নির্মম প্রতীক্ষার শেষ না শুরু?
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
মাত্র ছয়মাস বয়সী শিশু সন্তান আর স্ত্রী সাফিয়া বেগমের অপেক্ষার পালা শেষ হলো। মা মরিয়মের কান্না আর বাবা আজেদ আলীর সন্তানকে ফিরে পাবার আশারও সলিল সমাধি হলো শেষাবধি। অপহরণের দীর্ঘ ৩২ দিন পর বৃহস্পতিবার রাঙামাটির বরকল উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের পাশে কাপ্তাই হ্রদে ভেসে থাকা রমজান আলীর লাশ পাওয়া গেলো। গায়ে কালো গেঞ্জি, পড়নে লুঙ্গি আর লাশের হাত বাঁধা।
সকালে লাশ পাওয়া গেলেও হ্রদের পানিতে দীর্ঘদিন থাকায় ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়া লাশটি চিনতে পারছিলোনা কেউই। অতঃপর সেই ক্ষতবিক্ষত লাশ নিয়ে আসা হলো রাঙামাটিতে। দূরের ভূষণছড়া থেকে অজানা আশঙ্কা বুকে নিয়ে রাঙামাটি এলো অপহৃতদের পাঁচটি পরিবারের সদস্যরা। তখনো কেউই জানেনা, কার জন্য অপেক্ষা করছিলো প্রিয় স্বজনের লাশ।
বিকেল সাড়ে চারটায় প্রতীক্ষার অবসান হলো। স্বজনের কান্না আর চিৎকারই জানান দিলো এই বিশাল বোঝা কার, কার স্বজন ফিরে এসেছে লাশ হয়ে, লাশ ঘরে। তবুও রমজান আলীর পিতা আজেদ আলী, স্ত্রী সাফিয়া বেগমের কান্না আর আর্তচিৎকারে ভারি হওয়া চারিপাশ অজানা আতঙ্কের স্রোত ছড়িয়ে দিয়েছে বাকী চারটি পরিবারের সদস্যদের মাঝেও।
পহেলা জানুয়ারি বরকল থেকে আসা প্রায় চার/পাঁচ হাজার সংক্ষুব্ধ মানুষের শ্লোগানের ভীড়েও যে সাফিয়ার কান্না ছুঁয়ে গেছে সবার হৃদয়, স্বামী হারা সেই রমণীর কান্না বৃহস্পতিবারের সাঁঝের বিকেলে ভূষণছড়া প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষগুলোকে কতটা ছুঁয়ে যাবে তার টের পাওয়া গেলো বিকেলে হাসপাতাল চত্বরেই। সেখানে উপস্থিত প্রায় শতাধিক নানা শ্রেণী পেশার মানুষ, যাদের কেউবা অপহৃতদের প্রতিবেশি, কেউবা সংবাদকর্মী, কেউ হাসপাতাল এলাকাবাসী, আর কেউ কেউ শুধুই উৎসুক জনতা। সবার চোখেই অশ্র“বিন্দু। এই কান্না, এই জল, এই অশ্র“ যেনো অপহরণ, নির্মম হত্যা আর কাপুরুষতার বিরুদ্ধে তীব্র ধিক্কার আর প্রতিবাদ।
তারপরও রমজান আলীর লাশতো পাওয়া গেছে, বাকীরা ? আজহার, ইউসুফ, জাহিদ, মোখলেস, জীবিত না মৃত ? বেঁচে আছেন নাকি নেই, এই প্রশ্নের উত্তর কার কাছে ? না, এই প্রশ্নের জবাব নেই কারো কাছেই। এখন বাকী চারটি পরিবারের প্রতীক্ষার পালা, স্বজনের ফিরে আসা, অথবা লাশের। এমন নির্মম সময় যেনো কারো জীবনেই না আসে।
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
নিউইয়র্কের ডায়েরী ২: এভাবেই জীবন কেটে যাচ্ছে জীবনের নিয়মে

লং আইল্যান্ডের একটি রাসবেরি ফার্মে গত সপ্তাহে
এক লোক একটা মাছি মারার জন্য পেপার গোল করে তাড়া করছে। মাছিটি উড়ে গিয়ে দেয়ালে বসল। লোকটা যেই মারতে যাবে, মাছিটি হাতজোড় করে... ...বাকিটুকু পড়ুন
হোমিওপ্যাথি হচ্ছে একটি ধাপ্পাবাজ কিবিরাজি চিকিৎসা পদ্ধতি এর বৈজ্ঞানিক কোন ভিত্তি নেই

হোমিওপ্যাথি যে একটি ভাঁতাবাজি চিকিৎসা পদ্ধতি তা আমি আগেও জানতাম কিন্তু আমি কখনো এর বিরুদ্ধে কথা বলিনি বা কোথাও কিছু লিখিনি- তবে আজ কি মনে করে চ্যাটজিপিটির কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ছোট গল্পঃ ভ্রম

চোখ বন্ধ করলেই আমি ধোঁয়া দেখি। ঘন, ধূসর ধোঁয়া। যেন কেউ ভেজা কাঠ জ্বালিয়েছে। তার সঙ্গে মিশে থাকে পোড়া কাপড়ের গন্ধ। কখনও মনে হয় প্লাস্টিক, কখনও মনে হয় পুরোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন
পাহাড় আমি ভালোবাসি
পাহাড় আমি ভালোবাসি
...........................................

চললাম তবে তোমার সাথে,
হাতটি রেখে হাত বাড়াতে।
পিছুটানের বাঁধন ছিঁড়ে,
হারাবো ওই মেঘের ভিড়ে।
পাহাড় চূড়ায় রোদের হাসি,
শুনছো ! তোমায় ভালোবাসি।
চলবে নদী আপন বেগে,
নতুন কোনো আশার মেঘে।
ইচ্ছেগুলো পাক না ডানা,
আজকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ সম্পদ কি?

এই মুহুর্তে আমি গাজীপুর যাচ্ছি।
সময় সকাল দশটা। রবিবার। রাস্তায় জ্যাম যেতে অনেক সময় লাগবে। লাগুক। সমস্যা নেই, হাতে অনেক সময় আছে। আজ আমার কোনো কাজ নেই। বউ বাচ্চা বাসায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।