃত অধিকার দেয়া না হয়। সুতরাং যেভাবে খুশি সেভাবেই করারোপ আর রাজস্ব আয়ের উৎস নির্ধারণ করা যাবে না।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবং সাবেক অর্থ ও মন্ত্রিসভার সচিব ড. আকবর আলি খান ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলেছেন। "একথা সুপ্রতিষ্ঠিত যে, নো ট্যাক্সেশন উইদাউট রিপ্রেজেন্টেশন অর্থাৎ জনপ্রতিনিধিত্ব ছাড়া কোন করারোপ করা যায় না। এখন আমাদের যে সংসদ সেই সংসদের ৫০ শতাংশের বেশি সদস্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাবিহীনভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে সংসদে কোন বিরোধী দল নেই। যেখানে দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা হওয়ার কথা, সেখানে বাজেট নিয়ে কোন সুষ্ঠু বিতর্ক আমরা আশা করতে পারি না।"
এখন কথা হচ্ছে, সংসদে বিরোধী দল থাকলেই কি করারোপ কে চ্যালেঞ্জ করা হয় কিনা? আমাদের অভিজ্ঞতা বলছে অতি সীমিত আকারে হয় তাও বিরোধীদের ক্ষমতা প্রাপ্তির ভবিষ্যৎ সম্ভাভাবনাকে হিসেবে নিয়ে। কিন্তু আদতে সেই সব চ্যালেঞ্জ সরকারী দল কেয়ার করে না। দলীয় গণ্ডীর বাইরের নাগরিক আধিকার সংঘঠন এবং ব্যক্তি নাগরিক (সাবজেক্ট ম্যাটার এক্সপার্ট, অর্থনীতিবিদ, সমাজ বিজ্ঞানী, নাগরিক আধিকার সচেতন বুদ্ধিজীবী এবং সাধারন নাগরিক) বৃন্দের মতামতও দুর্বৃত্তায়িত সমাজে আমলে নেয়া হয় না। এক্ষেত্রে আদালতের আবিভাবকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবার কথা ছিল। আমাদের সেই সম্ভাবনাও নাই।
নাগরিক অধিকার আদায়ে সবাইকে সচেতন করতে হবে। হয়তবা একদিন সুদিন আস্তে পারে। আল্লাহ্ পাক আমাদের নৈতিকতা তাড়িত, কল্যাণমুখী সমাজ গঠনের ইচ্চা এবং শক্তি সামর্থ্য দিন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


