somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

এক নিরুদ্দেশ পথিক
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব,ইইই প্রকৌশলী। মতিঝিল আইডিয়াল, ঢাকা কলেজ, বুয়েট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র।টেলিকমিউনিকেশন এক্সপার্ট। Sustainable development activist, writer of technology and infrastructural aspects of socio economy.

লোক ছাটাইঃ বেসরকারি খাতে কর্মী ছাটাইয়ের ব্যপ্তি এবং মানবিকতা

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটি কোম্পানির গ্রোথ পিরিয়ডে সে ব্যাপক কর্মসংস্থান করবে, গ্রোথ না থাকলে সে তার হিউম্যান রিসোর্স সংকুচিত করবে এটা খুবই স্বাভাবিক একটা নিয়ম। সকল দেশি বিদেশী বেসরকারি কোম্পানির রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট ফরমূলা একই। কিন্তু ব্যাপার হোল এই কাজটা মানবিক ভাবে হচ্ছে কিনা সেটা একটা বড় বিষয়।বাংলাদেশ তার নাগরিকদের বেসরকারি খাতে কি কি জব প্রটেকশন দেয় তা আলোচনার দাবি রাখে। আমাদের সরকারি ব্যবস্থাপনা এবং আইনি কিছু ব্যাপার আছে যা কর্পোরেট কোম্পানির স্বেচ্ছাচারী এবং দায়িত্বহীন হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট এর জন্য দায়ী।

কন্ট্রাক্ট জবঃ
শর্ট টার্ম কিংবা লিমিটেড টার্ম জব নিয়ে আমাদের দেশে ব্যাপক ধারনা না থাকা। কন্ট্রাক্ট শেষে জব চলে যাওয়া খুব স্বাভাবিক, সাধারণত খুব ভালো পার্ফরম করলে কন্ট্রাক্ট স্থায়ী হয়। আমাদের কিছু মানুষ এটা মানতে পারে না, গ্রামীণ ফোনকে যে অভিযোগ দেয়া হয়েছে কিছু বছর আগে তার খুব শক্ত ভিত্তি ছিল না, অভিযোগ গুলো নিয়ে ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। নতুন চাকুরী না খুঁজে একদল লোক দীর্ঘ দিন অযৌক্তিক আন্দোলন করেছে। এতে একটা ব্যাপক নেগেটিভ প্রভাব পড়েছে, সেই ঘটনার পর থেকে টেলিকম সেকটরে সরাসরি জব না দিয়ে থার্ড পার্টি দিয়ে কন্ট্রাক্ট জব দেয়ার প্রবণতা প্রকট হয়েছে।

কন্ট্রাক্ট জবের নোটিশ পিরিয়ড এবং প্রণোদনাঃ
বাংলাদেশের শ্রম আইন এগুলা নিয়ে ভেবেছে কিনা জানা নেই, কোম্পানি কাউকে বিনা নোটিসে ছাটাই করতে পারে না, যা বাংলাদেশে অহরহ হচ্ছে। বাংলাদেশে চাকরির কোন আইনি প্রটেকশন নেই। সাধারণত একটি শর্ট কন্ট্রাক্ট যত ছোটই হোক না কেন, তাতে ১ মাস নোটিস টাইম থাকবে, অপারগে ১ মাসের বেতন পরশোধ করতে হবে। কন্ট্রাক্ট ডিউরেশন বাড়ার সাথে সাথে নোটিস পিরিওড বাড়তে পারে, তবে সাধারানত ৩ মাসের বেশি হয় না কন দেশেই।

পার্মানেন্ট জব অফারের পরিমানঃ
আমি নিশ্চিত এটা ফোলআপ করা হয় না, এটা একটা খুব গুরুত্ব পুর্ন ইস্যু। একটা কম্পানির মোট টার্ন ওভার এর বিপরিতে আনুমানিক কি পরিমান স্থায়ী ম্যানপাওয়ার বেইজ থাকা বাধ্যতামূলক সেটা ডিফাইন খুব জরুরি। এখানে মোট স্থায়ী এমপ্লয়ীর বিপরিতে কি পরিমান কন্ট্রাক্ট অফার করা যাবে তাও ডিফাইন করা হয়। বাংলাদেশ এগুলা কেউ ভাবে না।
বাংলাদেশে কিছু দেশি বিদেশি কোম্পানি খুব সামান্য লোক দিয়ে খুব বড় কোম্পানি চালায়। রবি, বাংলালিংক টেলিকম খাতের উদাহরণ, ব্যাংককিং সেক্টরে এটা ভয়াবহ। দেশি কোম্পানি গুলোর মধ্যে প্রাণ এই কাজে পারদর্শী, প্রাণে চাকরি করা ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ার গন পশুর মত খাটেন।

অর্থাৎ আমাদের বিস্তৃত একটা জনসম্পদ এর জন্য ওয়ার্ক এন্ড লাইফ ব্যালান্স নেই, ওভার টাইম নেই, থাকলে সীমিত, মূল কোম্পানির প্রদত্ত ওভারটাইম এবং এজেন্ট এর প্রদত্ত অভারটাইমের গরমিল (নাইট গার্ড, ক্লিনিং এর রিসোর্স গুল কে ঠকানো হয় এভাবে।)। এতে করে এইসব কোম্পানিতে কাজ করে মানুষ দীর্ঘ মেয়াদে অসুস্থ হচ্ছেন, ফিজিক্যাল ডিজেবেলিটি আসছে ধীরে ধীরে, কিন্তু কোম্পানি হেলথ ফুয়াসিলিটি দেয় না একেবারেই।

পার্মানেন্ট জব এর ট্রার্মিনেশনঃ
বাংলাদেশের আইনে এই সুরক্ষাটা একেবারেই নেই। বেসরকারিতে স্থায়ী জব অফার করা লোক পেনশন পান না, প্রভিডেন্ট ফান্ডও সরকার কর্তিক বাধ্যতামূলক নয়। সরকার শুধু আয়কর নিয়ে মাথা ঘামায়।
উপরন্তু সুনির্দিষ্ট কারন ছাড়া কিংবা কি কি কারনে স্থায়ী জব টার্মিনেট করা যাবে এগুলা ডিফাইন্ড নেই, প্র্যোয়োগ নেই। থাকলে মানুষ আদালতে যেত, যা বাইরের দেশে সাধারন ঘটনা। কারন অনেক সময় অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারনে, শত্রুতার কারনে লোকে জব হারায়, এদের কোন প্রটেকশন নেই।

পার্মানেন্ট জব এর ট্রার্মিনেশনঃ
পার্মানেন্ট জবের টার্মিনেশন প্রোনদনা কি হবে সেটাও ডিফাইন থাকা চাই। কত মাস আগে নোটিস দেয়া হবে, হ্যান্ডশেক প্যাকেজে কি কি থাকবে, কত সময় সমপরিমান বেতন, কত সময় অর্ধ বেতন এগুলো কোয়ান্টিফাইড থাকতে হবে।

একটি কোম্পানি যদি ফেয়ার টার্মিনেশন করে, অর্থাৎ চাকরিজীবীকে আইনানুগ বর্ধিত বেতন, ভাতা অগ্রিম দিয়ে স্থায়ী কন্ট্রাক্ট টার্মিনেট করে তাইলে সমস্যা নেই। কিন্তু যেহেতু এসব ফলোয়াপের কেউ নেই, তাই সবাই আমাদেরকে ঠকায়।

আউটসোর্স এর আকার কত বড় হতে পারবে?
বর্তমানে বাংলালিংক ভিম্পেল্কম গ্লোবালি আউটসোর্সে যাচ্ছে, তাই ছাটাই বাড়ছে। এই কাজ এরিকসন বাংলাদেশে সহ গ্লোবালি করেছে।এয়ারটেল বাংলাদেশ কখনই স্থানীয় টেকনিক্যাল ম্যানেজমেন্টে অপারেটে্ড হয়নি, এয়ারটেল ইন্ডিয়া এবং এরিকসন ইন্ডিয়ার যৌথ আউটসোর্সে কোম্পানিটি দীর্ঘ দিন চলেছে, বাংলাদেশে তাদের অতি সামান্য কিছু টেকনিক্যাল ম্যানেজার ছিল। এভাবে প্রায়ই কর্পোরেট কোম্পানি ফরেন ল্যান্ডে বসে অপারেশন করছে বাংলাদেশে।

সাধারণত আউটসোর্স অপারেশন ইন্ডীয়াতে যায়।

এখানে ২ টা বিষয়ঃ
১। দেশের আইনে এটা থাকা চাই, মোট টার্ন ওভারের বিপরীতে কি পরিমান লোকের স্থানীয় নিয়োগ বাধ্যতামূলক, তাইলে কোম্পানি আউটসোর্স কি পরিমান করবে এগুলা তার ম্যানেজমেন্ট ডিসিসানে বিবেচনায় আনবে। এতে করে এয়ারটেলের মত পুরো অপারেশন বিদেশ থেকে করানোর মত ব্যাপার গুলো প্রতিরোধ করা যাবে এবং স্থানীয় কর্মসংস্থান বাড়ানোর বাধ্যবাধকতা আসবে।
২। আইনের মধ্যে ডিফাইন্ড প্রণোদনা দিচ্ছে কিনা টার্মিনেশন কালে


বর্তমানের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার ধারা গুলো নিয়মিত অব্জার্ভেশনে রেখেই, নাগরিক সুরক্ষায় কাজ করতে হবে সরকারকে।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১২:৩৪
৫টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে ট্রাম্প চাচা ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫


সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ভোট দিয়ে এসে অনেকক্ষণ ধরেই অপক্ষো করছিলাম কখন সন্ধ্যা হবে সে প্রত্যাশায়। সন্ধ্যার পর মোটামুটি বসে গিয়েছিলাম ফলাফলের উপর টেলিভিশনে বিশেষ আলোচনা দেখার জন্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বন্ধ দুয়ার"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৪


"বন্ধ দুয়ার"

ক্লান্ত এ সপ্তাহে শুনি, আজ কারো কাজ নাই,
বন্ধ কারখানায় তালা, কোথা যাব তবে ভাই?
ছুটা বুয়া হয়ে খাটা, সে সুযোগও মেলা ভার,
তরুণী দেখিয়া মোরে, কেহ খোলে না যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

"আমেরিকাকে আবার মহান করব" বলে এসে যিনি দুনিয়ার সবাইকে বিরক্ত করলেন, ভোটাররা তাঁকে জানিয়ে দিলেন: হুমকি ধমকি আর উম্মাতাল আঁতলামির... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×