somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লেখক হওয়া

১৪ ই মে, ২০০৭ দুপুর ২:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শৈশবে একবার এক জ্যোতিষী আমার হাত দেখে বলেছিলো যে আমার নাকি কবি হওযা়র সম্ভাবনা আছে। জ্যোতিষীরা কি সূত্রে সিদ্ধান্তে পৌঁছে - সেটা এখনো জানিনা। তবে তখন ওসব ভাবার স্পৃহা কই - কবিত্বের সম্ভাবনায় আমার চালচলনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসে গিয়েছিল এবং তার রেশ ধরে অনেকদিন কবি কবি ভাব বিদ্যমান ছিল। কিন্তু ঐ ভাব নেয়া পর্যন্তই। সময়ের স্রোতে সে ভাবগুলো কর্পূরের মত উবে গেলেও লেখক হওয়ার স্বপ্নটা সম্ভবত মনের কোনে খড়কুটোর মত পড়ে ছিলো আরও অনেক সাধারন স্বপ্নের মতোই। এই সেদিন সামহোয়্যার ব্লগে এসে নানান বিষয়ে বিভিন্ন জনের লেখা পড়ে পুরানো ভাবটা বেশ জায়গা করে নিতে চাইছিল। কিন্তু হায়!!! বিধি বাম!!! মগজে কারফিউ!!!

মাথাটা একেবারে ফাঁকা। কিচ্ছুই মাথায় আসছেনা কি লিখবো, বা শিরোনামটাই বা কি হবে? মাঝে মাঝে এমনও হয় মূল বিষয় ভাবতে গিযে় শিরোনাম নিযে় তড়পাতে থাকি। আবার কখনো শিরোনাম ঠিক করার পর পেটের কথাগুলো কখন যে বায়বীয় আকারে পালিযে় গেছে, টেরই পাইনা!! কখনো আবার এমন হয় - মাথায় তীব্র গতিতে ভাবনাগুলো ছুটে চলছে। আর তার সাথে তাল মেলাতে না পেরে অসাড় হযে় আসে আঙুলগুলো, খোযা় যায় কিছু ধঁোযা়শায় জডা়নো শব্দের সারি। মাথার ভাষা অনুদিত হয়না আঙুলে।

আর এখন? পরিপূর্ণ শুন্যতা। অথচ কালও অনেক রাত পর্যন্ত ছটফট করেছি বিচিত্র ভাবনায় বিচিত্র বিষযে়। এতসব বিষয় ধরে রাখবো কোথায়? সকাল বেলাতেও অনেক কথা মাথায় ছিল। ব্লগ খুলে লিখতে গিযে়ই মস্তিস্ক অসাড়। নট নড়ন চড়ন। কিন্তু অন্যসময়ে কত রাজা উজির মারছি, পেরিযে় যাচ্ছি এক লহমায় আটলান্টিক, রবিন্সন ক্রুশো’র মত একাকীত্বে সংগ্রামী জীবন কাটাচ্ছি, জুলে ভার্ণের নায়কের মত নাইজারের বঁাকে ঘুরছি কিংবা রবীন্দ্রনাথের গানের ভাব নিচ্ছি আকাশ কুসুম চয়নে।

মনে আছে একবার সৌমেন বলে এক ছেলে আমরা যখন ক্লাস ৮ এ পডি়, তখন স্কুলের ম্যাগাজিনে কবিতা পাঠালো এবং যথারীতি তা ছাপা হওযা়র পর একদিন শান্ত সৌম্য চেহারার রক্ষিত স্যার তেডে় মেরে মুখটা টসটসে আপেলের মত করে ক্লাসে এসে সৌমেনকে দেখিযে় বললো এই তস্করটার জন্য আজ আমার মাথা হেট হলো বাবুদের কাছে। কিনা কবিতা লিখেছে সৌমেন - পুরোটাই রবীন্দ্রসঙ্গীত। স্যারের সেই রণমূর্তি আমি ভুলিনি। এরপর থেকে কিছু লিখতে চাইলেই মনে হতো কারো মতো হযে় যাচ্ছে না তো! হয়তো রক্ষিত স্যার ঘুমের মধ্যে ডেকে তুলে সবার সামনে বলবেন - দেখে রাখো এই ছেলেকে - ইনি স্বরচিত অমুকের লিখা লিখেছেন।

ওহ্!! আরেকটি স্কুলের ঘটনা মনে পডে় গেলো - তখন ক্লাস ৩ কি ৪ এ পডি়। ক্লাসের ছেলে কাজী সাইফুল্লাহ ছডা় লিখতে পছন্দ করতো। তার একটি ছডা়র নমুনা দিচ্ছি -
-------------------------
ক্রিকেট খেলতে ভারী মজা
ক্রিকেট কোথা পাই??
পরের কাছে ক্রিকেট খঁুজতে
ভারী লজ্জা পাই।
--------------------------
তার এ লেখা এখনো স্পষ্ট মনে আছে-হয়তো ছেলেবেলার প্রথম চমৎকৃত হওযা় বলে। সামনাসামনি কাউকে প্রথম কবি হিসাবে দেখা!! তখন ব্যাটের কথা না বলে ক্রিকেট কোথা পাই কেন লিখলো তাও আমি ভাবলাম না। এরপর একদিনের কথা - সেদিন রাশেদা টিচার তার খাতা খুলে কবিতা সবাইকে উপহাস করে পডি়যে় শোনালো - উনি কবিতা লিখেছেন! রবীন্দ্রনাথ হওয়ার সাধ হয়েছে!! সেদিনের সে লজ্জাবনত মুখ আমাকে ক্ষণিকের জন্য হাসালেও ভাবিয়েছে অনেক - আমিও যে চাইতাম লিখতে! অনেক বছর পর পিংক ফ্লোইডের “দ্য ওযা়ল“ গানটির ভিডিওতে দেখলাম তেমনি এক মাষ্টারমশাই এক ছাত্রের কবিতার উপহাস করছে। আহা!! কি অদ্ভুত!!! কি নির্মম!!!

যাকগে, ভাবছিলাম এতদিন পর লেখালেখির পুরানো ইচ্ছাটা চাগিযে় তুলবো কিনা - কি করা যায়? এক বন্ধুকে দেখালাম ড্রাফট লেখাগুলো। বন্ধু বললো সেদিন - তুমি বরং মন্তব্যেই থাকো। জাঁদরেল ব্লগারদের ভীডে় তোমার লেখা তো পাগলেও পড়বেনা। তাছাডা় তোমার লেখার তো হাত পা তো কিছুই নেই। চেযে় দ্যাখো ব্লগের ভালো লেখকরা কি সুন্দর কথার, গানের, লিখার সমুদ্রে সাতরাচ্ছে। খেলছে জীবন বাজি করে, ডাইভ দিচ্ছে সুবিশাল ঢেউযে়র মাথায় চডে়। তুমি বরং মন্তব্য করো কুশলাদি সংক্রান্ত। আর বড়জোর কাউকে নিযে় ঠাট্টা করতে পারো। কিন্তু নেখক?? সে তোমার কম্মো লয়। বুইজছো?? লোক হাসিয়োনা! তো বন্ধুর কথাটা আমি মনের মধ্যে অনেক নেডে় চেডে় দেখলাম। কথার মধ্যে সত্যতা আছে নিশ্চই। বড়ই দ্বিধায় পডে় গেলাম। কি ছিরিংখলা!!! তাই মনে মনে ভাবছি এবার স্বপ্নটাকে টেনে হিঁচড়ে ঝেড়ে ফেলে দেবো।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মে, ২০০৭ দুপুর ২:৪৩
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সময়ের ব্যবধানে তারা দুজন

লিখেছেন সামিয়া, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৩



কোর্টের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। দুপুরের রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে। মানুষের ভিড়, আইনজীবীদের কালো কোট, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ফাইল হাতে ছুটে চলা লোকজন মিলে জায়গাটা যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×