somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

এক নিরুদ্দেশ পথিক
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব,ইইই প্রকৌশলী। মতিঝিল আইডিয়াল, ঢাকা কলেজ, বুয়েট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র।টেলিকমিউনিকেশন এক্সপার্ট। Sustainable development activist, writer of technology and infrastructural aspects of socio economy.

লূটপাট, দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে জনপ্রশাসন থেকে রেজিস্টেন্স আসছে না কেন?

২০ শে জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৪:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

৪২ বছর বয়সী একটি দেশের আদালত তার এই দীর্ঘ লাইফ টাইমে "সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ" বিষয়ে মাত্র একটি রায় দিতে পরেছে!!!! (সম্ভভত দেশে গড়ে প্রতিদিন ১১ টির বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে)। তাও সেই রায়টি দিতে ২৪ বছর লাগিয়েছে!!! অব্যবস্থাপনা আর দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন দেশে ব্যাপারটি গভীর তাৎপর্য বাহী।

এই ধরনের নিদারুণ ভাবে অযোগ্য এবং অভ্যন্তরীণ দুর্নীতিতে সয়লাব হয়ে পড়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দিয়ে কিভাবে আমরা দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, ঘুষ, দুর্নীতিহীন রাষ্ট্রীয় সেবা প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক বান্ধব জনপ্রশাসন গড়ার চাপ তৈরি করতে পারি লূটেরা রাজনৈতিক নেতৃত্বের উপর?

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কে শক্তিশালী করার জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের উপর অব্যহত চাপ তৈরির দায় নাগরিকের।

কিন্তু শুধুই কি নাগরিকের? রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, তাদের সাংবিধানিক স্বায়ত্তশাসন , অভ্যন্তরীণ কাঠামো এবং ইন্টেলেকচুয়ালিটি ( মেধা বলে যদি কিছু থেকে থাকে!) কি কখনই রাজনৈতিক দুরবিত্তায়ন কে রুখে দাঁড়াবে না? হাঁ, এক্সেপশনাল কেইস কিংবা র‍্যান্ডোম সারপ্রাইজ হিসেবেও কিছু সততা ভিত্তিক রেজিস্ট্যান্স আসার কথা, কারন জন প্রশাসনের সবাই তো অসৎ নন। এখনও উল্লেখ যোগ্য সংখ্যক সৎ কর্মকর্তা কর্মচারী জনপ্রশাসনে রয়েছেন।

তাহলে দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, রাষ্ট্রীয় অর্থের অবাধ লুটপাট এবং ঘুশ-তদবির এর বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করছেন না কেন? নূন্যতম রেজিস্ট্যান্স আসছে না কেন?

কারন, একটি চরম দুর্নীতি গ্রস্ত আদালত, আইন মন্ত্রণালয় এবং এই দুয়ের অবৈধ আঁতাত। এখানে ব্যক্তি নাগরিকের স্বার্থ রক্ষায় আদালতের সময় ব্যবস্থাপনা নেই। দশকের পর দশক একটা সামান্য মামলার সুরাহা হচ্ছে না। কারণ, এখানে রাষ্ট্রীয় অধিকার নিয়ে গেলে অন্য আরেকটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সাংবিধানিক সুরক্ষা পাবার নিশ্চয়তা নাই। প্রজাতন্ত্রের ব্যক্তি কর্মচারি এবং কর্মকর্তা যারা সৎ তাদের নিয়মতান্ত্রিক কাজের বৈধতা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে কোন অবস্থানকে এই অযোগ্য আদালত সুরক্ষা দিতে পারছে না। পারছে না বলেই, প্রজাতন্ত্রের সৎ অংশের কাছ থেকে লুটপাট, দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে রেজিস্টেন্স আসছে না।

উদাহরন স্বরূপ বলি, এজন্যই স্বায়ত্তশাসিত একটি বিশ্ববিদ্যালয় নিজের উপাচার্য নিজে নিয়োগ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে, রাজনৈতিক সুবিধাবাদিতার (নিয়োগ, দলীয় করন,টেন্ডার, অর্থ ব্যয়) বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যে কোন সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারে না। একটি আদর্শ সিস্টেমে এটা এমন হবার কথা ছিল যে, স্বায়ত্তশাসিত একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান (যেমন পুলিশ বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি) তার যাবতীয় সিদ্ধান্ত নিজস্ব আইনগত কাঠামো এবং অরগানাইজেশনাল ফ্রেইম ওয়ার্ক এর মধ্যে থেকে করবে। সরকার কোন অন্যায় করতে বললে সেই প্রতিষ্ঠান তা তার নিজস্ব ক্ষমতা বলে ইগ্নর করবে, উল্টো সরকারকে অনধিকার চর্চার বিষয়ে সাবধান করবে। তারপরও যদি সরকার (মন্ত্রী পরিষদ) বাধা দেয় , বা অসহযোগিতা করে কিংবা দুরনিতি-লূটপাট করে তাহলে প্রতিষ্ঠানটি আদালতের শরণাপন্ন হয়ে তার রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা নিবে।

আমাদের দেশের এই ধারার প্রতিষ্ঠান এর আগমন, এক কল্পনা বিলাস, আদালত হচ্ছে এর অন্যতম প্রধান অন্তরায়। দুর্নীতি বাজ সরকার গুলো আদালতের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নিজেদের সকল অবৈধ অসৎ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এখানে নাগরিক স্বার্থ বলে কিছু প্রতিষ্ঠিত হয়নি এখনও।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট ১৮০ ডিগ্রী উল্টো, এখানে কোন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা দুর্নীতির বিরুদ্ধে আদালতে যাইতে চাইলে, তাকে পদচ্যুত কিংবা চাকরি চ্যুত করা হবে, তার উপর হামলা মামলা হবে, তার পরিবার এর সদস্য দের উপর অত্যাচার এর খড়গ নামবে, এমনকি উনাকে খুনও করে ফেলা হতে পারে। আমাদের আদালত চেয়ে চেয়ে দেখবে।
আমাদের রাষ্ট্রের নিয়ম তান্ত্রিকতার উপর দাড়াতে সবার আগে দরকার আদালতের নিয়ম তান্ত্রিকতার উপর দাঁড়ানো , আদালত যখন থেকে সততার পক্ষে দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, একজন সৎ কর্মচারী, একজন সৎ কর্ম কর্তা এবং একজন নাগরিক কে তাঁর প্রাপ্ত সুরক্ষা দিতে শুরু করবে, ঠিক তখন থেকেই বাংলাদেশ সুশাসনের দিকে ইউ টার্ন নিবে। তখন আমরা দেখবো তর তর করে জন প্রশাসনের বিভিন্ন অংশ দুর্নীতি অব্যবস্থাপনা আর লুটপাটের বিরুদ্ধে রেজিস্ট্যান্স হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে, শত শত ব্যক্তি কর্ম কর্তা তাঁর প্রতিষ্ঠানকে সততার পথে আনতে আদালতের শরণাপন্ন হচ্ছেন, নিজেই দুর্নীতি আর অনিয়মকে ব্যক্তির সকল শক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করছেন, প্রতিহত করছে।

একি অদ্ভুত কথা যে, আদালতের নিয়মতান্ত্রিকতা নিয়েই কথা বলতে হচ্ছে আমাদের, কি নৈরাজ্যে ভরা এক শাসন কাঠামো আমাদের! আদালতের নিয়মতান্ত্রিকতা না আসার মানে হচ্ছে সার্বিক বিপর্যয়, বিপ্লবই যখন শেষ কথা হয়ে যাবে। নাগরিক প্রতিরোধই চুড়ান্ত সমাধান হয়ে দাঁড়াবে। হতেও পারে আমরা সেই প্রান্তিক বিন্দুর খুব কাছাকাছি পৌছে গেছি!


বাংলাদেশের বিবেক হিসেবে আদালত জেগে উঠুক।
বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার শুভ সূচনা শুরু হোক।


৪২ টি বছর চলে গেসে, তারপরেও আশায় আছি আমরা।

আমরা হাল ছাড়বো "না",

যত দিন আছে প্রানে এই মাটির ঘ্রাণ।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৪:৪৩
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×