somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পরের রাজনীতি

২৯ শে জানুয়ারি, ২০২২ রাত ৯:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যখন বুঝবেন আপনার প্রতিপক্ষ আপনার চেয়েও সেয়ানা, তখন আপনি কি করবেন? আপানকে ফেয়ার খেলতে হবে। লাইন অফ ফায়ারে দাঁড়িয়ে আপনাকে রুল অফ দ্য ওয়্যার, রুল অফ দ্য গেইম, রুল অফ দ্য বিজনেস গুলা মানতে হবে, ওয়ারেন্ট অফ প্রসিডিউর ফলো করতে হবে যথাযথভাবে, আন্তর্জাতিক প্রসেস/রিতিনীতি মানতে হবে, ওভার দ্য টেবিল নেগোশিয়েট করার পেছনের ক্যাপাবিলিটি গুলা এভেইল করতে হবে অথবা স্রেফ আপনাকে যথাসময়ে আত্ম সমর্পন করতে হবে।

আওয়ামীলীগ ফাউল খেলতে খেলতে সে স্থানীয় রাজনীতিকেই শুধু দুর্বিত্তায়িত করেনি, দেশকে ক্রিমিনাল স্টেইট বানায়নি বরং সে ডিপ্লোম্যাটিক এবং হিউম্যান রাইটস এফেয়ার্সকেও সেই একই ফাউল খেলার অংশ মনে করে।ফলে, ডেমোক্রেসি সম্মেলনে ইনভাইটেশন না পেয়েও, মার্কিন স্টেইট ডিপার্ট্মেন্ট এবং ট্রেজারির ২ স্তরের নিষেধাজ্ঞা খেয়েও সে কি করেছে দেখেন-

১। পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী, র‍্যাব, মন্ত্রী কাদের সাহেব, হানিফ সাহেব সবাই মিলে একযোগে আম্রিকার বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দিতে শুরু করলো। দেশের মুখে চুনকালি পড়ার পর নিরবে স্বীকার করে, ভেতর থেকে কিছু কাজ করে, কিছু গ্রহণযোগ্য/বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের ব্যবস্থা না করে খিস্তি খেওউড় শরু করল। তথ্য বাবা জয় নিয়ে আসলেন মার্কিন পুলিশের শত শত বিচার বহির্ভুত হত্যার একটা বানোয়াট তালিকা। নিষেধাজ্ঞার পরেও বাংলাদেশ সরকারের মানবাধিকার পরিস্থিতি ভাল করার কোন প্রতিজ্ঞা কিংবা কোন বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ আমরা আওয়ামীলীগের কাছে থেকে পাইনি। যদিও সংবাদ ভাষ্যে দেখা গেছে ক্রসফায়ার আপাতত বন্ধ হয়েছে। যেহেতু সরকার ক্রসফায়ারই অস্বীকার করে, তাই এটা নিয়ে কিছু বলার উপায় তাঁর নেই।
মূল বিষয়টা হচ্ছে, মানবাধিকার হরণের দৃশ্যমান ও অকাট্য সব প্রমাণের পরেও গুম খুন নির্যাতনের বিষয় অস্বীকার। বিচার তদন্ত ক্ষতিপূরণের বোধগম্য কোন ব্যবস্থা নিতে অপরাগতা এবং ভাবিষতে অপরাধ না করার বিশ্বাসযোগ্য প্রতিশ্রুতি না থাকা।
২। এদিকে নিষেধাজ্ঞার পরেও ধস্তা ধস্তির নামে তারা বিএনপি কর্মী মেরেছে।
৩। হবিগঞ্জে সহ আরো কিছু জেলায় বিরোধী দলের সভায় হামলা ও গণ মমলা করেছে।
৪। নারায়নগঞ্জের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী গ্রেফতার করেছে, তার পক্ষে দাঁড়ানো সঙ্গীত শিল্পীর বহু বছরের পুরানো মামলা একটিভ করেছে।
৫। ন্যাক্কার জনকভাবে গুমের শিকার হওয়া ভুক্তভূগী পরিবারের কাছে মিথ্যা হলফনামায় সাইন করিয়েছে, যা ডেইলি স্টার সহ কিছু পত্রিকার এবং মানবাধিকার সংস্থার তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।
অর্থাৎ সে প্রথমে গুমের শিকার হওয়া পরিবারকে মামলা করতে দেয়নি, তারপর তাদের জিডি নিয়ে দীর্ঘ্য টালবাহানা করেছে, এরপর গুমের বদলে জাস্ট নিজে নিজেই নিখোঁজ হবার মত মিথ্যা জিডিতে বাধ্য করেছে। এখন ২,৪,৬,৮ বা ১০ বছর পরে এসে সে ভুক্তভোগীদের সাদা কাগজে স্বীকারোক্তি লেখিয়ে আনছে যে, পরিবার গুলো আগেও নাকি পুলিশকে ভুল তথ্য দিয়েছে।
৬। আওয়ামীলীগের সবচেয়ে বড় ধৃষ্টতা হচ্ছে, জাতিসংঘের গুম বিষয়ক টিমকে বাংলাদেশের আসার অনুমতি না দেয়া। এবং নিষেধাজ্ঞার পরেও তারা কাজটি করছে না।

এনফোর্সড ডিজেপিয়ারেন্স বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের স্পেশাল রিপোর্টায়ার বাংলাদেশে আসার জন্য বহুবার আবেদন করেছে। সরকার তাঁদের বাঁধা দিয়ে গেছে। গুম-খুনের শিকার পরিবারগুলর সংঘঠন 'মায়ের ডাক'এর প্রধানতম একটা দাবী হচ্ছে জাতিসংঘের টিমকে স্বাধীন ভাবে কাজ করতে দেয়া।

আওয়ামীলীগ এসব কিছু করবে না, সে সবকিছুকে ৩০ তারিখের ভোট ২৯ তারিখ রাতে করে ফেলার মত মনে করে। মার্কিন বিচার দপ্তরের ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞার আগে থেকেই সরকারের পক্ষে একাধিক লবিস্ট প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। তাও নিষেধাজ্ঞার ঠেকানো যায়নি। নিষেধাজ্ঞার পরেও মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নের টাস্কফোরর্স ডিক্লেয়ারেশন, ওপেন এন্ড ভিজিবল একশনে না গিয়ে প্রথমে বল্ল আবারও লবিস্ট নিয়োগ দিবে। এখন বলছে আলোচনা করবে।

তার পরেও সে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা গুলো স্বীকার করে ভিজিবল একশন নিবে না, কারণ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসের অসীম ক্ষমতা দিয়ে পিটিয়ে, গুম করে, খুন করে যে ভয়ের রাজ্য কায়েম করেছে, সেই রাজ্য হাতছাড়া হয়ে যায় পাছে! তাই সে রাষ্ট্রীয় বাহিনী দিয়ে নিয়মিত নির্যাতন ও ভয়ের সংস্কৃতি জারি রাখতে মরিয়া। ভয় ভেঙে গেলে ক্ষমতা যাবে নিশ্চিত!


আপনি যদি মার্কিন স্টেইট ডিপার্ট্মেন্টের সাইটে গিয়ে ২০১৭ থেকে ২০২০ সালের 'কান্ট্রি রিপোর্টস অন হিউম্যান রাইটস প্র্যাক্টিসেসঃ বাংলাদেশ' নামক রিপোর্ট গুলো দেখেন তাইলে তাজ্জব বলে যাবেন। সম্ভবত যুদ্ধাপরাধ ছাড়া এমন কোন অপরাধের নাম নেই যা এসব রিপর্টে নেই। আর এম্নেস্টি ইন্টারন্যাশনাল কিংবা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কান্ট্রি রিপোর্ট তো আছেই।

বিষয় হচ্ছে, আওয়ামীলীগ মনে করে তারা গুম করে কিন্তু তা কেউ জানে না। তারা রাতের ভোট করে তা কেউ দেখে না। গনহারে হামলা মামলা নির্যাতন, গুম খুন, মানবাধিকার হরণ করে তা কেউ রিপোর্ট করে না, মানুষের কান্নার শব্দ করো কানে যায় না। গণতন্ত্রের নামে গুন্ডাতন্ত্রের মাধ্যমে ভয়ের মহাবিস্তার, লাগাতার ভোট বিহী নির্বাচন এগুলার ব্যাপকতা কেউ বুঝে না। তারা দেশের মানুষকে আন্ধা বোবা লুলা বধির ভাবে, একই ভাবনা তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নিয়েও করে!

আওয়ামীলীগ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অকাট্য ঘটনা গুলোকে স্বীকার করবে না, মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নে টাস্কফোর্স ঘোষণা করবে না, সুশাসন ফিরাতে গণতন্ত্র, বিচার ও জবাহিদিতাকে উন্মুক্ত করবে না।


বরং দেশের প্রতিষ্ঠান গুলোর উপর চুনকালি টানবে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আনবে একের পর এক। প্রয়োজনে দেশের 'ভাবমূর্তির' বারোটা বাজেবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে, দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি করেও আওয়ামীলীগ নিজের অপরাধ লুকাবে।
গুম খুন অপরহণ নির্যাতনের প্রমাণিত অভিযোগ আমলে নিয়ে সে ভিজিবল একশন সে নিবে না, বরং বিদ্যমান অভিযোগ ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করবে। কারণ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসের অসীম ক্ষমতা দিয়ে পিটিয়ে, গুম করে, খুন করে এমন এক গুন্ডাতন্ত্র এবং ভয়ের রাজ্য কায়েম করেছে, যা তার অবৈধ ক্ষমতাকেই সুরক্ষা দিচ্ছে। সেই রাজ্য হাতছাড়া হয়ে যায় পাছে! তাই সে রাষ্ট্রীয় বাহিনী দিয়ে নিয়মিত নির্যাতন ও ভয়ের সংস্কৃতি জারি রাখতে মরিয়া। ভয় ভেঙে গেলেই ক্ষমতা যাবে নিশ্চিত!

৩০ মে ২০১৮ সালে প্রথম আলোতে ''ইয়াবা-সুন্দরী'র সাম্রাজ্য বনাম বন্দুকযুদ্ধের ছলনা' কলামে আমি লিখেছিলাম-
''‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হচ্ছে রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারহীন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা। ক্রসফায়ারে বাংলাদেশের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কিংবা দমন—কোনোটিই হয়নি। বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর হাতে একচেটিয়া ক্ষমতা দিয়ে তাদের জবাবদিহির বাইরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাদের হাতে জমা হয়েছে একচেটিয়া ‘সন্ত্রাসের’ ক্ষমতা। ক্রমাগত ক্রসফায়ার জানান দিচ্ছে যে বাংলাদেশে বিচারব্যবস্থা সমাজের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এবং দমনে কোনোই প্রভাব রাখে না।''

আমরা স্পষ্টই বলতে চাই, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গুলো, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী গুলো মানবাধিকার হরণ কারী হিসেবে পরিচিত কিংবা প্রতিষ্ঠিত কোনটাই ছিল না। হ্যাঁ তাঁদের বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নভাবে মানবাধিকার হরণ ও ঘুষের কিছু অভিযোগ ছিল। এটা আওয়ামী লীগ, যারা নিজেদের ভোট বিহীন অবৈধ ক্ষমতা চালিয়ে যেতে, রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিরোধীদের দমন করে মাফিয়াতন্ত্র কায়েম করতে, রাতের ভোট করে একদলীয় ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম করতেই রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে খুনী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলেছে, এবং আন্তর্জাতিক কলঙ্ক বয়ে এনেছে।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ বর্তমানে সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ। যে বাহিনী (কিংবা সদস্যরা) শন্তিরক্ষা মিশনে গিয়ে পৃথিবীর দেশে দেশে শান্তি কায়েমের বহু অনন্য নজির স্থাপন করেছে, তাঁদেরকে নির্যাতক, মানবাধিকার হরণকারী, নির্মম খুনি, গুম ও অপহরণকারী বানানোর এই দায় শেখ হাসিনার এবং উনার দলের একক। এই অপমানের দায় বাংলাদেশের জনগণ নিবে না, এই দায় একক ভাবে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকেই নিতে হবে।

সংসদে দেয়া নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে জাপা এমপির সংসদ বক্তব্য আলোচিত হচ্ছে। গাইবান্ধা-১ আসনের এমপি শামীম হায়দার পাটোয়ারী ঢাবি'র আইন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড মফিজুল ইসলাম পাটোয়ারীর ছেলে। উনি বেশ পড়ালেখা করে, প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলেছেন এটা আমার খুব ভাল লেগেছে। ভদ্রলোক শুধু শিক্ষিতই নয়, বরং মার্জিতও। উনি জ্ঞানী বাবার জ্ঞানী ছেলে। উনার বক্তব্য সত্যি আমার খুব ভালো লেগেছে, একটি ছাড়া প্রস্তাব গুলো খুব ভাল। কিন্তু উনি রাতের ভোট নিয়ে বলেননি, গুম ও খুন নিয়ে এক লাইন মাত্র বলেছেন, গুম খুনের সাথে অবৈধ ক্ষমতা এবং নিষেধাজ্ঞার সম্পর্ক না টেনেই জাতীয় ঐক্যের কথা বলেছেন।

বিরোধী পিটানো, জেল জুলুম মামলা মিছিল সমাবেশে বেদম পিটানি, রাস্তায় বিক্ষোভ করলেই গণ মামলা, প্রতিবাদ বিক্ষভ-মামলা-সরকারি চাপের সাথে জামিনের জড়াজড়ি সম্পর্ক, ভোটহীন নির্বাচন, রাতের ভোট, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এম্পি-মেয়র-চেয়ারম্যান এসবের সুরাহা না করে জাতীয় ঐক্য কিভাবে আসবে? উনি বলেননি। তবে উনি জোর দিয়ে বলেছেন, লবিং এবং পিআর নিয়ে ফালতু একটা বিতর্ক সৃষ্টিকারীরা নিষধাজ্ঞার গভীরতাই তারা বুঝেনি।


শিক্ষিত ও বিজ্ঞ সংসদরা ডেমোক্রেটিক প্রসেস রি-ওপেনের কথা না বললে পরিস্থিতি ইম্প্রুভ করতে পারবেন কিভাবে? উনাকে আরো সুস্পষ্ট ভাবে বলতে হবে, ''বেশি উন্নয়ন ও কম গণতন্ত্র'', এসব ভন্ডামি থেকে সরে এসে সংসদ ভেঙে স্বচ্চ ভোটের সংসদ লাগবে, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমাতে হবে। এমন ঐক্যমতে আসতে হবে যেখানে, ''গণতন্ত্র ও জবাব্দিহিতা ফার্স্ট'' এইটা স্বীকৃত হবে স্থায়ীভাবে। গণতন্ত্র না থাকলে বিশ্বের কোন দেশের অতি উন্নয়ন টেকসই হয়নি, উনি ভেনিজুয়েলার উদাহরণ দিয়েছেন।

আজকে আমাদেরকে স্বীকার করতে হবে, যেন তেন ভাবে আওয়ামীলিগকে বিনা নির্বাচনে ক্ষমতায় রাখার এলিট সমর্থন সরকারকে স্বৈরাচারী বানিয়েছে। আর জবাবদিহি হীন সরকার তার অবৈধ কাজ করাতে গিয়ে আমাদের বাহিনীকে খুনী বানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার চুনকালি মেখেছে। তাই দেশের বাহিনী গুলোকে খুনী ও মানবাধিকার হরণকারী বানানোর পিছনে এসব এলিট সেটেলমেন্টেরও দায় আছে। এটা সবার আগে নাকে ক্ষত ও নুক্তা দিয়ে এসে স্বীকার না করলে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কথা বলে কোন ফায়দা নাই, ভাইসব!

সুশীল বুদ্ধিজীবী সবাই ঐক্যমত্ত করলো, বিএনপি-জামায়াতের বাইরে গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক বিকল্প তৈরি না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান সরকারের কোনো বিকল্প নেই। আপনি সংসদের সেই সরকারি কোরামে দাঁড়িয়ে ঐক্যমত্তের কথা বলছেন! ওয়াও! এসব বয়ানের সাক্ষাৎ ফল হচ্ছে, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর খুনী ও নির্যাতক হয়ে উঠা। কারণ আপনি দেশ থেকে বিচার ও জবাদিহিতা উঠিয়ে দেয়ায় সায় দিয়েছেন, গণতন্ত্র বন্ধের পক্ষে উকালতি করেছেন। সবার আগে এই ফয়সালা দরকার, নাইলে নিষেধাজ্ঞা আসতেই থাকবে। উনার প্রস্তাব গুলো খুব ভাল তবে শেষটি ছাড়া, সেখানে তিনি হাসিনাকে ভোট ওপেন করতে না বলে বলেছেন ঘরের বাইরে গিয়ে মানুষের সাথে সংযোগ করতে, এটা হাস্যকর। ভোট চুরি করেছে বলেই হাসিনা প্রসাদে ঢুকেছে। অবৈধ ক্ষমতার আঁধার যিনি, সমস্যার কেন্দ্রে যিনি, তিনাকে বিকল্পহীন ধরে, তার কাছে সমস্যা সমাধানের আলাপ কতটা ফল দিবে!

এমপি শামীম বিচার বিভাগের কথা নিয়ে এক বাক্য বলেছেন। বিচার ও নির্বাহী বিভাগের সেপারেশন নিয়ে আশাকরি উনি ভবিষ্যতে বলবেন। উনি উপজেলা শক্তিশালী করনের কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা না কমালে, প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রীর -সংসদ-মন্ত্রী পরিষদের মধ্যে ক্ষমতার ভাগাভাগি না হলে, ভারসাম্য না আনলে, উনি ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করে উপজেলায় নিবেন কিভাবে?

এরশাদ উপজেলা করেছেন এটা ভাল, কিন্তু গোড়া কেটে আগায় পানি দিলে গাছ বাঁচে না, এরশাদ নিজের ক্ষমতা কমাননি। বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থা তাই মরে গেছে, কারণ এক ব্যক্তিকে সব ক্ষমতা দিয়ে আপনি এখানে সাংবিধানিক স্বৈরাচারী ব্যবস্থা কায়েম করেছেন ৭২ থেকেই। সাংবিধানিক স্বৈরাচারী ব্যবস্থাকে ভেঙে খান খান করার ঐক্যমত্তই মূল ঐক্যমত্ত। এটা ছাড়া সুশাসন অসম্ভব। আপনি বেশ্যার দরবারে গিয়ে সতীত্ব চাইলে পাবেন?

জ্ঞানী এবং বিজ্ঞ লোক রাতের ভোটের সংসদে থেকে আদতে জবাবদিহি ফিরবে না, মানবাধিকারও এতটুকু উন্নত হবে না। আমাদের জ্ঞানী দরকার, সাথে দরকার স্বচ্চ গণতন্ত্র ও জবাবদিহির সংস্কৃতিকে দাবী করার মত সৎ লোক। এই যায়গায় কবি নিরব।

ইউনিটি খুব দরকার, কিন্তু ইউনিটির জন্য ফান্ডামেন্টাল ব্যারিয়ার গুলো নিয়ে কথা বলা আগে দরকার। আপনি বিপদে পড়ে ইউনিটি চাইবেন আর সুসময় থাকলে পাকিস্তান পাঠাবেন, পিটিয়ে জেলে ভরবেন, গুম করবেন, খুন করবেন এ কেমন পলিসি!


সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২২ রাত ১০:০৭
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Mama’s baby papa’s may be

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০২২ দুপুর ১২:০৯


বাচ্চার মাকে সনাক্ত করার প্রয়োজন পড়ে না কিন্তু বাচ্চার বাবাকে অনেক সময় সনাক্ত করার প্রয়োজন পড়ে। কারণ বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বিয়ে ছাড়াই সন্তানের পিতা মাতা হওয়ার পরিমান অনেক বেড়ে গেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাদা মনের মানুষ

লিখেছেন নীলসাধু, ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০২২ বিকাল ৩:৪২



আমাকে প্রায়ই নীলক্ষেত যেতে হয়! কাগজ কলম খাম সহ যাবতীয় স্টেশনারী, কম্পোজ ফটোকপি সাংগঠনিক নানা কাজের ব্যানার স্টিকার সহ রাজ্যের হাবিজাবি কাজ সেখান থেকেই করি আমরা। একদিন এমনই কিছু কেনাকাটার... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইনে ১০০কে হিট সেলিব্রেশন উইথ ব্লগার আহিমেদ জী এস এন্ড মিরোরডডল।

লিখেছেন মোহাম্মদ গোফরান, ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০২২ বিকাল ৪:৪৩


ডিসেম্বর ২০২২। আমার কাছে ডিসেম্বর, ফেব্রুয়ারি, মার্চ, খুবই স্পেশাল। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনীকে দেশ থেকে বের করে দিয়েছিল বীর বাংলাদেশী মুক্তিযুদ্ধারা। জয় বাংলা বলে ২৬... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকে ব্রাজিলের খেলার পরপরই দেশ চলবে বেগম জিয়ার হুকুমে!

লিখেছেন সোনাগাজী, ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০২২ সন্ধ্যা ৭:০৬



আজকে ব্রাজিলের খেলার পর, টেলিভিশনের সংবাদের প্রতি খেয়াল রাখবেন, ১০ তারিখ থেকে দেশ বেগম জিয়ার হুকুমে চলার কথা আছে।

বেগম জিয়া বিএনপি'র সেক্রেটারীর পদটা তারেক জিয়াকে দিতে চেয়েছিলেন, সেজন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

খালেদা জিয়া দেশ চালালে প্রধানমন্ত্রী ঘুমাবেন কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ১১:৩২



বিএনপি যে দোষ করেছে সে একই দোষ আওয়ামী লীগ করলে বিএনপির দায়ের করা মামলায় জনগণ আওয়ামী লীগের বিচার কেন করবে? আওয়ামী লীগ দেশ ভালো না চালালে বিএনপি এর চেয়ে দেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×