বিস্তৃত উপকূলে ভারতীয় ও চায়নিজ নিন্ম মানের কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মহড়া বসছে যেন!
বাংলাদেশের কয়লার মান খুব উঁচু, কিন্তু অত্যন্ত ঘনবসতি পুর্ন বলে ফসলি জমি নষ্ট করে এবং প্রান্তিক অর্থনিতির গরীব মানুষকে ডিস্প্লেইস করে কয়লা উৎপাদন অদুরদৃষ্টি সম্পন্ন। বিপরীতে আমরা ভালো গ্যাসিফিক্যাশন বা অন্য টেকনোলোজির সহজ লভ্যতার জন্য অপেক্ষা করে আমাদের কয়লা সম্পদ ভবিষ্যতের জন্য রিজার্ভ করতে পারি।
কিন্তু তাতে!
ভারত তার অতি নিন্ম মানের কয়লা কি করবে? তার উপর ভারতের উপর ডার্টি এনার্জি ব্যবহার এবং কার্বন এমিশন রোধের চাপ আছে। চায়নারও একই সমস্যা! ভারতের উচ্চ মান কয়লাতেই ১-৪% সালফার যেখানে বাংলাদেশের বড় পুকুরিয়ায় মাত্র ০.৬%। ভারতের পরিবেশ বিভাগ কোথাও নিন্ম মানের কয়লায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিবেশ গত ছাড়পত্র দিচ্ছে না।ফলে চুক্তি হচ্ছে সব ০.৬% সালফারের কথা বলে। কিন্তু চুক্তির পরে আসবে সব ভারতীয় কয়লা। এরকম চূক্তি গঙ্গায় হয়েছে, চুক্তি মত পানি শুধু বর্ষায় আসে! দায়িত্ব হীন দেশের সাথে মাসম্পন্ন চূক্তি!!!
কয়লা অতি নিন্ম দামের,এখানে কয়লার দামের চেয়ে ট্রান্সপোর্টেশন বেশি। অনেকটা বালুর মত। তাই এতে দরকার শর্টেস্ট এবং চিপেস্ট ট্রান্সপোর্টেশন পাথ, আর তাই ইন ল্যান্ড ট্রান্সপোর্টেশনে ইনভেস্টরদের অনীহা। এতেই বাংলাদেশের উপকূল হয়ে উঠেছে বিপদ সংকূল!
ফলে বাংলাদেশের উপকূল হয়েছে গরিবের সুন্দরী বউ।
পরাশক্তিদের গায়ের জোরে বসানো অবৈধ ক্ষমতা বলয় দেশের ভবিষ্যৎ উদোম করে ইতিমধ্যেই ৯.৮+২+২+১+১ ~ ১৫.৮ বিলিয়ন ডলার এর মত বা তারো বেশি বৈদেশিক ঋণ নিয়েছে বা এম ও ইউ সাইন করেছে। এতে গত ৫ বছরে আমাদের বৈদেশিক ঋন দ্বিগুন হতে চলেছে। তাতেও খান্তি নেই, এই ঋণের ডলার আবার নিন্ম মানের কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে খরচ হবে, হবে ভারতীয় রেল ক্রয়ে, চাইনিজ ডেমু ক্রয়ে, ইস্পাত ক্রয়ে! ৭৫% এর বেশি ম্যান পাওয়ার, ডিজাইন, প্রডাক্ট এবং সার্ভিস সোর্স দেশ থেকে আসবে! উদোম আর কাকে বলে! রামপাল-মহেশখালী-মাতারবাড়ি-পায়রা- বাঁশখালী থেকে সাঙ্গু কিছুই বাদ যাবে না।
মহেশখালীতে তিন তিটে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র করার পরিকল্পনা। অথচ একই স্থানে মিয়ান্মারের গ্যাস ভিত্তিক প্ল্যান্টকে অতিতে না করে দেয়া হয়েছে, সে সুযোগ এখন অন্যদেশ লুফে নিয়েছে! আমাদের উপকূল, তার পানি বিন্যাস আর তার জনসাধারণ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বৈদেশিক বলি! অবৈধ ক্ষমতার সমর্থন আনতে যে যা চাচ্ছে সব বায়না মানতে রাস্ট্র উদোম!
সরকারের পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে বেসরকারি মাফিয়ারা, এ এক ভাগাড় যেখানে পরিবেশ এবং কৃষি ভূমি রক্ষার দায় নেই।যে বাংলাদেশ জলবায়ু রক্ষার তহবিল পেতে হাত পাতে দেশে দেশে সেই বাংলাদেশ ডার্টিয়েস্ট জ্বালানির কার্বন আর সালফার দিয়ে তার বিস্তীর্ন উপকূল আর তার জলরাশি বিষিয়ে তোলার পরিকল্পনায় নির্ঘুম! সত্যি সেলুকাস!
আরো প্যাকেজ আছে!
ইনভায়রনমেন্ট সার্ভে,
ইকোনোমিক সার্ভে,
এগরিকালচারাল সার্ভের মায়েরে বাপ!
দিস ইজ বাংলাদেশ! কান্ট্রি অফ এবিউজড স্টেট পাওয়ার।
পুনশ্চ!
বাঁশখালীতে নিহতদের পরিজনদের স্বান্তনা দেবার কিছু নেই।
বসত বাড়ি এবং পেটের খাবার জোগানো জমির অধিকার রাখতে রাষ্ট্রের গুলি খেয়েছেন উনারা, একই রাষ্ট্রকে স্বাধীন করতে মাত্র চার দশক আগেও গুলি খেয়েছেন উনারা!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


